পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক [ Palli Sanchay Bank ]

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক [ Palli Sanchay Bank ] প্রতিষ্টিত হয়েছে একটি প্রকল্প থেকে। দারিদ্র্য বিমোচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প (বতর্মান নাম আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প) গ্রহণ করা হয় ২০০৯ সালে। উক্ত প্রকল্পের কার্যক্রমকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এর লোগো, Logo of Palli Sanchay Bank
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এর লোগো, Logo of Palli Sanchay Bank

ব্যাংকের মূললক্ষ্য দেশের দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদেরকে নিয়ে সমিতি করে সমিতির তহবিল গঠন, সদস্যদের সঞ্চয় প্রবনতা বৃদ্ধি, দরিদ্র জনগণের দারিদ্র্যতা বিমোচন, নারীদেরকে আয় বধর্ক কাজে নিয়োজিত করেআর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করা , অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবংনারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, সমিতি ও সদস্যদের সঞ্চয় ও অর্জিত সম্পদের লেনদেন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ ও অগ্রিম প্রদান ইত্যাদি কার্যাদি সম্পাদনের মাধ্যমে দেশ থেকে দারিদ্যতা বিমোচন করা।

নারীদের ক্ষমতায়ন এবং তাদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রতিটি সমিতিতে ৬০ জন সদস্যের মধ্যে ৪০ জন মহিলা সদস্য রয়েছে। ব্যাংক সমিতি সমূহের এসএনডি হিসাব, সদস্যদের সঞ্চয়ী আমানত হিসাব, মাসিক ডিপোজিট হিসাব, স্কুল ব্যাংকিং হিসাব ইত্যাদি পরিচালনা করছে। সমিতির সদস্যের কৃষি পণ্য যাতে কম মূল্যে বিক্রি করতে না হয় তার জন্য স্বল্প সেবা মূলে ঋণ প্রদানসহ অন্যন্য বিভিন্ন উৎপাদমূখি খাতে স্বল্প সেবা মূল্যে ঋণ প্রদান করে থাকে। ব্যাংক ১ লক্ষ উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদেরকে প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সেবা মূল্যে ঋণ প্রদান করছে। ব্যাংক সদস্যগণের উন্নয়নকল্পে নতুন নতুন খাতে ঋণ প্রদান করছে।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন অনুযায়ী প্রকল্পের আওতায় ৩০/০৬/২০১৬ তারিখের পূর্বে গঠিত ৪০২১৬টি সমিতির দায় ও সম্পদ ইতোমধ্যে ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে গঠিত সমিতি সমুহের মধ্যে তহবিল গঠণ শেষে পর্যায়ক্রম ব্যাংকে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ৫৭২৯৩টি গ্রাম সমিতি ৩২ লক্ষ সদস্য এবং তহবিলসহ ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রকল্প মেয়াদ আগামী জুন, ২০২০ সালে শেষ হলে বাকী সমিতি সমূহ ব্যাংকে স্থানান্তরিত হবে। প্রকল্প হতে সকল সমিতি স্থানান্তরের পর মোট সমিতি সংখ্যা হবে ১.২০ লক্ষ এবং সদস্য সংখ্যা হবে প্রায় ৫৫ লক্ষ। সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ সমিতি সমুহ পরিচালিত হচ্ছে।

সমিতি সমূহের সদস্যদের আর্থিক সেবা প্রদানের জন্য ৪৮৫ টি উপজেলা সদরে ব্যাংকের নিজস্ব ভবনে শাখা স্থাপন করা হয়েছে এবং আরো ৫টি উপজেলা সদরে শাখা স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে। ব্যাংকের প্রতিটি জেলায় অধিকাংশ নিজস্ব ভবনে জেলা কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। জেলা কার্যালয় শাখাগুলোকে তদারকি করে থাকে।

ব্যাংকের অনুমোদিত জনবল ৮৮২৫ জন। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে মাঠ কর্মী কর্মরত রয়েছে। ব্যাংক উহার নিজস্ব অনলাইন ব্যাংকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে সদস্যদের আর্থিক সেবা প্রদান করছে। আর্থিকসেবা সদস্যদের কাছে আরো সহজলভ্য করার জন্য চালু করা হয়েছে ব্যাংকের নিজস্ব ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘‘পল্লীলেনদেন’’। প্রতিটি সমিতিতে একজন করে সদস্যকে লেনদেন ম্যানেজার (এজেন্ট) নিয়োগ করা হচ্ছে যারা গ্রামে বসেই সদস্যদের অর্থ লেনদেন করছেন।

 

 

এ সেবার মাধ্যমে একদিকে লেনদেন ম্যানেজারগনের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সমিতির সদস্যগণের প্রবাসে থাকা তাদের আত্নীয় স্বজনদের প্রেরীত রেমিটেন্স পল্লীলেনদেন ম্যানেজারগনের মাধ্যমে এলাকা থেকে উত্তোলণ করতে পারবেন। তা‘ছাড়া এ সেবার মাধ্যমে যাবতীয় বিল প্রদান ও সরকার কর্তৃক প্রদেয় বিভিন্ন ভাতাদি উত্তোলণ করা যাবে।

সদস্যগণকে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য উপজেলা সদরে অবস্থিত শাখায় আসতে হচ্ছে না। ফলে সদস্যদের শ্রম ও ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। সদস্যগণ তাদের নিজস্ব মোবাইলের মাধ্যমে যাবতীয় ব্যাংকিং কাযর্ক্রম সম্পাদন করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সেবাটির মাধ্যমে সদস্যগণ ঘরে বসেই নিজস্ব মোবাইলের মাধ্যমে যাবতীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবেন।

সমিতির সদস্যগণের উপৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণের নিমিত্তে ব্যাংক অনলাইন ই-কমার্স সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে। এ সিস্টেমে সদস্যগণের উৎপাদিত পণ্য যথাযথ মূল্যে বিক্রি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সেবামূল্য মাত্র ৮% এবংএসএমই ঋণের সেবামূল্য মাত্র ৫%।

গ্রাম সমিতির সদস্য তথা ব্যাংকের গ্রাহকগণ অত্যন্ত দরিদ্র শ্রেণীর। এসকল সদস্যগণ তাঁদের বাড়িতে আয় বধর্ক কৃষিজ খামার স্থাপন করে আয়বৃদ্ধি পূর্বক দারিদ্র্যতা বিমোচনে সচেষ্ট আছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, সদস্যদের ৩৩% গবাদি প্রানী পালন, ২১% সদস্য হাঁস-মুরগী পালন, ১১% সদস্য মৎস্য চাষ ও ১২% সদস্য কৃষি খামার স্থাপনে অর্থ বিনিয়োগ করে থাকেন।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের দেশের দরিদ্র জনগণের দারিদ্র্যতা বিমোচনের এগিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূণ ভূমিকা পালন করছে।

 

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ভিশন ও মিশনঃ

পল্লী এলাকার দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সঞ্চয় ও অর্জিত অর্থ লেন-দেন, রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ ও অগ্রিম প্রদান এবং বিনিয়োগ করা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। যা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের সাথে এসডিজি অভীষ্ঠ-১ (নো পোভার্টি) অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারঃ

আমার বাড়ি আমার খামার (পূর্বের একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্পের আওতায় গঠিত সমিতি এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনুরূপ সমিতি। এ অধিকার দেয়ার মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মত দরিদ্র মানুষের মালিকানা দিয়ে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে দরিদ্রবান্ধব এবং জনদরদী নেতা সেটি আবারো প্রমাণিত হয়েছে।

পরিশোধিত মূলধনঃ

ব্যাংকের পরিশোধিত শেয়ার মূলধন দুইশত কোটি টাকা, যার ৫১% (১০২ কোটি টাকা) সরকার কর্তৃক এবং ৪৯% (৯৮ কোটি টাকা) প্রকল্পের সমিতিসমূহ কর্তৃক পরিশোধিত। সরকার ইতোমধ্যে ২১৫ কোটি টাকা প্রদান করেছে। সমিতিসমুহ ৮২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। বাকী টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।

অনুমোদিত মূলধনঃ

এক হাজার কোটি টাকা যা একশত টাকার দশ কোটি শেয়ারে বিভক্ত;

পরিচালনা বোর্ডঃ

১। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধি ২। মহাপরিচালক, বিআরডিবি ৩। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাইক্রোফাইন্যান্স, হিসাব বিজ্ঞান এবং পরী ও দারিদ্র্য বিমোচন এবং ক্ষুদ্র, মাঝারী ও কুঠির শিল্প বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিগণের মধ্য হতে সরকার কর্তৃক মনোনীত ০৫ জন প্রতিনিধি ৪। সরকার কর্তৃক মনোনীত ০২ জন উপজেলা পরিষদ চেয়ারেম্যান ৫। ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ৬। শেয়ার হোল্ডার সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে প্রতি প্রশাসনিক বিভাগ হতে ০১ জন পরিচালক নিয়ে বোর্ড গঠিত।

 

 

ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য কার্যাবলীঃ

  • সমিতি ও সদস্যগণকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য, নির্ধারিত মেয়াদ ও শর্তসাপেক্ষে জামানতসহ বা ব্যতীত, নগদ বা বস্তুগত ঋণ প্রদান;
  • সদস্যদের অনুকূলে ক্ষুদ্র ঋণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী মাত্রার ঋণ প্রদান;
  • সদস্যদের উৎপাদিত পণ্য গুদামজাতকরণ ও বিপণনের সুযোগ সৃষ্টি এবং তদউদ্দেশ্য ঋণ প্রদান;
  • নতুন সমিতিকে নিবন্ধন প্রদান ও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণের বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন;
  • সমিতির পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান;
  • সদস্যদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কিত জরিপ ও গবেষণা পরিচালনা, পরিসংখ্যান সংরক্ষণ ও প্রকাশ;
  • সদস্যগণকে জীবিকা ভিত্তিক আয়বর্ধক ক্ষুদ্র খামার, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কুঠির শিল্প এবং সেবা প্রকল্পে বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধকরণ এবং পেশাগত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান;
  • সদস্যগণকে কুঠির শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক দ্রব্য, গবাদি পশু, যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি এবং কুটির শিল্পের কাঁচামাল ক্রয় ও মজুতকরণের জন্য ঋণ সরবরাহ এবং এরূপ পণ্য বা গবাদি পশু বিক্রয়ের জন্য কোন সংস্থার পক্ষে উহার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা;

 

 

ব্যাংকের শাখাঃ

বর্তমানে ৪৮৫টি উপজেলায় ব্যাংকের শাখা কাজ করছে। নতুন সৃষ্ঠ আরো ৫টি উপজেলায় শাখা খোলা কার্যক্রম চলমান আছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাংকের নিজস্ব কর্মী আছে। যারা সরাসরি গ্রাহকদের কাছে গিয়ে সেবা প্রদান ও সমিতিসমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।

ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনঃ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ জুন, ২০১৬ খ্রি: তারিখে গণভবন হতে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে পরী সঞ্চয় ব্যাংকের ১০০টি শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে সদয় উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে আরো ৩৮৫টি শাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স গ্রহণ করে চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:

“পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক [ Palli Sanchay Bank ]”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন