কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি: দেশের বেকার ও অর্ধবেকারদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক জামানত ছাড়াই ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ নীতিমালা’র আওতায় বেকার যুবক ও যুব নারীরা ৮ শতাংশ সরল সুদে এ ঋণ পাওয়ার যোগ্য। পাঁচ বছরের জন্য এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে ঋণ পাচ্ছেন তাঁরাই, যাঁদের সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া আছে। কর্মসংস্থান ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি অ-তফসিলী (Non-scheduled) ব্যাংক। বেকারদের অর্থ সহায়তা দিয়ে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকার যুব শক্তির আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্যে ১৯৯৮ সালে এ ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি
কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি

 

কর্মসংস্থান ব্যাংক ১৪ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বলেছে, বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ নীতিমালার আওতায় বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭০০ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দিয়েছে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি

প্রণোদনা বাস্তবায়নের অগ্রগতির চিত্র নিয়ে গত মঙ্গলবার বৈঠক করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সেখানে কর্মসংস্থান ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আর ঋণ পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭০২ জন। গড়ে একেকজন ঋণ পেয়েছেন দেড় লাখ টাকার বেশি। মুজিব বর্ষে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল ২ লাখ জনকে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক দিচ্ছে জামানত ছাড়াই পাঁচ লাখ টাকার ঋণ

৮ শতাংশ সরল সুদে এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ঋণের মেয়াদ পাঁচ বছর। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছর।

১৯৯৮ সালে গঠিত হয় কর্মসংস্থান ব্যাংক। ব্যাংকটির ৩৩টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ২৪টি শাখা রয়েছে। ব্যাংকটি গঠনের উদ্দেশ্য ছিল বেকার যুবকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, কুটির শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া, দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা
ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাংকটি সেই উদ্দেশ্য পূরণে ঋণও দিয়ে যাচ্ছে। তবে যে পরিমাণ ঋণের চাহিদা রয়েছে, সে পরিমাণ ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা নেই ব্যাংকটির।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি

কারা ঋণ পাবেন:

ঋণ পাওয়ার জন্য একসময় অষ্টম শ্রেণি পাসকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে তা পঞ্চম শ্রেণি পাসে নামিয়ে আনা হয়েছে। ঋণ আবেদনকারীকে বেকার বা অর্ধবেকার হতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছর।তবে বিশেষ বিবেচনায় ৪০ বছর পর্যন্ত বয়স শিথিলযোগ্য।

এ ছাড়া ঋণ পেতে হলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিসিক, বিডা, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনসহ (এসডিএফ) অন্যান্য সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। ঋণখেলাপিরা ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। একই গ্রাহক বা গ্রুপ একাধিক প্রকল্পে ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলেও বিবেচিত হবেন না। তবে ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ দেওয়া হলেও কিস্তি খেলাপি হলে এই সুদ নেওয়া হবে ১০ শতাংশ হারে।

জামিনদার লাগবে:

প্রকল্প এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী এবং যাঁর বাড়িঘর ও জমিজমা আছে ও ঋণ পরিশোধে সক্ষম এমন কেউ জামিনদার হতে পারবেন। আবেদনকারীর পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী অথবা তৃতীয় কোনো ব্যক্তিও হতে পারবেন জামিনদার। একটি জেলার কোনো বাসিন্দা ওই জেলার আওতাধীন যেকোনো শাখার উদ্যোক্তার ঋণের বিপরীতে নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি দিতে পারবেন। জামিনদার হতে পারবেন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম সম্প্রতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ চার মাস আগে আমাদের ৭০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৩৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেলেও বাকি টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’

কর্মসংস্থান ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত অ-তফসিলী (Non-scheduled) ব্যাংক। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেকারদের অর্থ সহায়তা দিয়ে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ঋণ সহায়তা প্রদানের জন্যে ১৯৯৮ সালে এ ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের সকল কর্মসূচী:

 

(ক)নিজস্ব কর্মসূচী:দেশের বেকার বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান সৃজনে ঋণ সহায়তা প্রদান;
(খ)ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচী (SECP):দেশের বেকার বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচী (Small Enterprise Credit Program) ;
(গ)বিদেশে কর্মসংস্থান ঋণ কর্মসূচী:বিদেশে গমনেচ্ছুকদেরকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিদেশ গমনে সহায়তা প্রদান;
(ঘ)সরকারের বিশেষ কর্মসূচী
(১) কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ঋণ সহায়তা কর্মসূচী:o    (ক) কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটানো;

o    (খ) গ্রামীণ পর্যায়ে শিল্প বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা;

o    (গ) জিডিপিতে কৃষিভিত্তিক শিল্পের অবদান বৃদ্ধি করা;

o    (ঘ) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ;

(২) শিল্প কারখানা/প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছা-অবসরপ্রাপ্ত/কর্মচ্যুত শ্রমিক/ কর্মচারীদের কর্মসংস্থানে জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান কর্মসূচী:শিল্প কারখানার স্বেচ্ছা-অবসরপ্রাপ্ত/কর্মচ্যুত শ্রমিক/কর্মচারীদের কর্মসংস্থানে জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা ;
(৩) বাঝুঁকানিশিনি-বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসনকল্পে ঋণ প্রদান কর্মসূচী (EHCLB-Eradication of Hazardous Child Labour in Bangladesh):বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসনকল্পে শিশু শ্রমিকের পিতা-মাতাদের আত্ম-কর্মসংস্থানে (জামানতবিহীন) ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান ;
(৪) বাংলাদেশ ব্যাংক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ঋণ সহায়তা কর্মসূচী (বিবিমপ্রাস):o    (ক) প্রাণীজ আমিষ বৃদ্ধির মাধ্যমে দৈহিক ও মেধার বিকাশ সাধন;

o    (খ) কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা;

o    (গ) জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের অবদান বৃদ্ধি করা;

(৫) বাংলাদেশ ব্যাংক ‘‘দুগ্ধ উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন খাতে পুন:অর্থায়ন স্কীম’’ (বিবিকৃপ):o    (ক) কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জাত উন্নয়নপূর্বক দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা ;

o    (খ) কৃত্রিম প্রজনন সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি;

o    (গ) দুগ্ধ উৎপাদনের মাধ্যমে জিডিপিতে অবদান বৃদ্ধি করা;

(ঙ)কনজুমারস ক্রেডিট স্কীম/ ব্যক্তিগত (পারসোনাল) ঋণ:ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিত্য ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য কনজুমারস ক্রেডিট স্কীমের আওতায় ঋণ প্রদান;
(চ)কম্পিউটার/ল্যাপটপ ক্রয় ঋণ:ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কম্পিউটার/ল্যাপটপ ক্রয়ে ঋণ প্রদান;
(ছ)গৃহ নির্মাণ ঋণ:ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা সৃষ্টির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান;
(জ)মোটর সাইকেল ঋণ:ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবহন/যোগাযোগ সুবিধার জন্য স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান;

 

Automated teller machine

 

কর্মসংস্থান ব্যাংকের সকল ঋণ খাত:

১) মৎস্য সম্পদ :

মৎস্য চাষ : কার্প জাতীয়, পাংগাস, চিংড়ি, মনোসেক্স তেলাপিয়া, থাই কৈ, মিশ্র মৎস্য চাষ ও রেণু পোনা উৎপাদন (পুকুরে)।

২) প্রাণিসম্পদ :

দুগ্ধ খামার, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল/ভেড়া/মহিষ পালন, ব্রয়লার/ককরেল মুরগীর খামার, লেয়ার মুরগীর খামার, কোয়েল/টার্কির খামার।

৩) যানবাহন/পরিবহন সেবা :

টিভিসএস টু-হুইলার/থ্রি হুইলার-এর মাধ্যমে পণ্য/যাত্রী পরিবহন সেবা প্রকল্পে ঋণ প্রদান : লাইসেন্সপ্রাপ্ত/শিক্ষানবিশ ড্রাইভার/উদ্যোক্তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা, পণ্য সরবরাহ/পরিবহন সহজীকরণ, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, জেলা সদর, উপজেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চলে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা পৌঁছানো, দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকরণ ও বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তাকরণের নিমিত্তে টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড-এর সাথে কর্মসংস্থান ব্যাংকের সমঝোতা স্মারক সম্পাদন ও ঋণ প্রদান।

৪) শিল্প-কারখানা :

মৎস্য হ্যাচারী, পোল্ট্রি হ্যাচারী, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা, প্রাণি খাদ্য তৈরির কারখানা, মৎস্য খাদ্য তৈরির কারখানা, চিড়া/মুড়ি কল/ শিল্প, ধানের চাতাল/রাইস মিল, বেকারী শিল্প, অয়েল মিল, স’মিল, ফলজাত খাদ্য শিল্প (জ্যাম/জেলি/জুস/আচার/শরবত/সিরাপ/সস), সুষম সার প্রস্ত্ততকরণ, আটা/ময়দা/সুজি প্রস্ত্ততকরণ, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যার, স্টার্চ, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ উৎপাদনকারী শিল্প,আইসক্রিম ফ্যাক্টরী, গুঁড়া মসলা উৎপাদনকারী শিল্প, সুগন্ধি চাল উৎপাদন, ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ, নারিকেল তেল উৎপাদন, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, রাবার প্রক্রিয়া- জাতকরণ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি।

৫) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প :

মৃৎ শিল্প, কামারের কাজ, ব্লক-বাটিক/প্রিন্টিং, গ্রামীণ স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি, তাঁত শিল্প, কাঠের/ স্টীলের আসবাবপত্র তৈরিকরণ, রেশম বস্ত্র উৎপাদনকারী শিল্প, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি, মোমবাতি/আগরবাতি/গোলাপজল/দাঁতের মাজন/কয়েল তৈরি, বাঁশ ও বেত শিল্প, যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা, ক্ষুদ্র প্রিন্টিং এবং সাইনবোর্ড তৈরি, চামড়াজাত শিল্প, শুটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ, আইসক্রিম/বরফকল ইত্যাদি।

৬) অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রকল্প :

মাশরুম চাষ, সবজি চাষ, সেরিকালচার (রেশম চাষ), ফল চাষ, মৌমাছি চাষ, নকশীকাঁথা তৈরি, পান বরজ, নার্সারী, ফুল চাষ ইত্যাদি।

৭) সেবা খাত :

সেলুন/লন্ড্রি, বিউটি পার্লার এবং হারবাল ট্রিটমেন্ট, পাওয়ার টিলার, কম্পিউটার সেবা, ফটোকপি সেবা, টিভি/ভিসিআর/বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি/ মোবাইল ফোন মেরামত, গ্রামীণ যানবাহন, সেলাই মেশিন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং/গাড়ি মেরামত ওয়ার্কশপ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার/ক্লিনিক/দন্ত চিকিৎসা, স্টুডিও, শিক্ষা সেবা (কোচিং সেন্টার/কিন্ডার গার্টেন), ক্যাবল অপারেটরস, জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদন পার্ক, আবাসিক হোটেল, পর্যটন কটেজ, সোলার পাওয়ার, সাইবার ক্যাফে ইত্যাদি।

৮) বাণিজ্যিক খাত :

মুদি/মনোহারি, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কাপড়ের ব্যবসা/তৈরী পোষাক ব্যবসা, প্রাণিখাদ্য/মৎস্যখাদ্য বিক্রয়, ধান/ চাল/অন্যান্য কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সার/বীজ/কীটনাশক ব্যবসা, পার্টসের দোকান, ইলেকট্রিক সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ঔষধ ব্যবসা, শুটকী মাছ ব্যবসা, পাথর ক্রয় বিক্রয়, বালি ক্রয়/বিক্রয় ব্যবসা, পুরাতন লোহালক্কর (স্ক্রেপ/ভাঙ্গারী) ব্যবসা, জুতার ব্যবসা, ক্রোকারিজ সামগ্রী ক্রয় বিক্রয়, হার্ডওয়ার ব্যবসা, হোটেল/রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, আসবাবপত্র বিক্রয়, অন্যান্য ব্যবসা/বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি।

 

Bank Counter

 

কর্মসংস্থান ব্যাংক হতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা:

(ক) উদ্যোক্তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;

(খ) শাখার অধিক্ষেত্রের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। স্থায়ী বাসিন্দা না হলে শাখার অধিক্ষেত্রের একজন স্থায়ী বাসিন্দাকে ঋণের গ্যারান্টার হতে হবে;

(গ) বেকার/অর্ধ বেকার হতে হবে;

(ঘ) বয়স সাধারণত ১৮ হতে ৪৫ বছর হতে হবে। তবে পুরাতন ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য;

(ঙ) উদ্যোক্তাকে ইকুইটি বহনের ক্ষমতা থাকতে হবে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);

(চ) প্রকল্প পরিচালনার বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ/অভিজ্ঞতা থাকতে হবে;

(ছ) ঋণ ব্যবহারের যোগ্যতাসহ ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা ও আর্থিক আচরণে সুনামের অধিকারী হতে হবে;

(জ) অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপী হলে ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না;

(ঝ) ঋণ নীতিমালার অন্যান্য নিয়ম অনুসরণে সক্ষম হতে হবে।

 

Bank Counter

 

ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মসূচীর সুদহার নিম্নরূপ:

ক) নিজস্ব কর্মসূচী :
(i) উৎপাদনশীল ও সেবামূলক খাত : ১১% , ঋণটি অনিয়মিত/খেলাপী হলে ১%এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হলে আরও ১% যোগ করে সুদারোপযোগ্য;
(ii) বাণিজ্যিক খাত : ১৩% , ঋণটি অনিয়মিত/খেলাপী হলে ১% এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হলে আরও ১% যোগ করে সুদারোপযোগ্য ;

খ) ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচী : ১৩% ;

গ) কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ঋণ সহায়তা কর্মসূচী : ৮ – ৯% ;

ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ঋণ সহায়তা কর্মসূচী (বিবিমপ্রাস) : ১০% ;

ঙ) বাংলাদেশ ব্যাংক দুগ্ধ উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন খাতে পুন:অর্থায়ন স্কীম (বিবিকৃপ) : ৫% ;
সকল ঋণের ক্ষেত্রে সরল সুদ প্রযোজ্য এবং সুদের হার পরিবর্তনযোগ্য।

 

আরও পড়ুন:

“কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন