ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Considerations of Selecting Investment Portfolio ]

ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহঃ ব্যাংকের বিনিয়োগ কর্মকর্তা ইচছা করলেই যে কোন ঋণপত্র যে কোন পরিমাণের ক্রয় করা উচিৎ কী না ? এ প্রশ্নের জবাবে উত্তর হচ্ছে বিনিয়োগ কর্মকর্তার ব্যাংকের ক্ষতি হয় এমন বিনিয়োগ পোর্টফলিও ক্রয় করা উচিৎ নয়। আবার প্রশ্ন হচেছ ভালো লাভের সম্ভাবনা থাকলেও বিনিয়োগ কর্মকর্তা লাভও নয় ক্ষতিও নয় বা সামান্য লাভ এমন ঋণপত্র ক্রয় করা ঠিক হবে কি ? উত্তর হচেছ উত্তম লাভের সম্ভাবনা থাকলে বিনিয়োগ কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে সম্ভাবনাময় লাভ হতে ব্যাংক বঞ্চিত হওয়ার জন্য বিনিয়োগ কর্মকর্তাই দায়ী থাকবেন।

ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Considerations of Selecting Investment Portfolio ]

Table of Contents

ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Considerations of Selecting Investment Portfolio ]

এরূপ বহুবিধ প্রশ্নের মধ্যে আবর্তিত হয়ে সুক্ষ্ণ বিবেচনা প্রয়োগ করে সঠিক বিনিয়োগ চিহ্নিত করা যে কোন বিশ্বস্ত বিনিয়োগ কর্মকর্তার অবশ্য করণীয় বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে সাধারণত যে যে বিষয় সমূহ বিবেচনা করে ব্যাংকের সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে বিনিয়োগ পোর্টফলিও নির্বাচন করতে হয় তা সাধারণত দু’প্রকারঃ

নিম্নে দু’ধরনের বিবেচ্য উপাদানসমূহ দেখা যেতে পারে :

ক. সাধারণ বিবেচ্য উপাদানসমূহ (General Factors to be Considered)

খ. ঝুঁকি বিবেচ্য উপাদানসমূহ – (Risk Factors to be Considered)

ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ

সাধারণ বিবেচ্য উপাদানসমূহঝুঁকি বিবেচ্য উপাদানসমূহ
প্রত্যাশিত মুনাফার হারসুখের হার ঝুঁকি
কর প্রভাবপরিশোধ ঝুঁকি
জামানত যোগ্যতাব্যবসায় ঝুঁকি
ঋণপত্রের গুণগত মর্যাদাতারল্য ঝুঁকি
মেয়াদ পূর্ণতামুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি
পূজিঁ পর্যাপ্ততাআকস্মিক অবসায়ন ঝুঁকি
বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের পরিমাণ
বাজারযোগ্যতা
মুদ্রা ও পুঁজি বাজারের কাঠামো
মোট ঋণের পরিমাণ
আমানতের স্থিতিশীলতা

ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Considerations of Selecting Investment Portfolio ]

ক. সাধারণ বিবেচ্য উপাদানসমূহ (General Factors to be Considered)

ব্যাংকের বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে পোর্টফলিও নির্ধারণ করার সময় যে সমস্ত সাধারণ বিশ্বে বিচেনা করতে হয়, তার প্রত্যেকটির প পরিচিতি দেওয়া গেল:

১. প্রত্যাশিত মুনাফার হার (Expected Rate of Return)

ব্যাংকের মুনাফা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাম্য বিনিয়োগ অর্জন কর্মকর্ষ কে সবাগ্রে বিবেচনা করতে হবে।

২. কর প্রভাব-(Tax Influence)

উপরে বিভিন্ন ধরণের ক্ষণপত্রের কর প্রস্তাব বিভিন্নরূপ। আয়ের স্তর দেশে যেহেতু করের হর নির্ধারিত হয়ে থাকে সেহেতু কর দায় নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ব্যাংক বিভিন্ন রকমের কর সুবিধা যোগ্য পত্রের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে থাকে।

৩. জামানত যোগ্যতা-(Eligibility of Collateral)

সব ধরনের ক্ষণপত্র তথা বিনিয়োগের আমানত হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা এক রকম নয়। সুতরাং পোর্টফলিও নির্বাচন কালে বিনিয়োগ কর্মকর্তা ব্যাপক জামানত যোগ্যতা আছে এমন ক্ষণপত্র চিহ্নিত করা ব্যাংকের জন অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক।

৪. ঋণপত্রের গুণগত মর্যাদা – ( Qualification Standard of Debenture)

ঋণপত্র বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যথা উত্তর মর্যদাস AAA AA A মধ্যম মর্যাদাসম্পন্ন BBB BB B নিম্ন মানসম্পন্ন CCC CCC ইতাদি। পোর্টফলি নির্বাচনকালে আয় সম্ভাবনা জামানত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়ের সাথে বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে অবশ্যই কলপত্রের জাপার মনে বিচার করতে হবে।

৫. মেয়াদ পূর্ণতা-(Maturity)

তহবিলের অবস্থা, তারল্যের পূর্বাভাস ও সুদ আয়ের সম্ভাবনা ইত্যাদি চিন্তা করে বিনিয়োগ কর্মকর্ত বিনিয়োগ তথা ঋণপত্ৰ মেয়াদ ঠিক করবেন। অন্যথায় ক্ষুদ্র আয়ের জন্য ব্যাংক তারল্য সংকটের সম্মুখীন হওয়া বিচিত্র নয়।

৬. পূজিঁ পর্যাপ্ততা-(Adequacy of Capital) :

পূর্জির পর্যাপ্ততা চিন্তা করে ঋণ ও বিনিয়োগ দু’টিরই সর্বোচচ সীমা নির্ধারণ করা বাক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশিত। পুঁজি কম, ফল বেশী হতে পারে কিন্তু উচচ মর্যাদা সম্পন্ন অথচ কম আয়ের বেশী বেশী ঋণপত্রে বিনিমে করে এরূপ অবস্থা সামাল দিতে হয়।

ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Considerations of Selecting Investment Portfolio ]

৭. বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের পরিমাণ-Amount of Investable Fund)

রিজার্ভ ও তারল্য সংরক্ষণ শেষে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল নিরপিত হয়ে থাকে। এরূপ তহবিল পরিমাণের প্রতি দৃষ্টি রেখে বিনিয়োগ পোর্টফলিও নির্বাচন করা আবশ্যক। কারণ স্বল্প সংখ্যক ঋণপত্রে বিনিয়োগ ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম। অতএব বিনিয়োগযোগ্য তহবিল বিবেচনায় রেখেই বিনিয়োগ কর্মকর্তা পোর্টফলিও নির্বাচনে উদ্যোগী হয়।

৮. বাজারযোগ্যতা-(Marketability)

মুদ্রা বাজার তথা পুঁজি বাজারের সব সময় সব ধরণের ক্ষণপত্রের চাহিদা একই রূপ থাকে না। তবে কিছু কিছু ঋণপত্র প্রায় সবসময়ই বিনিয়োগকারীদের দ্বারা আকর্ষিত হয়ে থাকে। ব্যাংকের বিনিয়োগ কর্মকর্তা অবশ্যই লাভের হয় কম হলে কলপত্র নির্বাচন কালে সবসময় ক্রয়-বিক্রয় সম্ভব এরূপ ঋণপত্র নির্বাচন করে থাকেন।

৯. মুদ্রা ও পুঁজি বাজারের কাঠামো (Structure of the Money and Capital Market)

বিনিয়োগযোগ্য তহবিল বেশী হলেও অসংগঠিত ও অনুন্নত মুদ্রা ও পূজিঁ বাজারে ঋণপত্র লেনদেন করা দুষ্কর। তবে বাজার উন্নতির ধাপ বিবেচনা করে একজন ব্যাংক বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে বিনিয়োগ যোগ্য তহবিল ব্যবহার তথা ঋণপত্র নির্বাচন করা আবশ্যক।

১০. মোট ঋণের পরিমাণ-(Total Credit Amount)

প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ ও ভারযুক্ত ঝুঁকি সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগের পরিমাণ তথা করা আবশ্যক। প্রদত্ত ঋণের ভারযুক্ত ঝুঁকি আছে এমন ক্ষণের পরিমাণ যত বেশী হবে উচচ মহা সম্পন্ন ক্ষণপত্রে বিনিয়োগ করার আবশ্যকতা ততবেশী হবে। অন্যথায় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে তাদের নির্দেশনা মেনে করে দায়ে নারী হবে এবং কমপক্ষে সর্তকতার নোটিশ পেতে পারে।

১১. আমানতের স্থিতিশীলতা – (Stability of Deposit)

আমানত ব্যাংকের দায় কিন্তু স্থিতিশীল আমানত সংবেদনশীল আ চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকি পূর্ণ। আমানতের পরিমাণ যত বেশী হবে উচ্চচ লাভের সম্ভাবনাও তত বেশী হবে, তবে এটি ঝুঁকি পূর্ণ, এরূপ বিনিয়োগে ব্যাংক তত বেশী আগ্রহী হতে পারে না।

ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Considerations of Selecting Investment Portfolio ]

খ. ঝুঁকি বিবেচ্য উপাদানসমূহ – (Risk Factors to be Considered

নিম্নে ঝুঁকি বিশ্বের উপাদানসমূহের স্বল্প বিস্তর আলোচনা করা গেল

১. সুখের হার ঝুঁকি – (Risk of Rate of Return)

একজন বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে পোর্টফলিও নির্ধারণ কালে পত্রের সুদের হারের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখতে হয় অর্থাৎ কোন ক্ষণপত্রে কত পরিমাণ সুদ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং তাতে বিনিয়োজিত তহবিল ব্যবহার ঝুঁকির পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। সুদের হার হ্রাস-বৃদ্ধির উপর লাভ-লোকসান নির্ভর করে। পোর্টফলিও নিবার্চন কালে কোন ক্ষণপত্রে সুদের হার কত পরিমাণ হ্রাস বৃদ্ধি হতে পারে সেটা বিবেচনায় আনতে হবে।

২. পরিশোধ ঝুঁকি (Repayment Risk):

ব্যাকে নিপে কর্তৃপক্ষসমূহ বিনিয়োজিত অর্থ ফেরৎ আসার নিশ্চয়তা বিধান কল্পে নানারূপ বিধি বিধান তথা নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। ব্যাংক বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে পোর্টফলিও করা আবশ্যক।

৩. ব্যবসায় ঝুঁকি (Business Risk)

অর্থনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও ব্যবসায়ীক মন্দা ঋণপত্র বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন খরচ ও বিক্রয় প্রভৃতি নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করে থাকে। এর ফলে ঋণপত্র বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন পত্র অবসায়নকালে পরিশোষ ক্ষমতা হ্রাস পায়। ব্যাংকের বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে অবশ্যই পোর্টফলিও নির্বাচনকালে এরূপ ব্যবসায়ীক ঝুঁকির সম্ভাবনা ঋণপত্র বিক্রেতার কতটুকু আছে তা খতিয়ে দেখা আবশ্যক।

৪. তারল্য ঝুঁকি – (Liquidity Risk ):

ব্যাংকের সময় সময় তারল্যের প্রয়োজনে বিনিয়োগ তারল্যে রূপান্তর করতে হয়। সহজে রূপান্তর চোখ বিনিয়োগ তথা ঋণপত্র ক্রয় সুপারিশযোগ্য।

৫.মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি – (Risk of Inflation)

কোন দেশে অথবা কোন নির্দিষ্ট সময়ে মুদ্রাক্ষীতি আশংকাজনক পর্যায়ে বৃদ্ধি পেতে পাবে। মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনার হার বেশী থাকলে বিনিয়োগ আয় ( সুদ ও মূল বিনিয়োগ) যখন মেয়াদ পূর্ণকালে ফেরৎ পাওয়া যায় তখন এসবের প্রকৃত মূল্য কমে যায় ব্যাংকের বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে মুদ্রাস্ফীতিজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এনে ক্ষণপত্র বিশ্লেষণ করতে হয়।

৬. আকস্মিক অবসায়ন ঝুঁকি (Risk of Sudden Termination)

অনেক সময় মূল ঋণপত্র বিক্রেতা মেয়াদপূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তাদের নিজস্ব আর্থিক স্বচ্ছলতা অথবা অন্য কোন কারণে তাদের ইতিপূর্বে বিক্রয় করা ঋণপত্র অগ্রাধিকার শেয়ার বন্ড ইত্যাদি অবসারন ইচবুক হয়ে থাকে । এগুলো ক্রয়কারী ব্যাংক মুনাফা বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতএব যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের এরূপ ঝুঁকির ইতিহাস আছে তা দেখেশুনে ঋণপত্র নির্বাচন করা উচিৎ।

আরও দেখুনঃ

“ঋণপত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Considerations of Selecting Investment Portfolio ]”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন