বাংলাদেশে পুঁজির পর্যাপ্ততা [ Capital Adequacy in Bangladesh ]

বাংলাদেশে পুঁজির পর্যাপ্ততা [ Capital Adequacy in Bangladesh ] বাংলাদেশে রেজিষ্ট্ৰিকৃত দেশীয় ব্যাংক সমূহের ন্যূনতম ২০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকা আবশ্য কর্তক পরিশোধিত হতে হবে। অবশিষ্ট শতকরা ৫০ ভাগ পরবর্তী কালে পুঁজি বাজারে শেয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করা বাঞ্ছনীয়। বিদেশী ব্যাংকের বেলায় ন্যূনতম পুঁজি ১০ কোটি টাকা থাকা বাঞ্চনীয়। এরুপ পুঁজি অনুমোদিত বিদেশী মুদ্রায় বিদেশ থেকে সরবরাহ করতে হবে। পরবর্তীকালে আমানত ও ব্যাংকের অন্যান্য দায় পরিগ্রহ করে ব্যাংক যখন কার্যরত থাকে তখন পুঁছি পর্যাপ্ততা নিম্নরূপ ভাবে নিরূপিত হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে ভারযুক্ত সম্পত্তির ব্যবহার ব্যবহৃত হচেছ।

বাংলাদেশে পুঁজির পর্যাপ্ততা [ Capital Adequacy in Bangladesh ]

বাংলাদেশে পুঁজির পর্যাপ্ততা [ Capital Adequacy in Bangladesh ]

(ক) বাংলাদেশী ব্যাংক ঃ

যে কোন আর্থিক বছরের সর্বশেষ দিনে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত পত্রে পরিদৃষ্ট মোট চলতি মেয়াদী দায় সমূহের ন্যূনতম শতকরা ৬ ভাগ অথবা ২০ কোটি টাকা। এ দুটি সীমার মধ্যে যেটি বেশী হবে।

(খ) বিদেশী ব্যাংক :

যে কোন আর্থিক বছরের সর্বশেষ দিনে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত পত্রে পরিদৃষ্ট মোট চলতি মেয়াদী দায় সমূহের ন্যূনপক্ষে শতকরা ৬ ভাগ অথবা ১০ কোটি টাকা এ দুটি সীমার মধ্যে যেটি বেশী হবে। ১৯৯৬ সনের ৮ই জানুয়ারী থেকে বাংলাদেশে কার্যরত ব্যাংক সমূহের পুঁজি পরিমাপের পরিবর্তিত নিয়ম প্রযুক্ত হয়ে আসছে।

এই সাম্প্রতিক পুঁজি পর্যাপ্ততা নীতি উদ্বৃত্ত পত্রে এবং উদ্বৃত্তপত্র বহির্ভূত লেনদেনে উদ্ভুত দায় সমূহের বিভিন্ন স্তরের ঋণ ঝুঁকির ভিত্তিতে নিরূপিত হয়ে থাকে। এ পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের পুঁজিকে দু’ভাগে ভাগ করে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। প্রথম ভাগের পুঁজিকে মূল পুঁজি (core capital] দ্বিতীয় ভাগের পুঁজিকে সম্পূরক পুঁজি [supplement capital] বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আখ্যায়িত করে থাকে।

প্রথম ধরণের পুঁজিকে মূল অথবা উত্তম পুঁজি বলা হয়ে থাকে। কারণ এতে পুঁজির উৎকৃষ্টতম উপাদান সমূহ বিদ্যমান থাকে। দ্বিতীয় স্তরের সম্পূরক পুঁজির গুণগতমান মূল পুঁজির মত না হলেও পুঁজির প্রয়োজনীয় কিছু সংখ্যক বৈশিষ্ট্যসহ ব্যাংকের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধির সহায়ক। নিম্নে এই ধরনের পুঁজির উপাদানসমূহ দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশে পুঁজির পর্যাপ্ততা [ Capital Adequacy in Bangladesh ]

মূল পুঁজির উপাদান সমূহ (স্তর-১)

১। পরিশোধিত মূলধন : Paid up Capital
২। অপরিশোধ্য শেয়ারে প্রিমিয়ামের টাকা : Non Repayable Share Premium Account
৩। বিধি বন্ধ রিজার্ভ : Statutory Reserve
৪। সাধারণ রিজার্ভ : General Reserve
৫। অবণ্টিত মুনাফাঃ Retained Earnings
৬। অক্রম পুঞ্জিভূত ও অবসায়ন যোগ্য নয় এমন অগ্রাধিকারী শেয়ার : Non-Cumulative Irredemable Preference Shares

সম্পূরক পুঁজির উপাদান সমূহ (স্তর-২)

১। সাধারণ সঞ্চিতি (অশ্রেণী বিন্যাসকৃত ঋণের শতকরা ১ ভাগ) General Provision (19

২। সম্পত্তি পূণঃ মূল্যায়িত রিজার্ভ : (Asset Revaluation Reserve]

৩। অন্যান্য অগ্রাধিকারী শেয়ারঃ [ All other Preference Shares ]

৪। স্থায়ী দ্বিতীয়স্তরের দাবীযোগ্য ঋণ [Perpetual Subordinated Debt) সাম্প্রতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে ভারযুক্ত ঝুঁকি সম্পত্তির (risk weighted assets] শতকরা ৮ ভাগ

বাংলাদেশে পুঁজির পর্যাপ্ততা [ Capital Adequacy in Bangladesh ]

পর্যাপ্ত পুঁজি বলে গণ্য হবে। উল্লেখ্য যে এ পর্যাপ্ততা পুঁজির ন্যূনপক্ষে অর্ধেক (শতকরা ৪ ভাগ) অবশ্যই মূল পুঁজি উপাদানে থাকতে হবে। যা হোক প্রচলিত সর্বমোট ন্যূনতম পুঁজি বাংলাদেশী ব্যাংকের জন্য ২০ কোটি বিদেশী ব্যাংকের জন্য ১০ কোটি অপরিবর্তিত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন