চৌকস ব্যবস্থাপনার ভিত্তি ও বিষয় বস্তু উপস্থাপনা পরিকল্পনা

চৌকস ব্যবস্থাপনার ভিত্তি: সকল ব্যবস্থাপককে লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে চৌকস হতে হবে। অর্থাৎ অতীত , বর্তমান , ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা রেখে লক্ষ্যে পৌঁছানোর কৌশল নির্বাচন করে প্রতিটি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হলে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত জ্ঞান অভিজ্ঞতার আলোকে সঞ্চিত ও বিস্তার লাভ করে থাকে।

চৌকস ব্যবস্থাপনার ভিত্তি ও বিষয় বস্তু উপস্থাপনা পরিকল্পনা

চৌকস ব্যবস্থাপনার ভিত্তি [ Basis of All round Management ]

দার্শনিক সক্রেটিস এজন্য জ্ঞান আহরণের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইনের মতে কেবল জ্ঞানই সাফল্যের জন্য দেই – অমন শক্তি দ্বারা একজন বাকি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কার্য লক্ষ্য অর্জনের বাহুর কাঠামো কল্পনায় দৃশ্যমান করতে পারে (imaginative Capacity) হয়ত তার মনে জ্ঞানের ধারণা অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সম্পর্কে সুচিন্তিত ধারণা লাভ। কিন্তু এতে দৃশ্যমান ভবিষ্যৎ কাঠামোর আলোকে বর্তমানকে গড়ে তোলা হয় না।

একজন ব্যাংক ব্যবস্থাপককে শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ম্যায্য মুনাফা অর্জন করতে হয়. কিন্তু মুনাফা অর্জন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যাদের স্বার্থ ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাদের প্রতি উদাসীন থাকলে চলবে না যথাসম্ভব সকল ব্যক্তিবর্গকে খুশী রেখে ব্যাংকের মালিকদের জন্য বেশী পরিমাণের মুনাফা অর্জনের প্রয়াস চালাতে হবে।

চৌকস ব্যাংক কর্মকর্তাবৃন্দ প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ কালে গৃহীত সিদ্ধান্তের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব বাস্তবতার নিরিখে পরিমাণ করে দেখেন। মনে রাখতে হবে ব্যাংকের সাফল্যের জন্য দক্ষ ও মানসম্পন্ন সেবা প্রধানের বিকল্প নেই। কিন্তু একাপ সেবা কতটুকু প্রযুক্তি নির্ভর হবে এবং এরূপ প্রযুক্তি আহরণে শ্রমিক মালিক তথা ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কোনরূপ প্রতিক্রিয়া হবে কিনা পূর্বাহ্ণেই তা আঁচ করে উপযুক্ত ব্যবস্থারতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে সমাজের কেবল ব্যবসায়ীরাই ব্যাংকের মক্কেল নয়। আরও অন্যান্য পেশার লোকজনও বাণিজ্যিক ব্যাংকের হয় আমানতকারী না হয় ঋণ মকেল, না হয় দুটিই। অপরপক্ষে ব্যবসায়ী মক্কেলগণত নানা ধরণের হতে পারে- কেউ পণ্য উৎপাদনকারী মর্কেল কেউ সেবা বিক্রয়কারী মকেল কেউবা ভোক্তা ত উৎপাদকদের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী ব্যবসায়ী মর্কেল। এসব ব্যবসায়ীদের কারও প্রতিষ্ঠান অনেক বড় কারো মধ্যম, আবার কেউ কেউ ছোট প্রতিষ্ঠানের মালিক।

ব্যাংক ব্যবস্থাপককে এসকল প্রকার মক্কেলের সঙ্গে সফলতার লক্ষ্যে সুসম্পর্ক রেখে লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়। লেনদেন চলাকালে এদের ব্যবসায়ীক ক্রিয়াকাণ্ড সম্পর্কে আলাপচারীতা ও অবগতি আবশ্যক অর্থাৎ একজন সফল ব্যাংক ব্যবস্থাপককে সকল ধরনের মক্কেলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে ইতিবাচক লেনদেন সম্পন্ন করতে হলে প্রত্যেক মক্কেল তার ব্যবসায়/পেশা ও তার আচরণ সম্পর্কে অল্প বিস্তর খবর রাখতে হয়। আর চৌকস ব্যাংক ব্যবস্থাপককে অবশ্যই সকল মর্কেল সম্পর্কে সবকিছু না হলেও কিছু কিছু জানতে হয়। অর্থাৎ not all but something of everything” কিন্তু মর্কেল সম্পর্কে স্বয় অবগতিত দরদপূর্ণ হতে হবে। তাচিছল্যতা পূর্ণ নয়।

চৌকস ব্যবস্থাপনার ভিত্তি ও বিষয় বস্তু উপস্থাপনা পরিকল্পনা

বিষয় বস্তু উপস্থাপনা পরিকল্পনা [ Plan of Presentation of the Subject Matter ]

সর্বমোট পনেরটি অধ্যায়ে বইয়ের মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হয়েছে। অধিকন্তু পুস্তকের শেষার্ধে পরিশিষ্ট হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ১৯৯১ ছাড়াও ছাত্রদের চাকরী অথবা বিভাগীয় মৌখিক পরীক্ষায় সচরাচর জিজ্ঞাসা করা হয়ে থাকে এমন ব্যাংকিং টার্মসমূহ বা নির্বাচিত কতিপয় টার্মের বহুল প্রচারিত (Abbreviation) গুলো পরিবেশিত হয়েছে।

পুস্তকের প্রথম তিনটি অধ্যায়ে অবতরণিকাসহ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংক ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে যে অধ্যায়গুলো রচিত হয়েছে সেগুলো হল। যথা বা বিনিয়োগ ও ব্যাংকের সাফল্য পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা (অধ্যায়-৪) এতভিন্ন আমানত ব্যবস্থাপনা (অধ্যায়-৫) পুঁজি ব্যবস্থাপনা (অধ্যায়-৬)। ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহার এতদ্বউভয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ট সংযোগ রেখে পুস্তকে দুটি অধ্যায়ের সংযোজন করা হয়েছে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা (অধ্যায়) এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা (অধ্যায়-৮)।

ব্যাংকের মুখ্য মূনাফা অর্জনকারী কার্যক্রম ঋন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ও ঋণ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত সমস্যাদি নির্দেশক নির্বাচিত কতিপয় কেসসহ সর্বমোট চারটি অধ্যায় বর্তমান পুস্তকে পরিবেশিত হয়েছে। ব্যাংক ঋণের প্রাথমিক ধারণা ও নীতি (অধ্যায়-৯)-এ ব্যাংক ঋণ প্রশাসন ও কর্মপন্থ। (অধায়-১০) এ এবং সমস্যাগ্রস্থ ব্যাংক ঋণের গতিপ্রকৃতি ও এ সম্পর্কে করণীয় বিষয় বস্তু (অধ্যায়-১১)-এ উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার ঋণ যথা- প্রকল্প ক্ষণ আমদানী রপ্তানী ঋণ ইত্যাদির সমস্যা সম্পর্কে শ্রেণীকক্ষে তথা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশ্লেষণাত্মক আলোচনার জন্য অর্ধশতের বেশী নির্বাচিত কেস ত্রয়োদশ অধ্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ব্যাংকের তহবিলের দ্বিতীয় স্তরের মুনাফা অর্জনকারী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অত্র পুস্তকের দ্বাদশ অধ্যায়ে বিনিয়োগ নীতি বিনিয়োগ ঝুঁকি ব্যবস্থাকরণ ও বিনিয়োগের নিমিত্তে পত্র নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ চতুর্দশ অধ্যায়ে পরিবেশন করা হয়েছে।

চৌকস ব্যবস্থাপনার ভিত্তি ও বিষয় বস্তু উপস্থাপনা পরিকল্পনা

পরিশেষে, ব্যাংক ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ/নির্দেশনা সমূহ ও বিধিবিধান সহ বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তি নির্ভর অত্যাধুনিক ব্যাংক সেবা পদ্ধতিসহ দুটি অধ্যায় বর্তমান পুস্তককে সমৃদ্ধ করছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। বিশ্বব্যাপি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কৌশল বা হাতিয়ারসমূহ সহ বাংলাদেশের ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কতিপয় নির্বাচিত নির্দেশনা পুস্তকের চতুর্দশ অধ্যায়ে পরিবেশিত হয়েছে।

অত্র পুস্তকের পঞ্চদশ অধ্যায়ে প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ব্যাংক সেবা প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা, ব্যবহারে যৌক্তিকতা, খুচরা ইলেকট্রনিক ব্যাকিং প্রক্রিয়াসমূহ, পাইকারী ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং প্রক্রিয়াসমূহ ছাড়াও বাংলাদেশে ইলেকট্রনি ব্যাংকিং-এর বর্তমান চালচিত্র, প্রয়োগ সমস্যা ও লাভজনক প্রয়োগ ও ব্যাপক প্রসার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্বাচিত সুপারিশসমূ উপস্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন