ব্যাংকের বিনিয়োগের উদ্দেশ্যাবলী ও কার্যাবলী [ Objectives & Functions of Bank Investment ]

ব্যাংকের বিনিয়োগের উদ্দেশ্যাবলীঃ ঋণ কার্যক্রম ব্যাংকের মুনাফা অর্জনের গতানুগতিক কৌশল তহবিলের নুতন ব্যবহার হিসেবে সাম্প্রতিক কালে যে যে উদ্দেশ্যে ব্যাংকে বিনিয়োগ করে থাকে তার প্রধান কয়েকটি নিম্নরূপঃ

ব্যাংকের বিনিয়োগের উদ্দেশ্যাবলী [ Objectives of Bank Investment ]

ব্যাংকের বিনিয়োগের উদ্দেশ্যাবলী ও কার্যাবলী  [ Objectives & Functions of Bank Investment ]

১ ব্যাংক মালিকদের সম্পদ সর্বাধিকরণ

২. ঝুঁকি বহুধাকরণ

৩. সম্পূরক আর অর্জন

৪. সম্পূরক তারল্য বজায়

৫. কর দায়করণ

উপরে উল্লিখিত উদ্দেশ্য গুলো নীচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

১. ব্যাংক মালিকদের সম্পদ সর্বাধিকরণ- (Maximizing Wealth of Share Holder):

ব্যাংকের প্রত্যেকটি ক্রিয়াকর্মের পিছনে মূল উদ্দেশ্য হচেছ মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে মালিকের সম্পদ সর্বাধিকরণ। ঋণ ঝুঁকি তথা খেলাপী ঋণ অনাদায়ী ঋণ ইত্যাদির কারনে রাতে মালিকদের সম্পদ সর্বাধিকরণ প্রচেষ্টায় বাঁধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। সে কারণেই এ সমস্ত ঝুঁকি নাই কিন্তু লাভের সম্ভাবনা বেশী এবং লাভের মাধ্যমে সম্পদ সর্বাধিকরণের জন্যই ব্যাংক ঋণ ছাড়াও বিনিয়োগের তহবিলের একটি অংশ প্রয়োগ করে থাকে।

২. ঝুঁকি বহুধাকরণ- (Diversifying of Risk)

কেবল ঋণ কার্যক্রমে বিনিয়োগযোগ্য সব অর্থ প্রয়োগ করা এক ঝুড়িতে সব ডিম রাখার মত ঝুঁকি পূর্ণ একটি কাজ। সেজন্যই ঝুঁকি বহুধাকরণ প্রকল্পে ঋণপত্র বিশেষ করে নামজাদা বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের ইসরত ঋণপত্রে ব্যাংক তহবিল বিনিয়োগ করে তহবিল ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টা নিবেদন করে থাকে।

৩. সম্পূরক আয় অর্জন- (Supporting Income) :

ব্যাংকের আয়ের উৎসসমূহের মধ্যে ঋণ থেকে প্রাপ্ত সুদ, কমিশন, চার্জ, ফিস ইত্যাদি প্রধান। ঋণপত্র ক্রয়ের মাধ্যমে লভ্যাংশ বোনাস শেয়ার, সুদ এমন কি ক্রয় মূল্যের অতিরিক্ত বাজার দর জনিত পুজি বৃদ্ধি (Capital Appreciation) জনিত আয় ব্যাংকের গতানুগতিক আয়ের উৎসসমূহের সংগে উৎসাহজনক সম্পূরক উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

৪. সম্পূরক তারল্যের উৎস- (Source of Supplementary):

ব্যাংকের গতানুগতিক তারল্যের উৎস হচেছ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক রিজার্ভ কোন সময় তারল্য সংকট দেখা দিলে অর্থাৎ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক রিজার্ভ পর্যাপ্ত না হওয়ার কারণে তারল্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে এমতাবস্থায় তারল্যের তৃতীয় উৎস হিসেবে ব্যাংকে বিনিয়োগ সম্পত্তির সম্পূরক নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে অবদান রাখার প্রয়াস পায়।

৫. কর দায় কমান: Reducing Tax Liability

লব্ধ আর সম্পূর্ণ সর্বদাই করযোগ্য হয়। করের হার আয়ের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় করমুক্ত কর রেয়াতী, প্রদেয় কর ফেরত পাওয়ার যোগ্য নানা ধরনের ঋণপত্র, বন্ড, শেয়ার ক্রয় করে ব্যাংক প্রদেয় কর কমাতে সক্ষম হয়।

ব্যাংকের বিনিয়োগের উদ্দেশ্যাবলী ও কার্যাবলী  [ Objectives & Functions of Bank Investment ]

ব্যাংকের বিনিয়োগের কার্যাবলী [ Functions of Bank Investment ]

ব্যাংকের বিনিয়োজিত সম্পদ ব্যাংক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সফল হওয়ার জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার প্রয়াস পায়। বিনিয়োগ সাধারনত যে সমস্ত কাজ করে থাকে তার প্রধান কয়েকটি নিম্নরূপঃ

১ স্থিতিশীল আয় ধারা অব্যাহত রাখা।

২. তারল্য ঘাটতি পুরণ করা।

৩. ব্যাংক তহবিল ঝুঁকি বহুধাকরণ।

৪ ব্যাংকের তহবিলের এক এলাকায় কেন্দ্রীভূত হতে না দেওয়া।

৫. পুজিঁ স্ফীতি জনিত আয় বৃদ্ধিকরণ।

৬. কর দায় কমান।

৩. সুদের হারের হ্রাস বৃদ্ধির বিপরীতে রক্ষা ব্যবস্থা। ৮. বাংকের সম্পত্তি মিশ্রণ নমনীয় করণ।

১. ব্যাংকের সামাজিক দায়িত্ব পালন করে সুনাম বৃদ্ধি করুণ।

১০. শেয়ার ক্রয় করে ব্যাংক কোম্পানী ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ

১১ পুজিঁ বাজার গঠনে অবদান।

ব্যাংক বিনিয়োগের মাধ্যমে আয়ের ধারাকে স্থিতিশীল রাখতে সমর্থ হয়। ফলে দেখা যায় ব্যাংক তারল্য ঘাটতিতে নিপতিত হলে সময়ে সময়ে বিনিয়োগকৃত স্বর্ণপত্র বিক্রির মাধ্যমে তা পূরণ করা সহজতর হয়। ঝুঁকিকে নির্দিষ্ট গন্ডিতে না রেখে বিভিন্ন কোম্পানীর ঋণপত্রে বিনিয়োতার মাধ্যমে ঝুঁকির পরিমাণ হ্রাস বা বহুধাকরণ করে থাকে। এছাড়া ব্যাংকের বিনিয়োগ পুঁজি স্ফীতিজনিত আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।

ব্যাংকের আয়ের উপর সরকারকে কর দিয়ে সরকারের কর নীতি অনুযায়ী কিছু কিছু বন্ড, শেয়ার ক্রয় করলে কর দায় কমানো সম্ভব।

ব্যাংকের বিনিয়োগের উদ্দেশ্যাবলী ও কার্যাবলী  [ Objectives & Functions of Bank Investment ]

হয়ে থাকে। বিনিয়োগ থেকে পুঁজি স্ফীতি জনিত আয়-লভ্যাংশে এরূপ সুদের হার হ্রাস-বৃদ্ধিজনিত লোকসান পোহাতে ভূমিকা রাখে। অতারল্য প্রকৃতির সম্পদ ইচছা করলেই ব্যাংক কমাতে বা বাড়াতে পারেনা কিন্তু বিনিয়োগ সম্পত্তি কাংখিত ভাবে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ব্যাংক বিনিয়োগ সম্পত্তি ক্রয় করে ব্যাংক কর দায় কমাতে সক্ষম হয়ে থাকে। সুদের হার হ্রাস-বৃদ্ধি ব্যাংকের জন্য প্রায়ই ঝুঁকির কারণ করতে বেগ পেতে হয়না বলে অপেক্ষাকৃত সহজ।

অধিকন্তু ব্যাংক সরকারী অনুমোদিত সামাজিক দায়িত্বে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান সমূহের শেয়ার, বন্ড, ঋণপত্র ইত্যাদি ক্রয় করে সামাজিক দায়িত্ব পালনে প্রয়াস পায়। এছাড়াও অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের গ্রহণ করে থাকে এদের শেয়ার বা ঋণপত্র ক্রয় করে ব্যাংক বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে কোম্পানী সমুহের আর্থিক শৃঙ্খলা সম্পর্কে বিশ্লেষণ ও পরামর্শ নিয়ে কোম্পানী ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাংক মালিকদের তথা দেশের সর্ব সাধারণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে থাকে। অনুন্নত দেশে পুঁজি বাজার উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে শেয়ার ঋণপত্র ক্রয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখে বলে স্বীকৃত।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন