সমস্যাগ্রস্থ/দূর্দশাগ্রস্থ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গৃহীতব্য পদক্ষেপ [ Handling Problem/Distressed Loans ]

সমস্যাগ্রস্থ/দূর্দশাগ্রস্থ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গৃহীতব্য পদক্ষেপঃ ইতপূর্বে আমরা ইঙ্গিত করেছি যে, সমস্যাগ্রস্থ ঋণ দু’প্রকারের হতে পারে যথা : ইচ্ছাকৃত সমস্যাগ্রস্থতা ও অনিচ্ছাকৃত সমস্যাগ্রস্থতা। ঋণ গ্রহীতার ইচ্ছাকৃত তথা পরিকল্পিত সমস্যাগ্রস্থতা প্রমাণ সম্ভব হলে আইনগত প্রতিকার গ্রহণই একমাত্র বিকল্প থাকে। কিন্তু ব্যাংক এর তথা মক্কেলের ত্রুটির কারণে অথবা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে এমন কারণের ফলে সমস্যাগ্রস্থতা বা দুর্দশাগ্রস্থতা পরিগ্রহ করলে প্রতিরোধ অথবা প্রতিকারের মাধ্যমে সমস্যা গ্রস্থতা সম্পূর্ণ সাজিয়ে তোলা না গেলেও ত্রুটির অধিকতর পতন ঠেকানো সম্ভব। ঋণ মক্কেল সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে ব্যাংকের সাথে একত্রে উদ্যোগ নিলে সমস্যাগ্রস্থতা প্রতিকার করা সহজতর হয়। অপর পৃষ্ঠার চিত্রে সমস্যাগ্রস্থ ব্যাংক ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের করণীয় বিষয়সমূহ দেখা যেতে পারে।

সমস্যাগ্রস্থ/দূর্দশাগ্রস্থ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গৃহীতব্য পদক্ষেপ [ Handling Problem/Distressed Loans ]

সমস্যাগ্রস্থ/দূর্দশাগ্রস্থ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গৃহীতব্য পদক্ষেপ [ Handling Problem/Distressed Loans ]

১। আদালতের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ

  • সাধারণ ভাবে ঋণ আদায়
  • ব্যবসায়ের বিলোপ সাধনের মাধ্যমে ঋণ আদায়

২। ব্যাংকের নিজস্ব পদক্ষেপ

  • প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ
  • প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ

আদলতের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ-(Taking Legal Action through the Court)

ঋণ সমস্যাগ্রস্থতা পরি করলে অন্য কোন গ্রহণযোগ্য প্রতিকার সম্ভব না হলে ব্যাংক আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। আইনগত পদক্ষেপ দু’ভাবে নেওয়া যেতে পারে। যথা :

(১) সাধারণ ভাবে ঋণ আদায় – General Recovery Suit :

যখন ঋণগ্রহীতা ব্যবসায়ী ঋণপরিশোধ করে না কিন্তু ব্যবসায়ের পরিশোধ করার ক্ষমতা আছে। এমতাবস্থায় পারষ্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঋণ আবার সম্ভব না হলে ব্যাংক মোকদ্দমার মাধ্যমে মামলার খরচসহ প্রাপ্য ঋণ আদায় করে থাকে। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান মামলার রায় অনুযায়ী প্রদেয় টাকা পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব অস্তিত্বকে ব্যবসায়ে টিকে থাকে।

(২) ব্যবসায়ের বিলোপ সাধনের মাধ্যমে ঋণ আদায় (Recovery Suit by Liquidation) :

এক্ষেত্রে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি সত্যিকারভাবে ঋণ পরিশোধে অক্ষম। ইচ্ছাকৃত নয় অর্থাৎ ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠা এতবেশী সমস্যাগ্রস্থ হয়েছে যে তার নীট সম্পত্তি পাওনাদারদের দাবীর চেয়ে কম। এমতাবস্থায় ব্যাংক অন্যান্য পাওনাদারদের সাথে একত্র হয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রাপ্য ঋণ আদায় করতে উদ্যোগ নেব। এমতাবস্থায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য শোনার পর এবং সম্পত্তি ও দেনা পাওনার হিসাব পর্যবেক্ষণ করে আদালত এরূপ প্রতিষ্ঠান বিলোপ সাধনের আদেশ দেয়।

এক্ষেত্রে আদালত একজন অবসায়ক বা Receiver নিয়োগ করে থাকে। এই অবসায়ক দুদশাগ্রস্থ ব্যবসার প্রতিষ্ঠানটির তথা কোম্পানীর সম্পত্তি বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সকল পাওনাদারদের মধ্যে প্রাপ্যতার অনুপাতে বণ্টন করে দেয়। উল্লেখ্য যে, যেহেতু সম্পত্তি দেনার চেয়ে কম সেহেতু ব্যাংক একজন পাওনাদার হিসেবে মক্কেল কর্তৃক খেলাপীকৃত ঋণের একটি অংশই আদালতের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। ব্যতিক্রম যে হয় না। তা নয়, তবে ব্যতিক্রমের নজির অনেক কম।

সমস্যাগ্রস্থ/দূর্দশাগ্রস্থ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গৃহীতব্য পদক্ষেপ [ Handling Problem/Distressed Loans ]

ব্যাংকের নিজস্ব পদক্ষেপ (Banks own Steps in Relation to Problem Loans) :

সমস্যাগ্রস্থ ঋণ সম্পর্কে ঋণ দাতা ব্যাংক সাধারণত যে দু’টি পদক্ষেপ নিতে পারেঃ- (ক) প্রতিরোধ মূলক পদক্ষেপ – Preventive Steps ব্যাংকের সমস্যাগ্রস্থ ঋণ কেন হয় এর কারণ চিহ্নিত করে এরূপ কারণ সংগঠিত না হওয়ার যথাযথ প্রচেষ্টা নিবেদনকে প্রতিরোধক পদক্ষেপ বলা যেতে পারে।

প্রতিরোধক পদক্ষেপও দু’রকম হতে পারে। (১) সাধারণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এবং (২) নির্দিষ্ট সমস্যাগ্র ক্ষণের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ। সাধারণ প্রতিরোধক ব্যবস্থ। যে কোন ঋণ গ্রহীতার ঋণ আবেদন থেকেই শুরু হয় এবং সতর্কতার সহিত এ ব্যবস্থা প্রতিটি ক্ষণ মক্কেলের জন্য ঋণ পরিশোধ কাল পর্যন্ত বহাল থাকে।

নির্দিষ্ট সমস্যাগ্রস্থ ঋণের পদক্ষেপ সাধারণ প্রতিরোধক ব্যবস্থার অতিরিক্ত। সাধারণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা সত্ত্বেও কোন ঋণ গ্রহীতা স্বাভাবিক গতিধারা ক্ষুণ্ণ করে এরূপ সমস্যাগ্রস্ততার ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হলে ঐ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিশেষ প্রতিরোধক সতর্কতা অবলম্বন করা হয়ে থাকে। যা হোক সমস্যাগ্রস্থতা পরিগ্রহ না করার জন্য ব্যাংক সাধারনত যে প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে তার প্রধান কয়েকটি নিম্নরূপ :

(ক) প্রতিরোধ মূলক পদক্ষেপ – Preventive Steps

(১) আলোচনা ও পরামর্শ – (Discussion and Advice) :

ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ান্তে ঋণ মকেল কে আলোচনার জন্য ডাকে অথবা ব্যাংকের ঋণ তদারককারীগণ মকেলের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ঋণ মক্কেলের সাথে নিয়মিত সাক্ষাৎ করে। এরূপ সাক্ষাতে আলোচনা শেষে কোন সমস্যা সনাক্ত হলে তা নিরসন কল্পে ব্যাংক ঋণ মক্কেলকে উপযুক্ত পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে থাকে।

(২) নতুন ঋণ সংস্থान ( Arrangement of New Loan) :

ব্যাংকের দৃষ্টিতে অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা মক্কেলের লাভজনকতা তথা ঋণ পরিশোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে হলে ব্যাংক অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে।

(৩) অতিরিক্ত জামানত- (Additional Collateral) :

ব্যাংক ঋণ বিতরণ করার পর যদি দেখতে পায় তাড়াহুড়ো বা যে কোন কারণে জামানতের বাজার মূল্য ঋণ মেয়াদ শেষে প্রদেয় ক্ষণ মূল্যের চেয়ে কম হবে। তাহলে ব্যাংক ঋণ গ্রহীতা মক্কেলকে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে আরও অতিরিক্ত জামানত প্রদানের জন্য আহবান জানিয়ে থাকে।

(8) মজুদ মাল নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ- (Advice for Inventory Control)

মজুদ মালের সিংহভাগ হয় কাঁচামাল না হয় উৎপাদিত পণ্যে থাকে। মজুদ মাল বিরাট অংকের হলে ঋণ মর্কেলের অনেক টাকা অসংগতভাবে আটকা পড়ে থাকে। তাই ব্যাংক সময়মত কাঁচামাল যুক্তিযুক্ত পরিমাণে ক্রয় করার ও বাজার ভিত্তিক চাহিদা মোতাবেক উৎপাদন করার পরামর্শ দিয়ে বিরাট অংকের টাকা মজুদমালে অলসভাবে রাখা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

সমস্যাগ্রস্থ/দূর্দশাগ্রস্থ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গৃহীতব্য পদক্ষেপ [ Handling Problem/Distressed Loans ]

(৫) ঋণ কর্মকর্তার জবাবদিহিতা- (Accountability of the Loan Officer) :

প্রত্যেকটির ঋণ কর্মকর্তা/ঋণ কর্মপন্থা | Loan Policy) অনুযায়ী তার কার্য সম্পাদন করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত হবে। একটি ঋণ সম্পর্কে যা যা করণীয় ছিল তা করেছে কিনা তা উদ্ধর্তন কর্মকর্তা খতিয়ে দেখবেন।। এতে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি অনেকটা কমে যাবে।

(৬) সীমা ভিত্তিক ঋণ- (Limit Based Loan)

ব্যাংকের ঋণ কর্মপন্থা অনুযায়ী একটি ঋণের বা এক ধরণের ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত থাকে। অতিশয় যুক্তি যুক্ত না থাকলে এরূপ সীমা অতিক্রম পরিহার করা বাঞ্চনীয়।

(৭) পরিচালকদের ঋণ প্রদান নিরুৎসাহিত করা (Discouraging Loan to Directors) :

ঋগ কর্মপন্থায় অনুমোদিত নিয়ম না থাকলে ব্যাংকের পরিচালক তথা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ঋণ প্রদান না করাই বাঞ্ছনীয়।

(৮) পর্যাপ্ত ঋণ বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে ঋণ প্রদান না করা (Not Making Loan Without Proper Credit Analysis) :

ক্ষণ বিশ্লেষণের ভিত্তি ও যাপ সমূহ বিশ্বস্তার সাথে অনুসরণ না করে ঋণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা তথা ঋণ মঞ্জুর করা অনুচিত।.

(৯) ক্ষণ সম্পর্কিত পর্যাপ্ত দলিল সংরক্ষণ (Collection and Preservation of all the Documente Related to the Loan)

কার্যক্রম বাস্তব পর্যায়ে পরিগ্রহ করার পূর্বেই ঋণ তথা আমানত সম্পর্কিত সব প্রকার দলিলিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়া । অন্যথায় কালান্তরে সুযোগ বুঝে ঋ ব্যাংকের কাছে প্রদত্ত অধীকার ভঙ্গ করলে বা তা অনুসরণে অনীহা প্রকাশ করলে ব্যাংক আইনগত ব্যবস্থা মহলে খুঢ়তা দেখতে পারে না বরং ন্যূনপক্ষে সতর্কতা দেখাতে পারে।

(১০) ক্ষণ তদারকি ও পুনঃরীক্ষণ- (Loan Supervision and Review) :

নির্দিষ্ট সময়ান্তে নিয়মিত এবং কোন কোন সময় অবহিত না করে হঠাৎ করে ঋণ গ্রহীতার অফিস পরিদর্শন বা নিয়মিত পুনরীক্ষণের নজির স্থাপন করলে ঋণ গ্রহীতার পক্ষ থেকে ঋণ সম্পর্কে অনাকাংশিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

(১১) ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরামর্শ ও সতর্কতার প্রয়োগ (Application of Warning or advice of the Regulatory Agencies) :

ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নমুনা সংখ্যক ব্যাংকের শাখা তথা ক্ষণ স সময় পর্যবেক্ষণ করে চলতি ঋণ সমূহের ত্রুটি চিহ্নিত করার প্রয়াস পায় কর্তপক্ষের প্রদত্ত এরূপ পরামর্শ সতকর্তা অগ্রাহ্য না করে গুরুত্বের সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে চিহ্নিত ঋদসমূহের অধিকতর অবনতি ঠেকানো সম্ভব।

(১২) সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance of Properties) :

কর্মচারী/কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার মূল্যবোধ সমাদৃত করার সক্রিয় প্রয়াস চালাতে হবে। চুরি, ডাকাতী জালিয়াতী ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবসায়ের সম্পত্তি কর্মচারী/কর্মকর্তাবৃন্দ কর্তৃক নষ্ট না হওয়ার দিকে প্রয়োজনীয় সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে।

(১৩) ক্ষণ স্থানান্তর রোধকরণ (Restrict Diversion of Loans)

প্রায় অসাধু প্রার্থীত উদ্দেশ্যে ঋণ প্রয়োগ না করে ব্যক্তিগত ভোগ বিলাস তথা কম ঝুঁকিপূর্ণ বেশি লাভজনক আর্থিক ক্রিয়াকলাপে ব্যবহার করে থাকে। এরূপ অনিয়ম কঠিন হস্তে রোধ করতে পারলে ঋণের সমস্যাগ্রস্থতার হার অনেকাংশে কমে যাবে।

(খ) প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ- (Curative Steps ) :

ঋণ সমস্যাগ্রস্থতা নিরসন কল্পে প্রযুক্ত প্রতিকার ব্যবস্থা সত্ত্বেও ঋণ সমস্যা গ্রস্থ হয়ে পড়ার নজির কম নয়। এমতাবস্থায় ক্ষণ সমস্যাগ্রস্থ হয়ে পড়লে ঋণ দাতা ব্যাংক এবং ঋণ গ্রহীতা মক্কেল সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এক সংগে কাজ করলে সমস্যাগ্রস্থ ঋণ সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুব কঠিন নয়। সমস্যাগ্রস্থ প্রতিবিধান কল্পে ঋণ ও ব্যাংকভেদে পদক্ষেপ ভিন্নতর হওয়া স্বাভাবিক। তথাপিও সাধারণত সমস্যাগ্রস্থ ক সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ঋণগ্রহীতার ব্যবসায় আর্থিক শৃঙ্খলা কঠোর ভাবে প্রযুক্ত হতে হয়। যাহোক নিম্নে ঋণের সমস্যাগ্রস্থতা ও দুর্দশাগ্রস্থতার প্রতিকারমূলক নির্বাচিত পদক্ষেপগুলো স্বল্পাকারে আলোচনা করা গেল।

সমস্যাগ্রস্থ/দূর্দশাগ্রস্থ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গৃহীতব্য পদক্ষেপ [ Handling Problem/Distressed Loans ]

(১) পুঁজি কাঠামোর সমন্বয় সাধন – (Adjusting Financing Structure) :

অর্থায়ন কাঠামো বিশ্লেষণ করে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নির্ভরতা পরিলক্ষিত হলে নতুন মালিকী পুঁজি সংস্থানের মাধ্যমে অর্থায়ন কাঠামো সমন্বিত করলে ঋণ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও তারল্যের উন্নয়ন সম্ভব।

(২) অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা- (Additional Loan Facilities) :

কাংখিত পর্যায়ে ব্যবসায়ের ক্ষমতা উন্নীত করলে যদি ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকে তবে অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা প্রধান করে ব্যাংক ঋণগ্রস্ত মক্কেলের সাময়িক আর্থিক দুর্গতি নিরাময় করতে পারে। এতে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ঋণগ্রহীতা সক্ষম হবে এবং ব্যাংকও সমস্যাগ্রস্থ ঋণ আদায়ে সফল হবে।

(৩) ঋণ পরিশোধ সারণী পরিবর্তন Change of Repayment Schedule of Loan 

সমস্যা গ্রহীতা তার বর্তমান মগদান অর্থ প্রবাহের নিরিখে ঋণ পরিশোধ করতে অপারগ হতে পারে। এরূপ অবস্থায় পূর্ণশাগ্রস্থ ঋণ মক্কেলের অর্থ প্রবাহের ধারার প্রতি অনুকূল সৃষ্টি রেখে পরিশোধ সারণী পরিবর্তন করলে প্রায়ণ অনেক দুর্দশাগ্রস্থ ঋণ গ্রহীতাই ঋণ পরিশোধে সামর্থ্য হয়।

(৪) গুণ হস্তান্তর প্রতিকারকরণ- (Correction of Loan Diversion) :

অনুসন্ধান করে যদি দেখতে পাওয়া যায় যে সমস্যাগ্রস্থ ঋণ গ্রহীতার এরূপ নেতিবাচক অবস্থার মূলকারণ ব্যবসায়ীক খাতে গৃহীত ব্যবহার না করে অনুৎপাদনশীল খাতে গৃহীত ঋণের অর্থ স্থানান্তর ও ব্যবহার করা হয়েছে। এরাপ অবস্থা পরিদৃষ্ট হলে ব্যাংক ঋণ মক্কেলকে স্থানান্তরিত ঋণ ব্যবসায়ীক কাজে পুনঃ স্থানান্তরে বাধ্য করে মক্কেলের অবস্থা উন্নতি করার প্রয়াস চালাতে পারে।

(৫) বকেয়া কিন্তুি তথা সুদ মাফ অথবা স্থগিত করণ- Exemption or deferment of Due Installments and Interests Payment) :

অনেক সময় সমস্যাগ্রস্থ ঋগ মকেলের কিস্তি ও সুদ প্রদান স্থগিত করে অথবা এরূপ দেয় টাকা সম্পূর্ণ মাফ করে দিয়েও সমস্যাগ্রস্থ সৎ ও সম্ভাবনাশীল অ গ্রহীতাদিগকে সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে। দেখা গেছে এরূপ সহায়তা প্রাপ্ত দুদশাগ্রস্থ পরবর্তীতে বিশ্বস্ততার সাথে ঋণ পরিশোধ করে ব্যাংকের দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ মক্কেলে পরিগণিত হয়েছে।

(৬) গ্রস্থ মকেলের উপরি খরচ কাটছাট করা (Rationalisation of Clients’s Overhead Expenses) :

অনেক সময় দেখা যায় যে, অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় মাথাভারী উপরি খরচে ঋণ গ্রহীতা চাপলী । এহেন অবস্থা নিরসন কল্পে ব্যাংক দুর্দশাগ্রস্থ ঋণ মক্কেলকে অনুৎপাদনশীল ও অপ্রয়োজনীয় কর্মচারী ছাটাই সহ কোন কোন বিলাস বহুল খরচ কমিয়ে আনতে পরামর্শ দিতে পারে। আর এরূপ পদক্ষেপ প্রয়োগ করলে ঋণ গ্রহীতার তারল্য অবস্থার উন্নতি হবে, লাভ বৃদ্ধি পাবে এবং মকেল ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবে।

(৭) একত্রীকরণ পরামর্শ- (Advise to Merge) :

অনেক সময় দেখা যায় যে একই প্রক্রিয়ার ব্যবসায়ে নিয়োজিত দুর্বল তথা সমস্যাগ্রস্থ ইউনিটসমূহ তদ্রূপে বড় একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সংগে একত্রিত হলে প্রশাসনিক তথা উৎপাদন খরচ অনেক কমে যায় এবং লাভজনকতা বেড়ে যায়। অতএব পূর্ণগঠিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের দেনা পরিশোধ ছাড়াও অন্যবিধ ধার দেনা পরিশোধে সক্ষম হয়।

সমস্যাগ্রস্থ/দূর্দশাগ্রস্থ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গৃহীতব্য পদক্ষেপ [ Handling Problem/Distressed Loans ]

(৮) আধুনিকায়ন ও বিস্তৃতিকরণ পরিকল্পনা আপাত: স্থগিতের পরামর্শ (Advice to Temporarily Defer Modernization and Expansion Plan) :

অনেক সময়ই দেখা যায় যে ভালভাবে লাভ অর্থ স্বচছল প্রতিষ্ঠানও অসময়ে আধুনিকায়ন ও বিস্তৃ তিকরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অর্থ সংকটে নিপতিত হয়ে থাকে। কোন ঋণ মক্কেল এরূপ অবস্থায় পড়লে মক্কেলকে সামরিক ভাবে আধুনিকায়ন ও বিস্তৃ তিকরণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখে আর্থিক অবস্থা উন্নত করার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। আর এরূপ পরিকল্পনা স্থগিতের ফলে তারলা পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং ব্যাংক মক্কেলের নিকট থেকে ঋণ আদায়ে সক্ষম হবে।

(৯) ঋণগ্রহীতার ধারণীতি পরিবর্তনের পরামর্শ – Advice to change credit policy of the firm )

একজন ব্যবসায়ী সাধারণত বাকীতে কাঁচামাল সহ আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে থাকে। আবার উৎপাদিত পণ্য বাকীতে এজেন্ট অথবা পাইকারদের কাছে বিক্রয় করে। প্রাপ্ত যার সুবিধার মেয়াদ প্রদত্ত ধার সুবিধার মেয়াদের চেয়ে অনেক কম হলে মক্কেলের তারল্য সংকট হওয়া বিচিত্র নয়। এমতাবস্থায় ব্যাংক প্রাপ্ত ধারে করের সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর এবং প্রদত্ত ধারে বিক্রয়ের সুবিধার মেয়াদ কমানোর পরামর্শ দিতে পারে। ধারে ক্রয়-বিক্রয়ের মেয়াদ সুবিধা মক্কেলের অনুকূলে পরিবর্তন দুর্দশাগ্রস্থ ঋণ মক্কেলের অর্থাগমন পরিস্থিতি উন্নতর করবে এবং মক্কেল ব্যাংকের দেয় ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন