ঋণ কর্মপন্থা ও কার্যক্রম [ Poling and Operations of Loan ]

ঋণ কর্মপন্থা ও কার্যক্রম [ Poling and Operations of Loan ] ঋণ কার্যক্রম সুষ্ঠ না হলে প্রায় দেশেই এরূপ ব্যাংকগুলোকে ব্যর্থ হয়ে লালবাতি জ্বলতে দেখা গেছে। আর সুষ্ঠ ঋণ কার্যক্রমের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি উপযুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো যার মাধ্যমে ঋণ কার্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ তাদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে কোনরূপ অস্পষ্টটা বা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগবেন না। অর্থ্যাৎ স্ব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তার কি করণীয় এবং কে কার কাছে তার দ্বারা কৃত কার্যাদির জন্য জবাবদিহি করবে এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ পরিস্কার প্রশাসনিক কাঠামো সুষ্ঠ ঋণ কার্যক্রমের জন্য আবশ্যক।

এছাড়াও ঋণ প্রস্তাব তথা ঋণের আবেদন মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চিহ্নিত করে কি রূপে ঐ তথ্যাদি সংগৃহীত হবে তা পূর্বাহ্নেই জেনে নেয়া আবশ্যক। কোন্ ধরণের ঋণ কিরূপে বিশ্লেষণ করতে হয়। এবং কি কি আর্থিক অনুপাত ব্যবহার করে আবেদনকারীদের ঋণ প্রাপ্ততা বিচার বিশ্লেষণ করতে হয় বহু কার্য আরম্ভ হওয়ার পূর্বে এগুলো না জানা থাকলে ঋণকার্য সম্পাদন কষ্টকর হয়ে পড়ে।

ঋণ কর্মপন্থা যত ব্যাপক ও লিখিত থাকবে কর্মচারীদের ট্রান্সফার অথবা অবসর গ্রহণ এমনকি অকাল মৃত্যু ঘটলেও ঋণকার্য পরিচালনা নুতন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য কষ্টকর হয়না। এছাড়াও ঋণচুক্তি সম্পাদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলিলাদি থাকা আবশ্যক। মনে রাখতে হবে যে ঋণ তদারকি সুষ্ঠু হলে প্রদত্ত ফেরত আসা প্রায়ই নিশ্চিত থাকে।

হাজার পয়সা দানের চেয়ে এক পয়সা ঋণ পরিশোধ বেশী মূল্যবান ।

                                                                                                 -হযরত আব্দুল্লাহ- বিন- মোবারক (রাঃ)

ঋণ কর্মপন্থা ও কার্যক্রম [ Poling and Operations of Loan ]

ঋণ কর্মপন্থা ও কার্যক্রম [ Poling and Operations of Loan ]

A lean policy is also a necessity for a bank if it is to attain its objectives and also serve the public manner its lending must be conducted in an orderly.

অর্থাৎ ঋণ কর্মপন্থা একটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের থেকে প্রাপ্ত তহবিল ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করে এবং এ গুলো ঋণ প্রদান করা বা না করার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হল জনসেবা সম্পাদনে ঋণ কর্মপন্থা অতিপ্রয়োজনীয় অবশ্যই সুশৃঙ্খলিতভাবে পরিচালিত হওয়া আবশ্যক।

ক. ঋণ কর্মপন্থা প্রস্তুতের দায়িত্ব (Responsibility of Preparing Loan Policy) :

ঋণ কর্মপন্থা ব্যাংকের অল্প কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারনীর একটি বিশেষ দিক। পরিচালনা পর্ষদ এ ব্যাপারে চূড়ান্ত দায়িত্বধারী তবে ঋণ কর্মকর্তাবৃন্দ খসড়া ঋণ কর্মপন্থা প্রস্তুত করে কর্মশালার মাধ্যমে পরিবর্তন পরিবর্ধন করে পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক পর্ষদ সদস্যবৃন্দ দিয়ে গঠিত ঋণ কমিটিতে উপস্থাপন করেন। ঋণ কমিটিতে কয়েকটি সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে পরিমার্জিত আকারে ঋণ কর্মপন্থা প্রস্তাব আকারে পরিচালনা পর্ষদ সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়। প্রয়োজনীয় সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন সহকারে চূড়ান্তভাবে ঋণ কর্মপন্থা অনুমোদন লাভ করে থাকে। এরূপ ভাবেই একটি ব্যাংকের ঋণ কর্মপন্থা প্রস্তুত হয়ে থাকে।

খ. লিখিত অথবা অলিখিত ঋণ কর্মপন্থা (Written or Unwritten Loan Policy)

লিখিত অথবা অলিখিত উভয় প্রকারেরই ঋণ কর্মপন্থার বাস্তবায়ন বিরল নয়। তবে বেশীর ভাগই লিখিত আকারের হয়ে থাকে। কারণ কালান্তরে অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তার অবর্তমানে ও নতুন কর্মকর্তাদের ভুল বুঝাবুঝির অবসানে এবং ক্ষণ কর্মপন্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুবিধার্থে ব্যাংক ঋণ কর্মপন্থা লিখিত হওয়াই শ্রেয়।

ঋণ কর্মপন্থা ও কার্যক্রম [ Poling and Operations of Loan ]

গ. ঋণ কর্মপন্থা নমনীয় বা অনমনীয় হবে (Whether foan Policy Should be Rigid or Flexible) :

ঋণ কর্মপন্থা নমনীয় ও অনমনীয় উভয় প্রকারেরই হয়ে থাকে। ঋণ কর্মপন্থা নমনীয় হওয়ার কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। তবে অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যাংক বিশেষজ্ঞের মতে নমনীয় ব্যাংক কর্মপন্থার সুবিধা গুলো অসুবিধা গুলোর চেয়ে অনেক বেশী। অতএব অনমনীয় হওয়ার চেয়ে নমনীয় ঋণ কৰ্ম পন্থা আপেক্ষিক ভাবে বেশী কল্যাণকর। কারণ সময় ও মঞ্চেলভেদে এবং অসম্ভব পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের সুযোগ না থাকলে অনমনীয় ঋণ কর্মপন্থা যান্ত্রিকতার ত্রুটিতে দুষ্ট ও পরিত্যাজ্য বলে পরিগণিত হয়ে থাকে।

ঘ. সকল ঋণ নীতির উপাদান সমূহ (Elements of Successful Loan Policy)

ক্ষণ কর্মপন্থা ঋন কার্য সম্পাদনের ইঙ্গিত পূর্ণ নির্দেশনা যা দিয়ে ঋণ কর্মকর্তাদেরকে অধিকতর দক্ষতার ঋণ কার্য-সম্পাদনে সক্ষম করে। ঋণ কার্যক্রম সম্পাদন প্রক্রিয়ার যে সকল ব্যাপারে প্রায়শ ঋণ কর্মকর্তাদেরকে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তার বেশীর ভাগ সম্পর্কে ইঙ্গিত বা নির্দেশনা থাকলে ঋণ কর্মকর্তাবৃন্দ অপেক্ষাকৃত বেশী উপকৃত হন। ঋণ কর্মপন্থায় সাধারণত দু’ধরনের উপাদান স্থান পায়। যথা :

(১) সাধারণ উপাদান সমূহ ও

(২) নীতি-পদ্ধতি সংক্রান্ত উপাদান সমূহ।

এ উভয় বিষয়ের যে সকল বিভিন্ন ধরণের উপাদান সমূহ একটি সফল ও নির্ভরযোগ্য ঋণ কর্ম পন্থায় সচরাচর স্থান পায় তা পরবর্তী পৃষ্ঠার চিত্রে পরিবেশিত হলো :

ঋণ কর্মপন্থার উপাদানসমূহ

ঋণ কর্মপন্থা ও কার্যক্রম [ Poling and Operations of Loan ]

(ক) সাধারণ উপাদান সমূহ

১.ঋণের কার্যক্রমের লক্ষ্য

২. ঋণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য

৩. মিশ্রণ কৌশল

৪. ভাল কৌশল

৫. ক্ষপযোগ্য তহবিল পিন

৬. গ্রুপের উচ্চ ও নিম্নমাত্রা নির্ধারণ

৭. স্বপ্নের ভৌগলিক এলাকা

৮. ক্ষণ মেয়াদ মিশ্রন ঋণের আওতায় কার্যকলাপ

৯. স্বপ্ন মেয়াদ মিশ্রন

১০. জামানত কৌশল

১১. ঋণ আবেদন অনুমোদন

১২. প্রতিযোগীদের মোকাবেলা কৌশল

১৩. ব্যবসায়ীক নৈতিকতা

১৪. রুপ আমায় কৌশল

১৫. ক্ষণ কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন

১৬. ক্ষণ পুনঃরীক্ষণ

১৭. রুপ মর্যাদা করণ

১৮. প্রতিটি ক্ষনযোগ্য কাজের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ।

ঋণ কর্মপন্থা ও কার্যক্রম [ Poling and Operations of Loan ]

(খ) নীতি-পদ্ধতি সংক্রান্ত উপাদান সমূহ।

১. ঋণ বীমা

২. ঋণের দলিলাদী

৩. ঋণ লেনসেন হিসাব সংরক্ষণ

৪. আইনের বিধিবদ্ধ ব্যাপ্তি

৫. কর্মকর্তাদের ক্ষমতা হস্তান্তর

৬. ঋণ কর্মকর্তাদের কার্য বিবরণ

৭. মূল্য নির্ধারণ

৮. ঋণ কর্মকর্তা ভেদে ঋণ মঞ্জুর ক্ষমতা

৯. ঋণ তথ্য সংগ্রহ কৌশল

১০. ঋণ বিশ্লেষণ পদ্ধতি ও ধাপ

১১. পরিশোধ সারণী

।১২. সাধারণ ঋণ পরিমাণ

১৩. ক্ষণ তদারকি ও পর্যবেক্ষন ব্যবস্থা

১৪. সমস্যাগ্রন্থ ঋণ চিহ্নিত করণ

১৫. সমস্যাগ্রস্ত ঋণ গ্রহীতা সম্পর্কে গৃহীতব্য পদক্ষেপ সমূহ

।১৬. জামানত আয়ত্বে নিয়ে বিক্রয় কৌশল

১৭. ন্যূনতম আমানত জের

সফল ঋণ কার্যক্রম সম্পাদনে ব্যাংকের উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে সত্য কিন্তু যে এলাকায় ব্যাংকটি অবস্থিত সে এলাকা উন্নতি সাধনেও যে ব্যাংক অবদান রাখছে তা প্রমান করে গণআস্থা অর্জন ও ব্যাংক ঋণ কর্মপন্থার একটি প্রধান উদ্দেশ্য। ঋণ কর্মপন্থায় অবশ্যই যে ভৌগলিক এলাকা সেবার জন্য নির্দিষ্ট করে তা পরিস্কার রূপে বর্ণিত থাকে। এলাকা বহির্ভূত ঋণ আবেদন কারীদের সুযোগ সীমিত এ ব্যাপারে পূর্বাহ্নেই পরিস্কার হওয়া বাঞ্চনীয়। এছাড়াও ঋণ মঞ্জুর করার ক্ষমতা, শাখা, আঞ্চলিক অফিস, প্রাদেশিক অফিস বা প্রধান অফিসে তথা পরিচালনা পর্ষদে সীমা কত পর্যন্ত তা স্পষ্ট রূপে লিখিত থাকলে ঋণ প্রক্রিয়ায় ভুল বোঝাবুঝি নিরসন অনেকটা সম্ভব।

ঋণের ঝুঁকি নিরসন কল্পে কি প্রক্রিয়ায় ঋণ বিশ্লেষন করা হবে, ঋণ বীমা কিরূপ হবে, দলিলাদী তথা জামানত কি হলে পর্যাপ্ত বলে পরিগনিত হবে এ সকল বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দক্ষ ঋণ কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঋণ পর্যবেক্ষন ও তদারকি কিরূপ হবে, কি রূপে ঋণের সমস্যাগ্রস্ততা চিহ্নিত করা হবে এবং এরূপ চিহ্নিত মক্কেলদের বেলায় গৃহীতব্য পদক্ষেপ জানা থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তহীনতা পরিহার সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ

 

মন্তব্য করুন