ব্যাংক ঋণের মূল্য নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Consideration of Loans Pricing ]

ব্যাংক ঋণের মূল্য নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়সমূহঃ ব্যাংককে ঋণ মূল্য নির্ধারণ কালে নানাবিধ বিষয় বিবেচনা করতে হয়। এরূপ নির্ধারক সমূহকে বোঝার সুবিধার্তে মূলত দুভাবে বিভক্ত করে দেখা যেতে পারে। যথা :

(ক) আভ্যন্তরীণ বিবেচ্য বিষয় সমূহ ও

(খ) বহিঃ বিবেচ্য বিষয় সমূহ

ব্যাংক ঋণের মূল্য নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Consideration of Loans Pricing ]

Table of Contents

ব্যাংক ঋণের মূল্য নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Consideration of Loans Pricing ]

নিম্নে বিষয় দুটিকে অবলোকন করা যেতে পারে :

ক. আভ্যন্তরীণ বিষয় সমূহ খ. বহিঃ বিষয় সমূহ
১. ঋণ যোগ্য তহবিলের সরবরাহের পরিমাণ ১.সরকার তথা ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা।
২. ব্যাংক তহবিল খরচ। ২. প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ শক্তি ।
৩. প্রশাসনিক ও লেনদেন খরচ । ৩. প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণ প্রকৃতি।
৪ উপরি খরচ।  ৪. সুদের হার হ্রাস বৃদ্ধি জনিত ঝুঁকির সম্ভাবনা
৫. ঋণ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ খরচ । ৫. ফল পত্রের মাধ্যমে বা অন্য দলিলাদির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের সুবিধা ও খরচ।
৬. জামানত রক্ষনাবেক্ষণ খরচ ।
৭. ক্ষণ তদারকী আদায় খরচ।
৮. ঋণ ঝুঁকির পরিমাণ ও ঝুঁকি খরচ ।
৯. কৃষণ খরচের সম্ভাবনা ।
১০. ব্যাংক মক্কেল সম্পর্ক।
১১. রূপ ব্যতিরেকে অন্য বিকল্পে তহবিল ব্যবহার করে ব্যাংকের মুনাফা অর্জন সম্ভাবনা ।
১২. শেয়ার হোল্ডারদের প্রত্যাশিত লভ্যাংশের হার।

ব্যাংক ঋণের মূল্য নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Consideration of Loans Pricing ]

ক. আভ্যন্তরীণ বিষয় সমূহ

১. ঋণযোগ্য তহবিল সরবরাহের পরিমাণ (Amount of Loanable Fund) :

একটি ব্যাংকের ঋণের মূল্য নির্ধারণ কালে সর্ব প্রথমেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য করতে হবে যে তার কি পরিমাণ ঋণযোগ্য তহবিল বিদ্যমান রয়েছে। অর্থাৎ তার ব্যাংকের মোট তহবিলের কতটুকু পরিমাণ ঋণ হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে। যদি তহবিল বেশী থাকে তবে অল্প সুদে হলেও ঋণ প্রদান যুক্তিযুক্ত।

২. ব্যাংক তহবিল খরচ (Cost of Bank Fund) :

তহবিলের ব্যবহারের জন্য ব্যাংককে বিভিন্ন ভাবে খরচ বহন করতে হয়। যেমন : আমানতকারীদের দেয় সুদ খরচ বা অন্যান্য ঋণ বিনিয়োজিত ঝুঁকি খরচ ইত্যাদি বিবেচনায় এনে ঋণ থেকে লদ্ধ সুদের পরিমাণ ব্যাংক তহবিল খরচের বেশী হলে ঋণ প্রদান করা সমীচীন।

৩. প্রশাসনিক ও লেনদেনের খরচ (Administrative and Transaction Cost )

নির্ধ কালে বিবেচনায় আনতে হবে যে ক্ষণ প্রক্রিয়াকরণ, প্রদান ও গ্রহণকালীন প্রশাসনিক ও লেনদেন করছে। পরিমাণ কতটুকু পরিমাণ হতে পারে। প্রশাসনিক খরচ নির্বাহের জন্য সুদ আয়-খরচ ও সঙ্গত ভাবেই ন্যায হতে হবে।

৪ উপরি খরচ (Overhead Expenses)

ব্যাংকের অপ্রত্যক্ষ আনুষাঙ্গিক খরচাদি বেশী হলে তা নির্বাহের জন্য ঋণের মূল্য যুক্তি যুক্ত হতে হবে।

৫. ঋণ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ খরচ (Expenses for Credit Investigation and Credit Analgia) :

নির্ভরযোগ্য ঋণ আবেদন বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রাসঙ্গিক পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ। আর এ সংগ্রহের জন্য ব্যয় হওয়া স্বাভাবিক। অন্য দিকে প্রাপ্ত তথ্য ও যোগা কর্মকর্তা দ্বারা সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ব্যাখ্যা করার জন্য ও যথেষ্ট খরচ হয়ে থাকে। ঋণ তথ্য সংগ্রহে যত বেশী খরচ পড়বে ঋণ থেকে অর্জিত সুদ ও তত বেশী হওয়া যুক্তিযুক্ত।

৬. জামানত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ (Secuirty Maintenance of Expenses) :

ঋণের বিপরীতে গৃহীত বিভিন্ন প্রকার ক্ষুদ্র ও বৃহদাকার জামানতের রক্ষণাবেক্ষণের খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করতঃ ক্ষণ প্রদান থেকে অর্জিত সুদাপেক্ষা কম হওয়া বাঞ্চনীয়। এক্ষেত্রে অর্জিত সুদের তুলনায় অধিক জামানত রক্ষণাবেক্ষণ চে বেশী হলে উক্ত প্রদান থেকে বিরত থাকা সমীচীন।

৭. তদারকী ও আদায় খরচ (Supervision and Collection Expenses) :

ঋণের সুদ নির্ধারণ কালে ঋণের তদারকী খরচ ও আদায় করতে কি পরিমাণ খরচ হতে পারে তা বিবেচনায় আনতে হবে। লক্ষ সুদের পরিমাণ নির্ধারণ করে তুলনা মূলক বিচারে অধিক সুদ অর্জিত হলে ঋণ প্রদান করা উচিৎ।

ব্যাংক ঋণের মূল্য নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Consideration of Loans Pricing ]

৮.ঋণ ঝুঁকি পরিমাণ ও ঝুঁকি খরচ (Amount of Risk of Loan and Cost of Risk) :

ঋণ প্রদান কালে তাতে কি পরিমাণ ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে এবং উক্ত ঝুঁকির জন্য কি পরিমাণ খরচ নির্বাহ করতে হবে তাও হিসাব করে দেখতে হবে। যদি উক্ত ঝুঁকি খরচ থেকে অর্জিত ঋণ সুদের পরিমাণ বেশী হয় তাহলে প্রদান করা যথাযোগ্য হবে বলে বিশ্বাস। অন্যদিকে সুদের তুলনায় খরচের পরিমাণ বেশী হলে ক্ষণদান স্থগিত রাখা অসমীচীন।

৯. কু-ঋণের খরচের সম্ভাবনা (Amount of Bad Debt) :

বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ প্রদান করলে তার কতটুকু পরিমাণ কু-ঋণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বা তার কতটুকু অংশ অনাদায়ী হতে পারে তা বিবেচনার এনে ঋণ মূল্য নির্ধারণ আবশ্যক।

১০. ব্যাংক মক্কেল সম্পর্ক (Bank Customer Relation) :

ব্যাংক ও মক্কেলের সংগে সু-সম্পর্ক বিরাজ করলে ঋণের চাহিদা বা ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। ঋণ আদায়ও সহজতর হতে পারে। অন্যদিকে সম্পর্ক খারাপ হলে কু-ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে ঋণ খরচ অস্বাভাবিক থাকে। ঋণের মূল্য নির্ধারণকালে এ বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিৎ।

১১ ঋণ ব্যতিরেকে অন্য বিকল্প তহবিল সরবরাহের পরিমাণ (Amount of Loanable Fund) :

একটি ব্যাংকের ঋণের মূল্য নির্ধারণ কালে সর্ব প্রথমেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য করতে হবে যে তার কি পরিমাণ ঋণযোগ্য তহবিল বিদ্যমান রয়েছে। অর্থাৎ তার ব্যাংকের মোট তহবিলের কতটুকু পরিমাণ ঋণ হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে। যদি তহবিল বেশী থাকে তবে অল্প সুদে হলেও ঋণ প্রদান যুক্তিযুক্ত।

১২. শেয়ার হোল্ডারদের প্রত্যাশিত লভ্যাংশ হারু (Shareholders Expectation of Dividend)

হোল্ডারদের ভবিষ্যতের লভ্যাংশের প্রত্যাশিত হারে (নগদান লভ্যাংশে অথবা বোনাসে) বিবেচনার রেখে ক্ষণের মূল্য নির্ধারণ করা বাঞ্ছনীয়।

ব্যাংক ঋণের মূল্য নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Consideration of Loans Pricing ]

বহিঃ বিষয় সমূহ (External Factors)

১ সরকার তথা ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা-(Guidance of the Government and Bank Regulatory Agencies) :

সরকার অথবা ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকলে কেবল স্ব তহবিল সরবরাহ ৩ ঋণের চাহিদার তারতম্য অনুসারে ক্ষণের বাজার হার নির্ধারিত হয়ে থাকে। সরকার তা ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুদ্রা তথা ঋণ সরবরাহ বাড়াতে বা কমাতে সময় সময় ঋণের বাজার হারের উধর্বনিম্ন সীমা হ্রাস বা বৃদ্ধি করতে পারে। অতএব স্ব মূল্য নির্ধারণকালে বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহকে সরকারের প্রদত্ত এরূপ নির্দেশনা বিবেচনায় রাখতে হয়।

২. প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞা ও ঋণ বাজার নিয়ন্ত্রণের শক্তি-(Number of Competitors and Their Capacity to Control the Loan Market) :

একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ বাজারে তাদের গুরুত্ব প্রতিযোগী ঋণদাতা ব্যাংক সমূহের তহবিলের ব্যাপ্তি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বিচেনায় রেখে দলের মুলা হার নির্ধারণ করা আবশ্যক। মনে রাখতে হবে যে যার বা যে সকল প্রতিষ্ঠানের বাজারে প্রভাব (মার্কেট শেয়ার) বেশী তার বা তাদের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার শক্তিও বেশী থাকে।

৩. প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারন প্রকৃতি (Nature of Loan Price by the Competitors)

প্রতিবেশী ক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান সমূহ যদি নিম্ন হারে ঋণ বিতরণ করে তাহলে কোন ব্যাংক উহুঁ হারে ঋণ বিতরণের চেষ্টা করলে ঋণ আগ্রহী ব্যক্তিগণ অন্যত্র চলে যেতে পারে। এ কথা মনে রেখে কোন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক তার নিজস্ব বিতরণযোগ্য ঋণের মূল্য নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত।

৪ সুদের হার হ্রাস বৃদ্ধি জনিত সম্ভাবনা- (Risk of Increase and Decrease of Interest Rate)

বাজারে গত কয়েক বছরের সুদের হারের হ্রাস বৃদ্ধির আচরণ পর্যালোচনা করে এরূপ হার হ্রাস বৃদ্ধির সম্ভাবনা কতটুকু তা আঁচ করা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় হঠাৎ এরূপ হ্রাস বৃদ্ধি সংগঠিত হলে কোন একটি ব্যাংকের ঋণ মাত্রা টার্গেট অর্জন করতে কষ্টকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া বিচিত্র নয়। অতএব ঋণের মূল্য নির্ধারণ কালে কোন ব্যাংকের ঋণ কর্তৃপক্ষকে সুদের হার হ্রাস বৃদ্ধির সম্ভাবনার কর্তব্য বিবেচনায় রাখতে হয়।

৫ ঋণপত্রের মাধ্যমে বা অন্য দলিলাদীর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের সুবিধা ও খরা (Possibility of funds through securities and other documents and the expenses involved):

গ্রহীতারা যদি আর্থিক বাজার থেকে অল্প খরচে ঋণ পত্র তথা অন্য দলিলাদীর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে তাহলে তারা উচ্চ মূল্য অর্থাৎ উচচ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে ইচছুক নাও হতে পারে। অতএব ক্ষণের মূল্য নির্ধারণ কালে বাণিজ্যিক ব্যাংককে অবশ্যই ব্যাপারটি সঠিকভাবে অনুধাবন করে স্বপ্নের উপর সুদের হার নির্ধারণ করতে হয়।

আরও পড়ুনঃ

“ব্যাংক ঋণের মূল্য নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয়সমূহ [ Consideration of Loans Pricing ]”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন