বেসরকারী ব্যাংক স্থাপন ও সম্প্রসারণ

বেসরকারী ব্যাংক স্থাপন ও সম্প্রসারণঃ বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর প্রাইভেট ব্যাংক এর জন্য উন্মুক্ত করা হলেও ব্যাংক স্থাপনা ও পরিচালনার পদ্ধতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়।

বেসরকারী ব্যাংক স্থাপন ও সম্প্রসারণ

বেসরকারী ব্যাংক স্থাপন ও সম্প্রসারণ

ক. প্রাইভেট ব্যাংক স্থাপন ও ব্যবসায় পরিচালনা [ Establishement and Management of Private Banks ]

পদক্ষেপ-১:

একটি প্রাইভেট ব্যাংক স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তাগণকে প্রথমে নির্ধারিত ছকে তথ্য উপাত্ত সন্নিবেশন পূর্বক ব্যাংকিং ব্যবসার শুরু করার অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট আবেদন পেশ করতে হয়। ব্যাংক স্থাপনের জন্য সরকারের অনুমোদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের আবেদন পত্র বিবেচনায় সন্তুষ্ট হলে ব্যাংকিং ব্যবস্যায় শুরু করার জন্য উদ্যোক্তাদের বরাবরে লাইসেন্স ইস্ করে এবং তা উদ্যোক্তাদের অবহিত করে।

পদক্ষেপ-২:

বাংক ব্যবসায় শুরু করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট হতে লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর উদ্যোক্তাগণ নিম্ন বর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে:

(১) উদ্যোক্তাগণকে প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানীকে The Company Act, 1994 এর অধীনে যৌথ মূলধনী কোম্পানী রেজিস্ট্রারের নিকট পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী হিসেবে রেজিস্ট্রি করিয়ে কোম্পানী অনুকূলে Certificate of Incorporation সংগ্রহ করতে হবে। কোম্পানীর আর্টিকেলস এবং মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯৪ এর বিধান অনুযায়ী হতে হবে।

(২) অনুচেছদ (১) এর বর্ণনা মোতাবেক রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তির পর প্রস্তাবিত কোম্পানীর মূলধন সংগ্রহের জন্য অনুমোদন চেয়ে “সিকুরিটিজ এন্ড এক্সচেক কমিশন এর নিকট আবেদন করবে।

বেসরকারী ব্যাংক স্থাপন ও সম্প্রসারণ

(৩) “সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন” এর যাবতীয় শর্তাবলী পালন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহের পর প্রস্তাবিত বাংক কোম্পানীকে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীনে যৌথ মূলধনী কোম্পানী সমুহের রেজিষ্ট্রারের নিকট হতে ব্যবসা শুরু করার অনুমতি পেতে হবে। (Certificate of Commencement of Business)

(৪) যখন উপরোক্ত (১) হতে (৩) নং অনুচেছদে বর্ণিত আনুষ্ঠানিকতা সমূহ সম্পন্ন হবে, যখন ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা- ৩১ অনুযায়ী প্রস্তাবিত কোম্পানীটি ব্যাংকিং ব্যবসায় শুরু করার লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করবে। একই সাথে ব্যাংক কোম্পানী আইনের ধারার বিধান অনুযায়ী নতুন ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপনের লাইসেন্স এর ঘন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট নির্ধারিত শর্তাবলী পালন সাপেক্ষে আবেদন করবে। উপরোক্ত উভয় প্রকার লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদন (৩) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত মূলধন সংগ্রহ সম্পন্ন হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট পেশ করতে হবে।

(৫) উপরোক্ত (৪) নং অনুচেছদের বর্ণনা মোতাবেক লাইসেন্স সমূহ পাওয়ার পর ব্যাংক কোম্পানীকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ এর ৩৭ নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভূক্ত ব্যাংক হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট আবেদন করত: তালিকাভুক্ত হতে হবে।

খ.নতুন ব্যবসার কেন্দ্র চালু বা বর্তমান ব্যবসায় কেন্দ্র স্থানান্তর

(১) বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতীত

(ক) কোন কাকে কোম্পানী বাংলাদেশের কোথাও কোন নতুন ব্যবসার কেন্দ্র চালু করবেনা এবং বিদ্যমান অবসা কেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন করবে না, এবং

(খ) বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত কোন ব্যাংকে কোম্পানী বাংলাদেশের বাইরে কোন নতুন ব্যাবসায় কেন্দ্র চালু করবেনা এবং বাংলাদেশের বাইরে বিদ্যমান ব্যবসায় কেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন করবেনা।

(২) কোন প্রদর্শনী . . . মেলা, সম্মেলন বা অনুরূপ অন্যকোন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে জনসাধারণকে সামরিকভাবে বাকে সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে অনধিক এক মাসের জন্য নতুন ব্যবসায় কেন্দ্র চালু করা হলে সে ক্ষেত্রে উপরোক্ত বিধানাবলী প্রযোজ্য হবেনা। তবে সামরিক ব্যবসায় চালু করার এক সপ্তাহের মধ্যে এ সম্পর্কে বাংলাদেশে ব্যাংককে জানাতে হবে।

বেসরকারী ব্যাংক স্থাপন ও সম্প্রসারণ

গ. বাংলাদেশে বিদেশী ব্যাংকের শাখা খোলার নিয়মাবলী

১. শাখা খুলতে আগ্রহী বিদেশী ব্যাংকগুলোকে নিম্নলিখিত দলিলাদী সহকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট আবেদন করতে হবে:: ব্যাংকটির সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন এবং ব্যবসায় আরম্ভের অনুমতি পত্র।

– বিগত ৩ বৎসরের নিরীক্ষিত ব্যালেন্স শীট সংশ্লিষ্ট দেশে শাখা খোলার জন্য ঐ বিদেশী ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টর এর অনুমোদনের কপি এবং প্রধান নিবাহী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কপি।

– ব্যাংকটির স্বদেশীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংক ব্যবসায় পরিচালনার জন্য প্রদত্ত লাইসেন্সের কপি। এছাড়া ব্যাংকটিকে বিদেশ হতে টাকা ১০০ মিলিয়ন মূলধন বাংলাদেশে আনয়ন করত: তা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। এ মূলধন নগদে বা অনুমোদিত সিকিউরিটিজ এ অথবা উভয় প্রকারের হতে পারে।

ব্যাংকটিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২, ব্যাংকিং কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এবং বৈদেশীক মুদ্রা নিয়ন্ত্রন আইন সহ সব আইন মেনে চলতে হবে।

উপরোক্ত শর্তাবলী পালন এবং পালনের প্রতিশ্রুতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্রষ্টি হলে কোন বাংলাদেশে বিদেশী ব্যাংকের শাখা খোলার অনুমোদন দিয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন