বিনিয়োগযোগ্য ঋণপত্রের মর্যাদা বিন্যাস [ Grading /Rating of Investible Securities ]

বিনিয়োগযোগ্য ঋণপত্রের মর্যাদা বিন্যাস [ Grading /Rating of Investible Securities ] ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তথা সরকার সঠিক বিনিয়োগ মাধ্যমে ব্যাংকের তহবিল নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন উপর কা ব্যাংক সমূহকে নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

বিনিয়োজিত অর্থ থেকে মুনাফা লাভের সম্ভাবনা যত বেশী বিনিয়োজিত তহবিলের ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বেসরকারী সংস্থা কর্তৃক ঋণপত্রের মর্যাদা অনবরত নিরূপণ করে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে প্রস্তুত করা করে ধ এরপ সংস্থা দুটি হল: (1) Standard and Poors Corporation and (ii) Moody’s Investors Services এটি স্বীকার্য যে ঋণপত্রের মর্যাদার সংজ্ঞা নিরূপণ, প্রচলন ও স্বীকৃতি প্রদান যথেষ্ট কঠিন কারণ বিনিয়োগ কার্যক্রম বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপরে প্রতিষ্ঠিত নয়।

কারণ এতে অনেক অনিশ্চয়তা, তথ্য ঘাটতি ফটকা বাজায়ী ঘটতে পারে। স্বপ্নপত্র বিক্রের প্রতিষ্ঠানের ঋণযোগ্য, ইস্মুকৃত ক্ষণপত্রের পরিমাণ ও অর্থনৈতিক অবস্থা ঋণপত্রের মর্যাদার তারতম্য ঘটাতে পারে। তবে যে সকলঋণপত্র বাজারে সব সময় ক্রয় বিক্রয় হয়ে থাকে এবং ক্রেতা ব্যাংক ইচছা করলেই অতিশয় কম লোকসানে নগদে রূপান্তর করতে পারে।

বিনিয়োগযোগ্য ঋণপত্রের মর্যাদা বিন্যাস [ Grading /Rating of Investible Securities ]

এরূপ ঋণপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাংক সমূহের মাঝে অপেক্ষাকৃত বেশী কালের আবর্তনে, বাজার চাহিদা ও যোগানের প্রেক্ষিতে কেন নির্দিষ্ট ঋণপত্রের গুণগত মর্যাদা পরিবর্তিত হয়ে থাকে। তাই ব্যাংক বিশেষজ্ঞ Edward. W Reed এর মতে, “Quality stor great extent relative” অর্থাৎ কণপত্রের মর্যাদা বহুলাংশে আপেক্ষিক। লক্ষ্যণীয় যে আমেরিকার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীগণ উল্লেখিত দুটি সংস্থা কর্তৃক বিন্যাসিত ঋণপত্রের মর্যাদা করণের প্রতি আস্থা রাখে।

এমনকি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তথা সরকার ও এদের ঋণপত্র বিশ্লেষণ কৌশলকে বিশ্বাস করে। শতক যে প্রথম চার ছাতের নীচে মর্যাদা সম্পন্ন ব্যাংক বিনিয়োগের উপযুক্ত বলে পরিগণিত করা হয়না কারণ চতুর্থ স্তরের পদ মর্যাদা সম্পন্নসমূহ অনেক বেশই।

ফটকা বাজারী দোষে দুষ্ট। একথা বলে এটা বুঝায় না যে উচচ মর্যাদা সম্পন্ন ঋণপত্র সমূহে ফটকা বাজারীর কোন উপাদান নাই। সারকথা হচেছ চতুর্থ বা তদুর্ধ মর্যাদা সম্পন্ন ঋণপত্র সমুহে ফটকা লেনদেনের সংখ্যা কম।

অনুমোদিত বিনিয়োগযোগ্য ঋণপত্র সমূহ [ Approved Securities for Bank Investment ]

ব্যাংক একটি লাভজক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনিয়োগ দিকটি অন্যতম প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মুনাফার বৃদ্ধির সংগে সংগে সম্পদ সরকা সম্ভব হয় । ব্যাংক একটি মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন ও সম্পদ সর্বাধিকরণ করে ধরে। ব্যাংক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিবেচনা প্রসূত ঋণপত্র নিবার্চন করে থাকে। অনুমোদিত ঋণপত্র ছাড়া বিনিয়োগ করা সরকার তথা ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কঠোর ভাবে নিরুৎসাহিত করে থাকে। যে সমস্ত পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন লাভ করে থাকে সেগুলো দু’রকম হয়ে থাকে। যথা: (১) মুদ্রা বাজারে লেনদেন করা হয় এমন র মেয়াদী ঋণপত্র সমূহ ও (২) পূজিঁ বাজারে লেনদেনযোগ্য দীর্ঘমেয়াদী ঋণপত্রসমূহ উন্নত অর্থনীতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ সাধারণত দু’ধরণের বাজার থেকে যে যে ঋণপত্র লেনদেন করে থাকে তা নিম্ন চিত্রে পরিদিষ্ট হয়।

বিনিয়োগযোগ্য ঋণপত্রের মর্যাদা বিন্যাস [ Grading /Rating of Investible Securities ]

 ব্যাংকের অনুমোদিত বিনিয়োগযোগ্য ঋণপত্র
পুঁজি বাজারমুদ্রা বাজার
১. ট্রেজারী নোট্‌স১. ট্রেজারী বিল
২. স্থানীয় সরকার ও মিউনিসিপাল বস্তু২. স্বল্প মেয়াদী ট্রেজারী নোট, বন্ড
৩. সরকারী সংস্থার নোট এবং, বন্ড৩. কেন্দ্রীয় সংস্থার ঋণপত্র
৪. বন্ধক সম্পত্তি ভিত্তিক ঋণ।8. আমানত সনদ
৫. ইউরো-ডলার
৬. ব্যাংকের সম্মতিপত্র
৭. অনুমোদিত বাণিজ্যিক ঋণপত্র
৮.স্বল্প মেয়াদী মিউনিসিপাল ঋণপত্র

 

অনুমোদিত বিনিয়োগযোগ পত্রসমূহের সুবিধা-অসুবিধা [ Advantages and Disadvantages of Approved Securities ]

প্রতিটি ক্ষণপত্রের নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ব্যাংকের প্রয়োজন অনুযায়ী এ সমস্ত সুবিধা অসুবিধা মনে রেখেই ব্যাংক বিনিয়ো কর্মকর্তাকে এক বা একাধিক ঋণপত্র নির্বাচন করতে হয়। বিনিয়োগ পরিমাণ নির্বাচনকালে এবং বিনিয়োগের মেয়াদ নির্বাচন কা এসকল সুবিধা অসুবিধা জানা থাকলে অপেক্ষাকৃত কমত্রুটিপূর্ণ ঋণপত্র নির্বাচনে বিনিয়োগ কর্মকর্তা সফলভাবে সক্ষম হয়। নিম্নে বাজার ও পুঁজি বাজারের লেনদেনকৃত ঋণপত্রসমূহের বাজার ভিত্তিক আলাদাভাবে সুবিধা অসুবিধা প্রদর্শিত হলো:

অনুমোদিত মুদ্রাবাজার ঋণপত্রের সুবিধা অসুবিধা সমূহঃ

ক্রমিক নংঋণপত্রসুবিধাঅসুবিধা
 ১.ট্রেজারী বিল* উচচ মান সম্পন্ন

* সম্পূর্ণ নিরাপদ

* সহজে রূপান্তরযোগ্য

* ঋণের জামানত হিসেবে গ্রহণযোগ্য

* নগদান রিজার্ভের বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা

* স্বল্প মুনাফা অর্জনযোগ্য
 ২.স্বল্প মেয়াদী ট্রেজারী নোট, বন্ড* সদা পুনঃ বিক্রয়যোগ্যতা

* নিরাপদ

* ঋণের জামানত হিসেবে গ্রহণযোগ্য

* ট্রেজারী বিলের তুলনায় আয়ের হার বেশী

* ট্রেজারী বিলের চেয়ে বেশী মূল্য ঝুঁকি
৩.কেন্দ্রীয় সংস্থার ঋণপত্র* নিরাপদ

* মাঝারী ধরনের পুন: বিক্রয়যোগ্য।

* সরকারী ঋণপত্রের তুলনায় সুদের হার বেশী হয়।

* সরকারী ঋণপত্রের চেয়ে কম বাজার যোগ্যতা
 ৪.আমানত সনদ* অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণের সনদসমূহ বীমাকৃত

* ট্রেজারী বিলের চেয়ে অধিক আয় সক্ষম

* বড় অংকের আমানত সনদ সীমিত পুনঃ বিক্রয় যোগ্যতা
 ৫.ইউরো-ডলার* কম ঝুঁকি

* আমানত রসিদ থেকে বেশী উপার্জনক্ষম

* বাজার দর তথা সুদের হার সংবেদনশীল
 ৬.ব্যাংকের সম্মতিপত্র* বহুধা নিশ্চয়তাসহ ঝুঁকি কম*নির্দিষ্ট মেয়াদীর সীমিত সরবরাহ
 ৭.অনুমোদিত বাণিজ্যিক ঋণপত্র* ঋণগ্রহীতা মর্যাদাহেতু ঝুঁকি কম* সংবেদনশীল বাজার
 ৮.স্বল্প মেয়াদী মিউনিসিপাল ঋণপত্র* করমুক্ত সুদ আয়*অতি সীমিত বা অনুপস্থিত বাজার যোগ্যতা

অনুমোদিত পুঁজিবাজারে ক্ষণপত্রের সুবিধা অসুবিধা সমূহ।

ক্রমিক নংঋণপত্রসুবিধাঅসুবিধা
 ১.ট্রেজারী নোট্‌স*নিরাপদ

* সহজে পুন: বিক্রয়যোগ্য

* ঋণের জামানত হিসেবে গ্রহণযোগ্য

* নগদান রিজার্ভের বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা

* দীর্ঘ মেয়াদী বেসরকারী ঋণ পত্রের তুলনায় স্বল্প মুনাফা যোগ্যতা
 ২.স্থানীয় সরকার ও মিউনিসিপাল বস্তু* করমুক্ত সুদ আয়

* উঁচু মানের পরিশোধযোগ্যতা

* নির্বাচিত ঋণপত্র সমুদ্রের বাজারযোগ্যতা

* সংবেদনশীল বাজার

* কোন কোনটি সীমিত পুনঃ বিক্রয়যোগ্যতা

 ৩.সরকারী সংস্থার নোট এবং, বন্ড* সরকারী ঋণপত্রের চেয়ে কর পূর্ব সুদ-আয়  বেশী* সীমিত পুনঃবিক্রয় বাজার
 ৪.বন্ধক সম্পত্তি ভিত্তিক ঋণ* ট্রেজারী নোটস এর চেয়ে কর পূর্ব সুদ-আয় বেশী

* নিরাপদ

* পর্যাপ্ত পুনঃবিক্রয় বাজার

* ঋণের উত্তম জামানত হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা

* ট্রেজারী নোটস এর চেয়ে কম বাজার যোগ্যতা এবং মূল্য অপেক্ষাকৃত অস্থিতিশীল।

* মেয়াদ পূর্নকাল অনিশ্চিত

বিনিয়োগযোগ্য ঋণপত্রের মর্যাদা বিন্যাস [ Grading /Rating of Investible Securities ]
উপসংহার [ Conclusion ]

খোলাবাজারে দলিলের মাধ্যমে তহবিল খাটানোকে ব্যাংকের বিনিয়োগ বলে অভিহিত করা হয়। আমানতসহ অন্যবিধ উৎসসমূহ থেকে। সংগৃহীত তহবিলের রিজার্ভ বাদে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রথমেই ঋণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অতঃপর অবশিষ্ট তহবিল থাকলে অথবা ঝুঁকি বহুধাকরণের স্বার্থে ঋণ ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ আজকাল ট্রেজারী বিল, বন্ড, উন্নতমানের শেয়ার, ডিবেঞ্চার ব অন্যান্য স্বল্প মেয়াদী ঋণপত্রের মাধ্যমে তহবিল খাটিয়ে/ব্যবহার করে থাকে।

এরূপ বিনিয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকি বহুধাকরণ ছাড়াও ব্যাংক সম্পূরক উপার্জন ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় সঠিকতর বলশালী হয়ে থাকে। এছাড়াও নির্বাচিত ঋণপত্র বা শেয়ারে বিনিয়োগ করে অনেক সময় ব্যাংকগুলো কর দায় ক্লাস তথা রেয়াতী কর সুবিধা অর্জনে সক্ষম হয়।

ঋণ কর্মপন্থার মত ভুলত্রুটি এড়ানোর জন্য অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংকই সুনিশ্চিত বিনিয়োগ কর্মপন্থা (Well Designed Investment Policy) উদ্ভাবন করে অনুসরণ করে থাকে। ব্যাংকসমূহ নানাপ্রকার বিষয় বিবেচনা করে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ার অথবা সিকিউরিটিজ নির্বাচন করে থাকে। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় দু’ধরনের কৌশল ব্যবহৃত হয়ে থাকে যথা : ক) লেনদেন প্রকৃত কৌশল ও খ) মেয়াদ পূর্ণতা কৌশল ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট আভ্যন্তরীণ ও বহিশাদ- সমূহ বিবেচনা করে সাবধানতার সাথে উল্লেখিত কৌশল দ্বয় ব্যবহার করে ব্যাংক বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে সবার্ধিক মুনাফা অর্জনে সক্ষম।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন