ব্যাংক কোম্পানীর কার্যাবলী ২ । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানীর কার্যাবলী ২ । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানীর কার্যাবলী ২ । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানীর কার্যাবলী ২ । দ্বিতীয় খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

১৫। নুতন পরিচালক নির্বাচন।-(১) বাংলাদেশ ব্যাংক, তৎকর্তৃক আদেশ প্রদানের দুই মাসের মধ্যে বা তৎকর্তৃক বর্ণিত সময়ের মধ্যে, নুতন ব্যাংক বা বিশিষ্ট ব্যাংক ব্যতীত অন্য যে কোন ব্যাংক-কোম্পানীকে এই অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী উহার নুতন নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যে উক্ত কোম্পানীর সাধারণ সভা আহবানের নির্দেশ দিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্বাচিত পরিচালক, উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হইলে তাঁহার পূর্বসূরী যে তারিখ পর্যন্ত উত্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিতেন সেই তারিখ পর্যন্ত পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।

(৩) এই ধারার অধীনে যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সম্পর্কে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উপস্থাপন করা যাইবে না।

(৪) বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ আদেশ দ্বারা এই মর্মে বিধান করিতে পরিবেন যে, নুতন ব্যাংক বা বিশিষ্ট ব্যাংক ব্যতীত অন্য যে কোন ব্যাংক-কোম্পানীকে উহার উপদেষ্টা (যদি থাকে) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পদের নাম যাহাই হউক না কেন, এর নিযুক্তির পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে এবং এইরূপে নিযুক্ত উপদেষ্টা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে তাহার পন হইতে বরখাস্ত করা, অব্যাহতি দেওয়া বা অপসারণ করা যাইবে না।

১৫ক। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ পূরণ ইত্যাদি। (১) এই আইনে বা অন্য কোন প্রচলিত আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যাংক-কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পদের নাম যাহাই হউক না কেন, এর শূন্য পদের বিপরীতে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ থাকিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যাংক-কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ একাধিনে তিন মাসের অধিক সময়ের জন্য শূন্য রাখা যাইবে না।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে কোন ব্যাংক-কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ পূরণ করা না হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রশাসক নিযুক্ত করিতে পারিবেন এবং উক্ত কোম্পানী তাহার বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি বাবদ খরচ বহন করিবেন।

১৬। বিলুপ্ত [……]

১৭। পরিচালক পদের শূন্যতা :- (১) ব্যাংক-কোম্পানীর কোন পরিচালক যদি-

(ক) তৎকর্তৃক গৃহীত অগ্রিম বা ঋণ বা উক্ত অগ্রিম বা ঋণের কিস্তি বা সুদ পরিশোধ করিতে

(খ) কোন জামিনের জন্য তাঁহার নিকট প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করিতে, বা

(গ) তৎকর্তৃক সম্পাদনীয় কোন কর্তব্য, যাহার দায়িত্ব তিনি লিখিতভাবে গ্রহণ করিয়াছেন, সম্পাদন করিতে, ব্যর্থ হন, এবং উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নোটিশ দ্বারা তাহাকে উক্ত অগ্রিম, ঋণ, কিস্তি, সুদ বা টাকা পরিশোধ বা উক্ত কর্তব্য সম্পাদন করিতে নির্দেশ দেয় এবং উক্ত নির্দেশ পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে তিনি উক্তরূপ পরিশোধ বা কর্তব্য সম্পাদন করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার সাথে সাথে তাঁহার পদ শূন্য হইবে।

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্ত হইলে, তিনি, নোটিশ প্রান্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাহার কোন বক্তব্য থাকিলে উহার উপর বক্তব্য, যদি থাকে, লিখিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে উহার একটি কপি নোটিশ প্রদানকারী ব্যাংক-কোম্পানীকেও প্রেরণ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রেরিত বক্তব্যের উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে ।

(৪) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শূন্য হওয়া পদের বিপরীতে যে ব্যক্তি পরিচালক ছিলেন তাহার নিকট হইতে ব্যাংকের প্রাপ্ত টাকা তাহার শেয়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে আদায় করা হইবে এবং উক্তরূপ সমন্বয়ের পর যে টাকা বাকী থাকিবে উহা প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায় করা হইবে।

১৮। পরিচালক কর্তৃক কতিপয় সুযোগ সুবিধার বিষয় সম্পর্কিত বিধান। (১) অন্য কোন আইন বা সংঘ স্মারকে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক-কোম্পানীর কোন পরিচালক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অংশ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফিস বা ব্যাংকের ব্যবসায়িক মার্থের জন্য প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হওয়ার কারণে পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের দ্বারা তাহার উপর আরোপিত কোন বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য পর্ষদ কর্তৃক থিরিকৃত অর্থ ব্যতীত ব্যাংক হইতে আর্থিক বা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করিবেন না।

(২) যদি ব্যাংক-কোম্পানীর কোন পরিচালক কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থপনার সহিত জড়িত বা সংশ্লিষ্ট থাকাকালীন সময়ে বা উহাতে তাহার অন্য দশ শতাংশ স্বত্ব থাকাকালীন সময়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সহিত ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যাংক ব্যবসা ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসা সম্পাদিত হয় তাহা হইলে ব্যাংক-কোম্পানীকে উহার সাধারণ সভায় এই বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা সম্বলিত একটি প্রতিবেদন পেশ করিতে হইবে।

১৯। শেয়ার বিক্রীর কমিশন, দালালী বা বাটা ইত্যাদি সম্পর্কে বাধা-নিষেধ। কোম্পানী আইনের Section 105 এবং Section 105A তে ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও, কোন ব্যাংক-কোম্পানী উহার শেয়ার বরাদ্দকরণের ব্যাপারে শেয়ার সমূহের বিপরীতে আসয়কৃত মূল্যের শতকরা আড়াই ভাগের বেশী অর্থ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কমিশন, দালালী, বাটা বা পারিশ্রমিক হিসাবে বা অন্য কোন প্রকারে প্রদান করিতে পরিবে না।

২০। অনাদায়ী মূলধনের উপর দায়যুক্তকরণ অবৈধ। কোন ব্যাংক কোম্পানী উহার কোন অনাদায়ী মূলধনকে দায়যুক্ত করিবে না এবং এইরূপ সায়যুক্ত করা হইলে উহা অবৈধ হইবে।

২১। সম্পদকে অনির্দিষ্ট দায়মুক্তকরণ (floating charge) অবৈধ।– (১) ধারা ৭এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন ব্যাংকে কোম্পানীর আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী হইবে না এই মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত প্রত্যয়নপত্র ব্যতীত, কোন ব্যাংক- কোম্পানী উহার কোন কাজ বা সম্পত্তিকে বা উহার কোন অংশকে অনির্দিষ্ট নায়যুক্ত করিবে না।

(২) বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে প্রত্যয়ন পত্র ব্যতীত উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন দায়যুক্তকরণ অবৈধ হইবে।

(৩) বাংলাদেশ ব্যাংক উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলে, সংস্কৃত ব্যাংক অধীকৃতি আপনের বিষয় উহাকে অবহিত করিবার তারিখ হইতে নকাই দিনের মধ্যে, উক্ত অস্বীকৃতি জাপনের বিরুদ্ধে সরকারের নিকট আপীল করিতে পারিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন আপীল দায়ের করা হইলে, উহার উপর সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে, এবং উর উপ-ধারার অধীন আপীল দায়ের না করা হইলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

২২। লভ্যাংশ (dividend) প্রদানের উপর বাধা-নিষেধ।- (১) নুতন ব্যাংক অথবা বিশিষ্ট ব্যাংক ব্যতীত অন্য কোন ব্যাংক কোম্পানী ইহার শেয়ারের উপর কোন লভ্যাংশ প্রদান করিবে না, যদি

(ক) উহার প্রাথমিক ব্যয়, সাংগঠনিক ব্যয়, শেয়ার বিক্রি ও দালালীর কমিশন, লোকসান এবং অন্যান্য ব্যয় সহ মূলধনে পরিণত হইয়াছে এইরূপ সকল ব্যয় সম্পূর্ণরূপে অবলোপন করা না হইয়া থাকে, অথবা

(খ) উহা পরিশোধিত ও সংরক্ষিত তহবিল হিসাবে উহার চাহিবামাত্র দায় ও মেয়াদী দায় এর অন্যূন ৬% এর সমপরিমাণ অর্থ বজায় রাখিতে ব্যর্থ হয়।

উপ-ধারা (১) বা কোম্পানী আইনে ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও, কোন ব্যাংক-কোম্পানী অবলোপন ব্যতিরেকেই শেয়ারের উপর নিম্নবর্ণিত অবস্থায় লভ্যাংশ প্রদান করিতে পারিবে :-

(ক) অনুমোদিত সম্পত্তি-নিদর্শনপত্রে বিনিয়োগকৃত অর্থের মূল্য হ্রাস হইলেও যদি তা দ্বারা প্রকৃতপক্ষে মূলধনের উপর প্রভাব না পড়ে বা উহাকে অন্য কোনভাবে লোকসান হিসাবে গণ্য না করা হয়।

(খ) অনুমোদিত সম্পত্তি-নির্দশনপত্র ব্যতীত যে কোন শেয়ার, ঋণপত্র বা বন্ডে বিনিয়োগকৃত অর্থের মূল্য হ্রাস হইলেও যদি উহার জন্য ব্যাংক-কোম্পানীর নিরীক্ষকের সন্তুষ্টি মোতাবেক পর্যাপ্ত সম্মিতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়া থাকে।

(গ) অনাদায়যোগ্য ঋণের ব্যপারে যদি ব্যাংক-কোম্পানীর নিরীক্ষকের সন্তুষ্টি মোতাবেক পর্যান্ত সম্মিতির ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।

ব্যাংক কোম্পানীর কার্যাবলী ২ । দ্বিতীয় খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

২৩। সাধারণ পরিচালক নিয়োগে বাধা-নিষেধ। (১) অন্য কোন আইন বা কোম্পানীর সংঘ স্মারকে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নুতন ব্যাংক বা বিশিষ্ট ব্যাংক ব্যতীত বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত কোন ব্যাংক-কোম্পানীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া এমন কোন পরিচালক থাকিবে না, যিনি-

(ক) অন্য কোন ব্যাংক-কোম্পানীর, বা ব্যাংক-ব্যবসায় নিয়োজিত নয় এইরূপ অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক

(কক) কোন বীমা কোম্পানীর পরিচালক

(ককক) উত্ত ব্যাংক কোম্পানীর বহিঃ হিসাব নিরীক্ষক, আইন উপদেষ্টা বা অন্য কোনভাবে লাভজনক দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি বা উক্ত ব্যাংক কোম্পানীর উপদেষ্টা

(কককক) অন্য কোন ব্যাংক-কোম্পানীর উপদেষ্টা,

(খ) এমন কতিপয় কোম্পানীর পরিচালক যেসব কোম্পানী উন্ন ব্যাংক-কোম্পানীর শেয়ার হোল্ডারদের মোট শেয়ারের বিপরীতে মোট ভোটের ২০% এর অধিক ভোট প্রদানের অধিকারীঃ

তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার বিধান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত পরিচালকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

(১ক) উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী পরিচালক থাকিতে পারেন না এমন কোন ব্যক্তি যদি কোন ব্যাংক- কোম্পানীর পরিচালক থাকেন, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরিচালক পদ হইতে অপসারণ করিবে

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপে অপসারণের পূর্বে পরিচালককে কারণ দর্শানোর যুক্তিসংগত সুযোগ দিতে হইবে

আরও শর্ত থাকে যে, উপরি উক্ত ব্যক্তি কোন ব্যাংক-কোম্পানীর পরিচালক থাকার বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংক অবগত হইবার অনধিক তিন মাসের মধ্যে এই উপ-ধারার অধীন সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করিবে।

(২) এই অধ্যাদেশের প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্ব হইতে কোন ব্যাংক-কোম্পানীতে কর্মরত পরিচালক যদি এমন কতিপয় কোম্পানীর পরিচালক হন যেসব কোম্পানী উক্ত ব্যাংক কোম্পানীর শেয়ার হোল্ডারদের মোট শেয়ারের বিপরীতে মোট ভোটের ২০% এর অধিক ভোট প্রদানের অধিকারী, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ প্রবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে,

(ক) উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর পরিচালকের পদ ত্যাগ করিবেন, অথবা

(খ) কোম্পানীগুলির মধ্যে এমন কতিপয় কোম্পানীর পরিচালক পদে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন যে সকল কোম্পানী উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীতে মোট শেয়ার বলে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর শেয়ারের বিপরীতে ভোটের মোট সংখ্যার ২০% এর অধিক ভোট প্রদানের অধিকারী নহে এবং অন্যান্য কোম্পানীর পরিচালকের পদ ত্যাগ করিবেন।

২৪। সংরক্ষিত তহবিল- (১) বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত প্রত্যেক ব্যাংক-কোম্পানী একটি সংরক্ষিত তহবিল গঠন করিবে, এবং শেয়ার প্রিমিয়াম একাউন্টে রক্ষিত অর্থসহ উক্ত তহবিলের অর্থ যদি উহার আদায়কৃত মূলধন, অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক কোন ব্যাংক-কোম্পানীর জন্য এতদুদ্দেশ্যে সময় সময় যে পরিমাণ প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে তাহা অপেক্ষা কম হয়, তাহা হইলে ব্যাংক- কোম্পানী ধারা ৩৮ এর অধীন প্রস্তুতকৃত উহার লাভ-ক্ষতির হিসাবে যে মুনাফা দেখাইয়াছে উহা হইতে কোন টাকা সরকারের নিকট হস্তান্তর, বা লভ্যাংশ হিসাবে ঘোষণা করার পূর্বে অন্যূন ২০% এর সমপরিমাণ টাকা সংরক্ষিত তহবিলে হস্তান্তর করিবে।

(২) কোন ব্যাংক-কোম্পানী সংরক্ষিত তহবিল বা শেয়ার প্রিমিয়াম একাউন্ট হইতে কোন অর্থ কোন কাজে লাগাইবার জন্য পৃথক করিয়া রাখিলে তৎসম্পর্কে উত্তরূপ পৃথকীকরণের তারিখ হইতে ২১ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক উক্তরূপ অবহিত করার সময়-সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে, বা অনুরূপ অবহিতকরণে বিলম্ব হইয়া থাকিলে উক্ত বিলম্ব মার্জনা করিতে পারিবে।

২৫ । সংরক্ষিত নগদ তহবিল- (১) তফসিলী ব্যাংক ব্যতীত প্রতিটি ব্যাংক-কোম্পানী বাংলাদেশে সংরক্ষিত নগদ তহবিল হিসাবে উহার মেয়াদী ও চাহিবামাত্র দায় এর ৫% এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ নিজের কাছে, বা বাংলাদেশ ব্যাংক বা উহার প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংকে, বা উভয় ব্যাংকে সমান অংশে, মওজুদ রাখিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিশেষ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপণ দ্বারা এবং উহাতে এতদুদ্দেশ্যে শর্ত সাপেক্ষে, সংরক্ষিত নগদ তহবিল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তন করিতে পরিবে, অথবা সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে, টির প্রয়োজনীয়তা রহিত করিতে পরিবে ।

ব্যাখ্যা। এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন ব্যাংক-কোম্পানী পরিশোধিত মূলধন, বা সংরক্ষিত নগদ অর্থ বা উহার লাভ- ক্ষতির হিসাবে প্রদর্শিত দেনা, বা বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে গৃহীত কোন ঋণ, উহার “দায়” এর অন্তর্ভূক্ত হইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান মোতাবেক সংরক্ষিত তহবিল সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক যখন কোন তথ্য তলব করিবে, তফসিলী ব্যাংক ব্যতীত প্রত্যেক ব্যাংক-কোম্পানী সেই তথ্য সম্বলিত একটি বিবরণী উক্ত কোম্পনীর দুইজন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট দাখিল করিবে।

(৩) কোন ব্যাংক-কোম্পানী উপ-ধারা (২) এর বিধান মোতাবেক বিবরণী দাখিল করিতে ব্যর্থ হইলে উক্ত ব্যর্থতার প্রতি দিনের জন্য উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুর্ধ্ব দুই হাজার পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত বিবরণী হইতে যদি দেখা যায় যে, উহা দাখিল করিবার নির্ধারিত তারিখের পূর্বের যে কোন দিবসের কাজের সমাপ্তিতে বিবরণ দাখিলকারী ব্যাংক-কোম্পানী মওজুদ অর্থ

উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত ন্যূনতম নগদ অর্থ অপেক্ষা কম ছিল, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত কোম্পানীকে উক্ত ঘাটতির উপর উহাকে ব্যাংক রেট ৩% ভাগ বেশী যাবে উক্ত দিবসের জন্য জরিমানামূলক সুদ প্রদানের জন্য আদেশ দিতে পারিবে, এবং অনুরূপ পরবর্তী কোন বিবরণী হইতে যদি দেখা যায় যে, উহা দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্বের যে কোন দিবসের কাজের সমাপ্তিতেও উর কোম্পানীর মতন অর্থ উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত ন্যূনতম নগদ অর্থ অপেক্ষা কম ছিল, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত কোম্পানীকে উক্ত ঘাটতির উপর উহাকে ব্যাংক রেট অপেক্ষা ৫% বেশী হারে দিনগুলির জন্য জরিমানামূলক সুদ প্রদানের আদেশ দিতে পারিবে।

(৫) কোন ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক দাখিলকৃত বিবরণীর ভিত্তিতে উপ-ধারা (৪) এর অধীন যদি উত্তর ব্যাংক-কোম্পানী ব্যাংক রেটের উপর শতকরা ৫% ভাগ বেশী হারে জরিমানামূলক সুদ প্রদেয় হয়, এবং তৎপরবর্তী বিবরণী হইতে যদি দেখ যায় যে, উহার নিকট উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত নুন্যতম নগদ অর্থ অপেক্ষা কম অর্থ আছে তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক তৎকর্তৃক নির্ধারিত তারিখ হইতে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীকে নুতন আমানত গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উন্নত নির্দেশ অমান্য করিয়া কোন আমানত গৃহীত হইলে আমানত গ্রহণের প্রত্যেক তারিখের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ব্যাংক- কোম্পানীকে, উহাকে প্রদেয় অনুর্ধ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারিবে।

(৬) এই ধারার অধীন আরোপিত কোন জরিমানা, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করিতে হইবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে উহা যদি আদায় করা না হয় তাহা হইলে উহা সরকারী দারী (public demand) হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।

ব্যাংক কোম্পানীর কার্যাবলী ২ । দ্বিতীয় খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

২৬। সাবসিডিয়ারী কোম্পানী।– (১) কোন ব্যাংক-কোম্পানী নিম্নবর্ণিত কোন উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে কোন সাবসিডিয়ারী কোম্পানী গঠন করিতে পারিবে না যথা-

(ক) কোন ট্রাষ্ট পরিচালনা ও কার্যকর করা

(খ) নির্বাহক বা ট্রাম্মী হিসাবে বা অন্য কোন প্রকারে কোন সম্পত্তি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করা।

(গ) আমানতের নিরাপত্তা বিধানের জন্য নিরাপদ ভল্টের ব্যবস্থা করা

(ঘ) শরীয়তের নীতিমালা অনুসারে ব্যাংক ব্যবসায় পরিচালনা করা

(ঙ) বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিত পূর্বানুমতিক্রমে,-

(অ) কেবলমাত্র বাংলাদেশের বাহিরে ব্যাংক ব্যবসা পরিচালনা করা

(আ) অধিবাসীগণের নিকট হইতে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রাপ্ত এবং অবাধে হস্তান্তরযোগ্য আমানতের ভিত্তিতে ব্যাংক

ব্যবসা পরিচালনা করা

(চ) বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যে সকল ব্যবসাকে বাংলাদেশে ব্যাংক ব্যবসার প্রসার ও উন্নয়নের জন্য সহায়ক বা জনস্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয় বা অন্য কোনভাবে উপকারী বলিয়া মনে করে, সেই সকল ব্যবসার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানানুযায়ী ব্যতীত, কোন ব্যাংক-কোম্পানী গচ্ছিত গ্রহণ বা কথক ভিত্তিতে বা মালিকানা যত্নে অন্য কোন কোম্পানীর শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পরিমাণের মধ্যে যাহা কম হয় তাহা অপেক্ষা বেশী শেয়ার ধারণ করিবে না, যথা :-

(ক) উক্ত কোম্পানীর আদায়কৃত ও সংরক্ষিত মূলধনের মোট পরিমাণের ত্রিশ শতাংশ, অথবা

(খ) উক্ত কোম্পানীর আদায়কৃত মূলধনের ত্রিশ শতাংশ :

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন প্রবর্তনের তারিখে কোন ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক ধারণকৃত উত্তরূপ শেয়ারের পরিমাণ এই উপ-ধারায় অনুমোদিত পরিমাণের বেশী থাকিলে অনুরূপ ধারণের জন্য উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী দণ্ডণীয় হইবে না, যদি উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী-

(অ) অবিলম্বে ব্যাপারটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গোচরীভূত করে এবং

(আ) বাংলাদেশ ব্যাংক এতদুদ্দেশ্যে যে সময় নির্ধারণ করে, যাহা উক্ত প্রবর্তন হইতে দুই বৎসরের বেশী হইবে না, তাহার মধ্যে উক্ত শেয়ারের পরিমাণ এই উপ-ধারায় অনুমোদিত সীমার মধ্যে কমাইয়া আনেঃ

আরো শর্ত থাকে যে, কোন ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক ধারণকৃত শেয়ারের পরিমাণ সমষ্টিগতভাবে উহার মোট দায় এর শতকরা ১০ (দশ) ভাগ এর বেশী হইবে না।

(৩) উপ-ধারা (২) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোন ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ম্যানেজার কোন কোমপানীর পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট থাকেন বা উহাতে তাঁহার কোন মার্থ থাকে, তাহা হইলে, এই আইন প্রবর্তনের তারিখ হইতে এক বৎসর মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পর, সেই ব্যাংক-কোম্পানী উক্ত কোম্পানীতে, বা বন্ধকী বা মালিকানা যত্নে কোন শেয়ার ধারণ করিতে পারিবে না।

২৭। ঋণ ও অগ্রিম প্রদানের উপর বাধা-নিষেধ।-(১) কোন ব্যাংক-কোম্পানী,

(ক) উহার নিজস্ব শেয়ারকে জামানত হিসাবে রাখিয়া কোন ঋণ বা অগ্রিম প্রদান করিবে না।

(খ) বিনা জামানতে নিম্নবর্ণিত যাত্রি বা প্রতিষ্ঠানকে কোন ঋণ বা অগ্রিম মঞ্জুর করিবে না, অথবা এই সকল ব্যক্তি বা

প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায় গ্রহণের ভিত্তিতে কোন ঋণ ও অগ্রিম প্রদান করিবে না.

(অ) ইহার কোন পরিচালক

(আ) ইহার কোন পরিচালকের পরিবারের কোন সদ

(ই) এমন কোন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বা প্রাইভেট কোম্পানী যাহাতে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী বা উহার কোন পরিচালক বা উহার কোন পরিচালকের পরিবারের কোন সদস্য পরিচালক, মালিক বা অংশীদার রহিয়াছেন

(ঈ) এমন কোন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী, যাহা উচ্চ ব্যাংক-কোম্পানী বা উহার কোন পরিচালক বা উহার কোন পরিচলাকের পরিবারের কোন সদস্য কর্তৃক কোনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, অথবা যাহাতে উক্ত ব্যক্তিদের কাহারও এমন পরিমাণ শেয়ার থাকে যাহাদ্বারা তিনি অন্যূন বিশ শতাংশ ভোটদান ক্ষমতার অধিকারী হন।

(২) কোন ব্যাংক-কোম্পানী নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট পরিচালক ব্যতীত অন্যান্য পরিচালকগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদন ব্যাধিয়েকে কোন ক্ষণ বা অগ্রিম প্রদান করিবে না,

(ক) উহার কোন পরিচালক, বা

(খ) এমন কোন ব্যক্তি, বাণিজ্য-প্রতিষ্ঠান, কোন কোম্পানী, যাহার সহিত বা যাহাতে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর পরিচালক-অংশীদার, পরিচালক বা জামীনদাতা হিসাবে মার্থ সংশ্লিষ্ট রহিয়াছে।

ব্যাখ্যা এই উপ-ধারায় ‘পরিচালক’ বলিতে পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন, শ্যালক, শালিকা, ভগ্নিপতি, শ্বশুর, শাশুড়ী, পুত্রবধূ ও কন্যার স্বামীকেও বুঝাইবে।

(৩) বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কোন ব্যাংক-কোম্পানী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন ব্যক্তি বা সংস্থাকে এমন কোন সুবিধা দিতে পারিবে না যাহার পূর্ণ মূল্যমান-

(ক) উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর মোট মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশী বা

(খ) যেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সহজে বিপণন করা যায় এমন আর্থিক সিকিউরিটি দ্বারা উক্ত সুবিধার নিরাপত্তা বিধান করা হয়, উন্ন ব্যাংক-কোম্পানীর মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশী

তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোন ব্যাক্তি বা সংস্থাকে বা একই মালিকানাধীন বা গ্রোত্র ভুক্ত সংস্থাকে কোন ব্যাংক কোম্পানীর মোট মূলধনের ১০০% এর বেশী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধা দানের অনুমতি দিতে পারিবে না।

ব্যাখ্যা- (১) সুবিধা” বলিতে যে কোন ঋণ, অগ্রিম অথবা অন্য কোন ঋণ-সুবিধা, আর্থিক গ্যারান্টি অথবা এমন কোন দায়- দেনা যাহা কোন ব্যক্তি বা সংস্থার পক্ষে কোন ব্যাংক কোম্পানী গ্রহণ করিয়াছে তাহাকে বুঝাইবে এবং

(২) মোট মূলধনা বলিতে ধারা ১৩ মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকারের সিকিউরিটি, ফল-পত্র, আমানত দায় ইত্যাদিসহ মূলধন ও সংরক্ষিত তহবিলকে বুঝাইবে

(৪) প্রত্যেক ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রত্যেক মাস শেষ হওয়ার পূর্বে, উহার পূর্ববর্তী মাসের একটি বিবরণী বিধিদ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট দাখিল করিবে, এবং উক্ত বিবরণীতে নিম্নবর্ণিত বিষয় সমূহের উল্লেখ থাকিবে

ব্যাংক কোম্পানীর কার্যাবলী ২ । দ্বিতীয় খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

(ক) এমন কোন প্রাইভেট বা পাবলিক কোম্পানীকে মঞ্জুরীকৃত ঋণ বা অগ্রিম যাহাতে ব্যাংক-কোম্পানীটি বা উহার কোন পরিচালক উক্ত কোম্পানীর পরিচালক হিসাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট রহিয়াছেন এবং

(খ) এমন পাবলিক কোম্পানীকে মঞ্জুরীকৃত ঋণ বা অগ্রিম যাহাতে ব্যাংক-কোম্পানীটি বা উহার কোন পরিচালক ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধি বা জামিনদার হিসাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট রহিয়াছেন।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন দাখিলকৃত কোন বিবরণী পরীক্ষান্তে যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট হইা প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী উহার আমানতকারীগণের স্বার্থ হানি করিয়া উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত কোন ঋণ বা অগ্রিম প্রদান করিয়াছে, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিত আদেশ দ্বারা এই প্রকার আর কোন ঋণ বা অগ্রিম প্রদান না করার জন্য উক্ত ব্যাংক- কোম্পানীকে নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপ ঋণ বা অগ্রিম প্রদানের উপর বাধা-নিষেধ আরাপ করিতে পারিবে, এবং উক্ত আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রকার প্রদত্ত ঋণ ও অগ্রিম আদায় নিশ্চিত করিবার জন্যও উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীকে নির্দেশ দিতে পরিবে ।

২৮। ঋণ মওকুফের উপর বাধ-নিষেধ। (১) বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন কোন ব্যাংক-কোম্পানী উহ নিকট হইতে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত মণ্ডকৃষ্ণ করিবে না,

(ক) উহার কোন পরিচালক, এবং তাহার পরিবারের সদস্যবর্গ

(খ) এমন কোন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী যাহাতে ব্যাংক-কোম্পানীটির কোন পরিচালক, জামিনদার পরিচালক-অংশীদার, ম্যানেজিং এজেন্ট হিসাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট রহিয়াছেন, এবং

(গ) এমন কোন ব্যক্তি যাহার সহিত উত্ত ব্যাংক-কোম্পানীর কোন পরিচালক, অংশীদার বা জামিনদার হিসাবে বা সংশ্লিষ্ট রহিয়াছেন। (২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘনরুমে কোন ঋণ মওকুফ করা হইলে উহা অবৈধ হইবে এবং অনুরূপ মওকুফের জন্য দায়ী ব্যক্তি অনুর্ধ তিন বছর কারাদণ্ডে বা অনুর্ধ ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

২৯। অগ্রিম প্রদান নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা।– (১) বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, অগ্রিম প্রদানের ব্যাপারে সাধারণভাবে সকল ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক বা বিশেষভাবে কোন নির্দিষ্ট ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক অনুসরণীয় কিছু নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজনীয় অথবা সমীচীন, তাহা হইলে উহা অনুরূপ নীতি নির্ধারণ করিতে পারিবে, এবং এইরূপ কোন নীতি নির্ধারিত হইলে, তাহা সকল অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কোম্পানী অনুসরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতায় সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণভাবে সকল ব্যাংক-কোম্পানী বা কোন বিশেষ ব্যাংক-কোম্পানী বা বিশেষ শ্রেণীর ব্যাংক-কোম্পানীকে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহে বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণীয় নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে,

(ক) প্রদেয় ঋণের সর্বোচচ সীমা

(খ) অগ্রিমের মোট পরিমাণ এবং যত্ন পরিমানের বা অন্যবিধ ঋণের মধ্যে বজায়তব্য অনুপাত

(গ) যে সকল উদ্দেশ্যে অগ্রিম প্রদেয় বা প্রদেয় নয়

(ঘ) কোন ব্যাংক-কোম্পানী বা কোন বিশেষ শ্রেণীর ব্যাংক-কোম্পানী বা ব্যক্তি বা ব্যক্তি-গোষ্ঠিকে প্রদেয় অগ্রিমের সর্বোচচ সীমা

() অগ্রিমের জন্য জামানত এবং রক্ষিতব্য মার্জিন, এবং (চ) অগ্রিমের উপর আরোপিত সুদের হার।

(৩) উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) ও (খ) তে উল্লিখিত বিষয়ে কোন নির্দেশ পালনে কোন ব্যাংক-কোম্পানী ব্যর্থ হইলে তজ্জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, তৎকর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট জমা দিবার জন্য নির্দেশ দিতে পরিবে এবং উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী অনুরূপ নির্দেশ, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, পালন করিতে বাধ্য থাকিবে

তবে শর্ত থাকে যে, যে পরিমাণ অর্থের ব্যাপারে উক্ত ব্যর্থতা সংঘটিত হইয়াছে তাহা অপেক্ষা বেশী পরিমাণ অর্থ জমা দিবার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীকে নির্দেশ দিতে পরিবে না।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ বা উহার অংশ বিশেষ যে কোন সময় বাংলাদেশ ব্যাংক, লিখিত আদেশ দ্বারা, জমাদানকারী ব্যাংক-কোম্পানীর বরাবরে, নিঃশর্তে বা শর্ত সাপেক্ষে, অবমুক্ত করিয়া দিতে পারিবে ।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন