ব্যাংক-কোম্পানীর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক-কোম্পানীর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক-কোম্পানীর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক-কোম্পানীর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন । পঞ্চম খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

৫৮। ব্যাংক কোম্পানীর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন। (১) বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে রিপোর্ট প্রাপ্তির পর যদি সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে,

(ক) ধারা ২৯ বা ধারা ৪৫ এর অধীন ব্যাংক-নীতি সম্পর্কিত লিখিত নির্দেশনা পালন করিতে কোন ব্যাংক কোম্পানী একাধিকবার ব্যর্থ হইয়াছে, বা

(খ) আমানতকারীদের ক্ষতি হইতে পারে এমন পদ্ধতিতে কোন ব্যাংক কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হইতেছে, এবং উক্ত ব্যাংক কোম্পানীর আমানতকারীদের মার্থে, ব্যাংক-নীতির স্বার্থে, সাধারণভাবে বা কোন বিশেষ এলাকায় ঋণ প্রদানের জন্য উন্নততর ব্যবস্থার স্বার্থে, উক্ত ব্যাংক কোম্পানীর কোন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন করা প্রয়োজন তাহা হইলে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত আলোচনাক্রমে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা, উক্ত কোম্পানী, অতঃপর অধিগৃহীত ব্যাংক বলিয়া উল্লিখিত, এর প্রতিষ্ঠান উক্ত আদেশে নির্ধারিত তারিখ হইতে, অতঃপর নির্ধারিত তারিখ বলিয়া উল্লিখিত, অধিগ্রহণ করিতে পরিবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেশের মুক্তিসাগর সুযোগ না দিয়া কোন ব্যাংক-কোম্পানীর কোন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন করা যাইবে না।

ব্যাখ্যা- এই খণ্ডে, বাংলাদেশের বাহিরে নিবদনকৃত কোন ব্যাংক কোম্পানীর ক্ষেত্রে, “প্রতিষ্ঠান বলিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উন্ন কোম্পানীর অনুরূপ বুঝাইবে।

(২) এই আশের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, অধিগৃহীত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান এবং উক্ত সকল সম্পদ ও নার নির্ধারিত তারিখে সরকারের নিকট হস্তান্তরিত এবং সরকারের উপর ন্যস্ত হইবে।

(৩) অধিগৃহীত ব্যাংকের সকল অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধাদি এবং উহার নগন সম্বিত তহবিল, বিনিয়োগ, গতিস্থত অর্থসহ সকল স্থানের ও অস্থাবর সম্পত্তি এবং উন্ন সম্পত্তিতে অধিগৃহীত ব্যাংকের অন্যান্য সকল মার্থ এবং অধিকার, যাহা নির্ধারিত তারিখের পূর্বে উক্ত ব্যাংকের দখলে বা অধিকারে ছিল, এবং উহার সকল হিসাবের বই, রেকর্ডপত্র, দলিল দস্তাবেজ, এবং উহার সকল প্রকার দেনা, দায় ও দায়িত্ব অধিগৃহীত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও পায়ের অন্তর্ভূক্ত হইবে।

(৪) উপ-ধারা (২) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, সরকারের উপর ন্যস্ত অধিগৃহীত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান ও উহার সম্পদ ও দায় সরকারের উপর ন্যস্ত হওয়া বা ন্যস্ত থাকার পরিবর্তে উহা এই আশের অধীন প্রণীত কোন স্কীম এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত কোন কোম্পানী বা কর্পোরেশন, অতঃপর এই খণ্ডে হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংক বলিয়া উল্লিখিত, এর উপর ন্যস্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়, তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশের দ্বারা, এই মর্মে নির্দেশ দিতে পারিবে যে, উ প্রতিষ্ঠান, সম্পদ ও দায় উক্ত আদেশ প্রকাশনার তারিখ বা উহাতে উল্লিখিত অন্য কোন তারিখ হইতে হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংকের উপর ন্যস্ত হইবে।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন অধিগৃহীত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান ও উহার সম্পদ ও নায় হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংকের উপর ন্যস্ত হইলে, ন্যস্ত হওয়ার তারিখ হইতে হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংক অধিগৃহীত ব্যাংকের হস্তান্তর গ্রহীতা বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত তারিখ হইতে অধিগৃহীত ব্যাংক সম্পর্কিত সকল অধিকার ও দায় হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংকের অধিকার ও দায় বলিয়া গণ্য হইবে।

(৬) এই খণ্ডে স্পষ্ট বিধান না থাকিলে বা তদধীনে অনরূপ বিধান করা না হইলে, নির্ধারিত তারিখের পূর্বে বিদ্যমান বা কার্যকর যে কোন ধরণের চুক্তি, লিখিত প্রতিশ্রুতি, আমোক্তারনামা, আইনানুগ প্রতিনিধির সম্মত্তি পত্র এবং অন্যান্য সকল প্রকার দলিল, যাহাতে অধিগৃহীত ব্যাংক একটি পক্ষ বা যাহা অধিগৃহীত ব্যাংকের অনুকূলে সম্পাদিত হইয়াছে, সরকার বা হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে বা অনুকূলে সম্পূর্ণরূপে বলবৎ এবং কার্যকর হইবে যেন উহাতে অধিগৃহীত ব্যাংকের স্থলে, সরকার বা, ক্ষেত্রমতে, হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংক পক্ষ ছিল এবং উহা সরকার বা হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে বা অনুকূলে সম্পাদিত হইয়াছিল।

(৭) যদি নির্ধারিত তারিখে অধিগৃহীত ব্যাংকের দ্বারা দায়েরকৃত বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মোকদ্দমা, আপীল বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা বিচারের অপেক্ষায় থাকে, তাহা হইলে উহা চালু থাকিবে এবং উহা সরকার বা ক্ষেত্রমত, অধিগৃহীত ব্যাংকের দ্বারা বা বিরুদ্ধে বুজ হইয়াছিল বলিয়া গণ্য হইবে।

ব্যাংক-কোম্পানীর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন । পঞ্চম খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

৫৯। সরকারের স্কীম প্রণয়ণের ক্ষমতা।– (১) সরকার, এই খন্ডের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন অধিগৃহীত ব্যাংকের ব্যাপারে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় স্কীম প্রণয়ন করিতে পরিবে।

(২) বিশেষতঃ উপরিউল্লিখিত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ণ না করিয়া, উক্ত স্কীমে নিম্নলিখিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান থাকিতে পারে, যথা :-

(ক) অধিগৃহীত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান ও উহার সম্পদ ও দায় যে কর্পোরেশন বা কোম্পানীর নিকট হস্তান্তরিত হইবে উহার গঠন, মূলধন, নাম ও দপ্তর;

(খ) হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের প্রথম ব্যবস্থাপনা বোর্ড, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর গঠন, এবং সরকার কর্তৃক প্রয়োজনীয় ও সমীচীন বলিয়া বিবেচিত উক্ত বোর্ডের সহিত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়;

(গ) যে শর্তে অধিগৃহীত ব্যাংকের কর্মচারীগণ চাকুরীতে নিয়োজিত ছিল সেই শর্তে তাহাদিগকে সরকার বা ক্ষেত্রমত, হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের চাকুরীতে বহাল রাখার বিষয়;

(ঘ) কোন ব্যক্তি নির্ধারিত তারিখে অধিগৃহীত ব্যাংক হইতে বা কোন ভবিষ্যত তহবিল, পেনশন বা অন্য তহবিল হইতে বা উক্ত তহবিল পরিচালনাকারী কোন কর্তৃপক্ষ হইতে পেনশন বা চাকুরীর মেয়াদ সমাপ্তিজনিত বা সহানুভূতিমূলক ভাতা বা অন্য কোন সুবিধা পাইতে অধিকারী হইলে বা নির্ধারিত তারিখে এবং উহার পূর্ব হইতে পাইতে থাকিলে, তাঁহাকে সেই পেনশন, ভাতা বা সুবিধা, উহা প্রদানের শর্ত মানিয়া চপা সাপেক্ষে, সরকার বাগ ক্ষেত্রমত, হস্তান্তগ্রহীতা ব্যাংক কর্তৃক প্রদান করা বা প্রদান অব্যাহত রাখার বিষয়;

(ঙ) এই খণ্ডের বিধান মোতাবেক অধিগৃহীত ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারগণকে, এবং অধিগৃহীত ব্যাংক বাংলাদেশের বাহিরে নিবশনকৃত কোন ব্যাংক কোম্পানী হইলে, অধিগৃহীত ব্যাংককে, তাহাদের বা উহার দাবীর পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পদ্ধতি নির্ধারণ

(চ) অধিগৃহীত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান বা উহার কোন সম্পদ বা দায়ের কোন অংশবিশেষ বাংলাদেশের বাহিরে কোন দেশে থাকিলে উহা সরকার বা ক্ষেত্রমত, হস্তান্তগ্রহীতা ব্যাংকের নিকট কার্যকরভাবে হস্তান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ

(ছ) সরকার বা, ক্ষেত্রমত, হস্তগ্রহীতা ব্যাংকের নিকট অধিগৃহীত ব্যাংকের ব্যবসা, সম্পদ এবং দায় এর কার্যকর ও পূর্ণ হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অনুবর্তী, আনুষাংগিক এবং সম্পূরক বিষয়।

(৩) সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই ধারার অধীন প্রণীত কোন স্কীমে প্রয়োজনীয় সংযোজন বা উহার সংশোধন বা পরিবর্তন করিতে পারিবে।

(৪) এই ধারার অধীন প্রণীত সকল স্কীম সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হইবে।

(৫) এই ধারার অধীন সকল স্কীম প্রণয়নের পর উহার অনুলিপি, যথাশীঘ্র সম্ভব, জাতীয় সংসদে পেশ করিতে হইবে।

(৬) এই অধ্যাদেশের অন্য কোন বিধানে বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন, চুক্তি রোয়েদাদ বা অন্য কোন দলিলে ভিন্নরূপ কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও, স্কীম সম্পর্কিত এই অংশের বিধানাবলী কার্যকর হইবে।

(৭) এই ধারার অধীন প্রণীত স্কীম সরকার বা হস্তাদগ্রহীতা ব্যাংক, এবং অধিগৃহীত ব্যাংক ও হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের সকল সদস্য, পাওনাদার, আমানতকারী ও কর্মচারী এবং অধিগৃহীত ব্যাংক বা হস্তান্তরগৃহীতা ব্যাংকের ব্যাপারে বা সম্পর্কে অধিকার, দায় বা ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য সকল ব্যক্তির উপর বাধ্যতামূলক হইবে।

ব্যাংক-কোম্পানীর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন । পঞ্চম খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

৬০। অধিগৃহীত-ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারগণকে ক্ষতিপূরণ প্রদান। (১) নির্ধারিত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে কোন ব্যক্তি অধিগৃহীত ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত থাকিলে, উক্ত ব্যক্তিকে এবং অধিগৃহীত-ব্যাংক বাংলাদেশের বাহিরে নিবন্ধনকৃত হইলে, অধিগৃহীত ব্যাংককে, অধিগৃহীত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের জন্য সরকার বা, ক্ষেত্রমত, হস্তাস্তরগ্রহীতা ব্যাংক, বিধিদ্বারা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী স্থিরীকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর কোন কিছুই অধিগৃহীত ব্যাংকের কোন শেয়ার হোল্ডার এবং সেই শেয়ারে স্বার্থ আছে এমন কোন ব্যক্তির পারস্পারিক অধিকার ক্ষুন্ন করিবেনা এবং উক্ত ব্যক্তি তাঁহার শেয়ার সম্পর্কিত অধিকার উপ-ধারা (১) এর অধীন স্থিরীকৃত ক্ষতিপূরণের উপর প্রয়োগ করিতে পারিবেন, কিন্তু সরকার বা হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে উহা প্রয়োগ করিতে পারিবেন না।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদেয় ক্ষতিপুরণ প্রাথমিকভাবে সরকার বা ক্ষেত্রমত, হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত পরামর্শক্রমে, উক্ত উপ-ধারার অধীন প্রণীত বিধি অনুসারে স্থির করিবে এবং উক্ত উপ-ধারার অধীন ক্ষতিপূরণ প্রাপকগণকে তাঁহাদের প্রাপ্য সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ গ্রহনের প্রস্তাব করিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণ যদি কোন ব্যক্তির নিকট গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহা হইলে তিনি সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে, সরকারের নিকট এই মর্মে লিখিত অনুরোধ করিবেন যে, বিষয়টি যেন ৬১ ধারার অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনালের নিকট পেশ করা হয়।

(৫) অধিগৃহীত ব্যাংকের পরিশোধকৃত মূলধনের কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ মূল্যের সমপরিমান শেয়ার হোল্ডারগণের নিকট হইতে বা, অধিগৃহীত ব্যাংক বাংলাদেশের বাহিরে নিবন্ধনকৃত কোন কোম্পানী হইলে, অধিগৃহীত ব্যাংকের নিকট হইতে, উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন অনুরোধ পাইলে শুনকার বিষয়টির উপর সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য উহা ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রেরণ করিবে ।

(৬) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন অনুরোধ পাওয়া না গেলে, উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণ অথবা, অনুরূপ কোন অনুরোধ প্রাপ্তির পর উহা উপ-ধারা (৫) এর বিধান অনুসারে ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রেরিত হইলে, তৎকর্তৃক স্থিরীকৃত ক্ষতিপুরণ হইবে উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদেয় ক্ষতিপূরণ এবং উক্ত ক্ষতিপূরণ চূড়ান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সকলের উপর বাধ্যতামূলক হইবে।

৬১। ট্রাইব্যুনাল গঠন।– (১) এই খন্ডের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার একজন চেয়ারম্যান ও অপর দুইজন সদস্য সমন্বয়ে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে।

(২) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হইবেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি হিসাবে কর্মরত আছেন বা ছিলেন, এবং উহার জন্য দুইজন সদস্যদের মধ্যে একজন হইবেন এমন ব্যক্তি যিনি সরকারের বিবেচনায় ব্যাংক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং অন্যজন হইবেন Accountants Order, 1973 (P.O.No. 2 of 1973) 3 of অর্থে Chartered: Accountants শব্দগুলি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে একজন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট।

(৩) যদি কোন কারণে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্যের পদ শূন্য হয়, তাহা হইলে সরকার, উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে অন্য একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ করিয়া উক্ত শূন্য পদ পূরণ করিতে পারিবে, এবং উক্ত ট্রাইব্যুনালে নিস্পন্নাধীন কোন কার্যধারা যে পর্যায়ে ছিল সেই পর্যায় হইতে উন্ন কার্যধারা পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের সমুখে অব্যাহত থাকিবে।

(৪) এই খণ্ডের অধীন প্রদেয় ক্ষতিপূরণ নির্ণয়, করিবার উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল উহাকে কোন বিষয়ে সহায়তা করার জন্য উক্ত বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে মনোনিত করিতে পারিবে।

ব্যাংক-কোম্পানীর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহন । পঞ্চম খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

৬২। ট্রাইব্যুনালের দেওয়ানী আদালতের ক্ষমতা।– (১) ট্রাইব্যুনালের নিকট নিষ্পন্নাধীন কার্যধারার নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহে উহা সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে যে সকল ক্ষমতা কোন দেওয়ানী আদালত Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908) এর অধীনে উক্ত বিষয়সমূহে প্রয়োগ করিতে পারে, যথা :-

(ক) আদালতে উপস্থিত হইবার জন্য কোন ব্যক্তির উপর সমন জারী এবং তাঁহাকে আদালতে উপস্থিত হইতে বাধ্য। করা এবং শপথ গ্রহণ করাইয়া তাঁহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা

(খ) দলিল দাখিল, দলিল উদ্ঘাটন ও উদ্ঘাটিত দলিল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দান

(গ) এফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ

(ঘ) সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ এবং দলিলাদি পরীক্ষার জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান।

(২) উপ-ধারা (১) এবং আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্রাইব্যুনাল-

(ক) সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক গোপনীয় বলিয়া দাবী করে এইরূপ কোন হিসাব বহি বা দলিল দাখিল করার জন্য,

(খ) উক্ত কোন বহি বা দলিলকে ট্রাইব্যুনালের নিষ্পন্নাধীন কার্যধারার উহার নথিপত্রের অংশে পরিণত করার জন্য বা

(গ) ট্রাইব্যুনালে নিষ্পন্নাধীন কার্যধারার কোন পক্ষকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্ত বহি বা দলিল পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জন্য, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর কোন বাধ্যতামূলক আদেশ প্রদান করিতে পারিবে না।

৬৩। ট্রাইব্যুনালের কার্যপদ্ধতি।- (১) ট্রাইব্যুনাল উহার নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে

(২) ট্রাইব্যুনাল কোন বিষয়ে আংশিক বা সম্পূর্ণ তদন্ত রুদ্ধদার কক্ষে সম্পন্ন করিতে পারিবে

(৩) ট্রাইব্যানালের কোন আদেশে অসাবধানতাবশতঃ বা দৈবাৎ কোন বিচ্যুতি ঘটিবার বা কোন কিছু বাদ পড়িবার ফলে যৎসামান্য বা সংখ্যাগত ত্রুটি থাকিলে, ট্রাইব্যুনাল উহা মেচেছায় বা কোন পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুদ্ধ করিতে পরিবে।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন