“পুরাতন জাহাজ কেস” [ কেস নং-৪৪ ]

“পুরাতন জাহাজ কেস” [ কেস নং-৪৪ ]

“পুরাতন জাহাজ কেস” [ কেস নং-৪৪ ]

“পুরাতন জাহাজ কেস

পুরাতন জাহাজের ব্যবসা চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকদের জন্য একটি পুরানো ব্যবসা। এ রকমই একজন ব্যবসায়ী “জিয়া সওদাগর” পুরাতন জাহাজ ক্রয় করে সেটা স্টীল রিরোলিং মিলের কাছে বিক্রি করাই তার কাজ। পুরাতন জাহাজ (Scrap Vessel) এর দাম পড়ে ৫/১০ কোটি টাকা। জিয়া সওদাগর একবার জার্মানীর মালিকানার একটি জাহাজ ক্রয় করার উদ্দেশ্যে “চাঁটগা” বাংকে একটি Ur খুলে, যার মূল্যমান ছিল ৮ কোটি টাকা।

নিয়ম থাকে যে, জাহাজটি Physical Delivery হবার পরে ক্রেতা, বিক্রেতাকে ব্যাংকের মাধ্যমে দলিল পত্রাদি ও টাকা বুঝে দেবে। যথা সময়ে জিয়া সওদাগর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী Letter on trus Reccine (LTR) 48 ভিত্তিতে জাহাজটি বুঝে নেয় এবং ব্যাংকের সাথে জিয়া অংগীকারবদ্ধ হয় যে, সে জাহাজটি কেটে কেটে বিক্রী করতে থাকবে এবং একই সাথে ব্যাংকের দেনা Adjust করবে।

চুক্তি অনুযায়ী জিয়া এভাবে কোটি টাকা পর্যন্ত দেনা পরিশোধ করে। এমতাবস্থায় জিয়া ব্যাংকের কাছে আবারও ৮ কোটি টাকা মূল্য মানের একটি জাহাজ ব্যাংকের কাছে জা করার জন্য গ্রুপ আবেদন করল। ব্যাংক তা যথা সময়ে করল। এখানে উল্লেখ্য যে, অন্যান্য জিনিস পত্রের মত একটি জাহাজ ব্যাংকের জন্য গুদামে রাখা সম্ভব নয়।

ইহা একটি Open Plodge যা সমুদ্রের চরে অবস্থান করে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই সময়ে চট্টগ্রামে প্রচন্ড জলোচনাস হয়, এবং জাহাজ দুটি পানিতে (গভীর সাগরে) তলিয়ে যায় এবং উদ্ধার করাও অসম্ভব হয়ে উঠে। জিয়া সওদাগর তখন ব্যাংকের দেনা পরিশোধে পুরোপুরি অপরগতা প্রকাশ করে।

একজন ব্যাংক কর্মকর্তা অথবা ব্যাংকিং ছাত্র হিসেবে এরূপ ক্ষতির বিপক্ষে অর্থায়নকারী ব্যাংকের কিছু করার ছিল কিনা? তা উল্লেখ করুন।

“জসিম স্পিনিং মিল কেস” [ কেস নং-৪৫ ]

পুরাতন জাহাজ কেস

মিঃ জসিম নামে একজন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রায় ৫০ কোটি টাকা X ব্যাংকের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে জসিম স্পিনিং মিল” নামে একটি স্পিনিং মিল গড়ে তুলেন। উল্লেখ্য ব্যাংকে এখানে জসিমের এই শিল্পে পূর্ব অভিজ্ঞাতা ও পর্যন্ত জামানত সম্পর্কে ছিল উদাসীন।

ব্যবসায়ের শুরুর দিকে তার মিল Debi / Equity Ratio ছিল ৭০:৩০। প্রথম দুই. এক বছর মিলের মুনাফা ভালই ছিল। এদিকে মিঃ জসিম স্পিনিং মিলের পাশাপাশি একটি ব্যাংক ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিদেশ থেকে প্রচুর সুতা আমদানী হওয়ায় জসিম স্পিনিং মিল প্রতিযোগিতায় মার খায় এবং দিনে দিনে তার ব্যবসায়ের ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এদিকে জসিমের সক্রি রাজনীতি ও ‘ডি’ নামে নুতন একটি ব্যাংক ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি স্পিনিং মিলটি চালাতে সম্পূর্ণরূপে বর্ণ হন। এমনকি মিলের Debt এর পরিমান ১০০% হয়ে যায়। ব্যাংক জসিমের সাথে অনেক যোগাযোগ করেও ঋণের কোন সুরাহা করতে পারেনি। এবং দিনে দিনে জসিম রাজনীতির দিক দিয়ে আরও বেশি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে সে এখন একটি বেসরকারী ইউনিভার্সিটির উপদেষ্টাও বটে।

এ রকম একজন মক্কেলের বিরুদ্ধে ব্যাংকের কি করণীয় আছে বলে আপনি মনে করেন? অথবা জসিম স্পিনিং মিলের এই দূরবস্থার পূর্বেই কি ব্যাংকের কিছু করণীয় ছিল ?

“কসকো ভেজিটেবল অয়েল কেস” [ কেস নং- ৪৬ ]

পুরাতন জাহাজ কেস

“কসকো ভেজিটেবল অয়েল” বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব তৈল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। তারা বিদেশ হতে সোয়াবিন তেল আমদানী করে শোধনকরে দেশীয় বাজারে বিক্রী করত। কিন্তু ক্রমাগত লোকসান দেয়ার পর সরকার এটিকে একটি রুগ্ন শিল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং বিক্রীর উদ্যোগ নেয়। তখন দেশের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তা অত্যন্ত কম দামে কিনে নেয়।

প্রতিষ্ঠানটি ক্রয়ের পর তা সুষ্ঠুভাবে চালানোর অজুহাতে তিনি ব্যাংকের কাছে চলতি মূলধনের জন্য আবেদন জানান এবং তেল আমদানীক জন্য ব্যাংকে একটি ২০ কোটি টাকার L/C খোলেন। যথারীতি আমদানীকৃত পণ্য বন্দরে এসে পৌঁছায়। কিন্তু তখন উক্ত আমদানীকারক ব্যাংকে জানান যে তার কাছে পণ্য ছাড়িয়ে নেবার মত যথেষ্ট অর্থ নেই তাই তিনি ব্যাংককে তার হয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নেবার অনুরোধ জানান এবং Pledge পদ্ধতিতে গ্রুপ-এর জন্য আবেদন করেন।

ব্যাংক বাধ্য হয়ে তার অনুরোধ রাখে। এরপর তিনি ব্যাংকের গোডাউন হতে কিস্তি পরিশোষের মাধ্যমে মাত্র এক কোটি টাকার পণ্য ছাড়িয়ে নেয়ার পর ব্যাংকের সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ব্যাংক সর্ব প্রকার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগযোগে কর্ণ হয়ে লোকসান হ্রাসের লক্ষ্যে বাকী পণ্য বিক্রীর উদ্যোগ নেয়।

কিন্তু ব্যাংকে দেখতে পায় যে, আমদানীকৃত অধিকাংশ তেলের ড্রামে তেল নয়। পানি রয়েছে। ব্যাংক পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধান করে জানতে পারে উক্ত অসৎ আমদানীকারক পণ্য আমদানীর পূর্বেই সরবরাহকারীর সাথে যোগসাজশ করে এই অপকর্ম করেছে।

ব্যাংকের একজন এক্সিকিউটিভ / ব্যাংকিং বিভাগের একজন ছাত্র হিসেবে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষার জন্য তোমার মতামত দাও এবং কি ব্যবস্থাগ্রহন করলে ব্যাংক এই অবস্থায় পর্যবসিত হতোনা- তা ব্যাখ্যা কর।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন