ব্যাংক-কোম্পানী ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও অবসায়ন ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক-কোম্পানী ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও অবসায়ন ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক-কোম্পানী ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও অবসায়ন ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক-কোম্পানী ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও অবসায়ন । ষষ্ঠ খন্ড। ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

৬৪। সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ রাখা। (১) সাময়িকভাবে দায় পরিশোধে অক্ষম কোন ব্যাংক-কোম্পানীর আবেদনক্রমে, হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত কোমপানীর বিরুদ্ধে সকল ব্যবস্থা বা কার্যক্রম গ্রহণ ও চালু রাখা, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তাধীনে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত রাখার আদেশ দিতে পারিবে, যাহার একটি অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, এবং হাইকোর্ট বিভাগ সময় সময় উক্ত সময়সীমা বর্ধিত করিতে পারিবে। কিন্তু এই বর্ধিত সময়ের মেয়াদ সর্বমোট ছয় মাসের অধিক হইবে না।

(২) আবেদনকারী ব্যাংক-কোম্পানী উহার দেনা পরিশোধ করিতে পরিবে এই মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত একটি রিপোর্ট আবেদনপত্রের সহিত সংযোজিত না হইলে উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনপত্রের সহিত উত্তরূপ রিপোর্ট সংযোজিত না থাকিলেও হাইকোর্ট বিভাগ, যথাযথ কারণ থাকিলে, উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীকে এই ধারার অধীন প্রতিকার প্রদান করিতে পরিবে এবং এইরূপ প্রতিকার প্রদান করা হইলে,
হাইকোর্ট বিভাগ উর ব্যাংক-কোম্পানীর অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে একটি রিপোর্ট তলব করিবে, এবং উক্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর হাইকোর্ট বিভাগ উহার আদেশ বাতিল করিতে পারিবে বা অন্য কোন যথাযথ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন আবেদনপত্র দাখিল করা হইলে হাইকোর্ট বিভাগ একজন বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে এবং আবেদনকারী ব্যাংক-কোম্পানী যে সকল সম্পদ, বদি, দলিল, মালামাল এবং আদায়যোগ্য দাবীর অধিকার বা অধিকারী বলিয়া ধারণা করা হয়, সেসব কিছু উত্ত কর্মকর্তা তৎক্ষণাৎ নিজের তত্ত্বাবধানে বা নিয়ন্ত্রণে গ্রহণ করিবেন, এবং ব্যাংক-কোম্পানীর আমানতকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করিয়া হাইকোর্ট বিভাগ অন্য যে ক্ষমতা তাঁহাকে অর্পণ করিবে সেই ক্ষমতাও তিনি প্রয়োগ করিতে পরিবেন

(৪) কোন ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যাপারে যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রদান করা হয় এবং যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত ব্যাংকের কার্যকলাপ উহার আমানতকারীগণের স্বার্থবিরোধী পদ্ধতিতে পরিচালিত হইতেছে, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর অবসায়নের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং এইরূপ আবেদনপত্র দাখিল করা হইলে, হাইকোর্ট বিভাগ উত্ত উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত স্থগিত আদেশের মেয়াদ আর বর্ধিত করিবে।

ব্যাংক-কোম্পানী ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও অবসায়ন । ষষ্ঠ খন্ড। ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

৬৫। হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অবসায়ন। (১) ধারা ৬৪ (১) কে প্রদত্ত ক্ষমতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, এবং কোম্পানী আইনের Sections 153, 162 এবং 271 এ যাহা কিছু থাকুক না কেন, হাইকোর্ট বিভাগ এই ধারার অধীন কোন ব্যাংক-কোম্পানী অবসায়নের জন্য আদেশ প্রদান করিবে, যদি

(ক) উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী উহার ঋণ পরিশোধ করিতে অক্ষম হয়;

(খ) উক্ত কোম্পানী অবসায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধারা বা ধারা ৬৪ এর অধীন আবেদন করে।

(২) ধারা ৪৪ (৫) (খ) এর অধীন নির্দেশিত হইলে, বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত নির্দেশে উল্লিখিত ব্যাংক-কোম্পানীর অবসানের জন্য এই ধারার অধীন দরখাস্ত দাখিল করিবে।

(৩) কোন ব্যাংক-কোম্পানীর অবসায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধারার অধীনে আবেদন করিতে পারে,

(ক) যদি উক্ত কোমপানী,

(অ) ধারা ১৩ এর অধীন প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করিতে ব্যর্থ হইয়া থাকে বা

(আ) ধারা ৩১ এর বিধানজনিত কারণে বাংলাদেশে ব্যাংক ব্যবসা চালাইবার অধিকার হারাইয়া থাকে

(ই) ধারা ৪৪ (৫) (ক) অথবা Bangladesh Bank Order, 1972 (PO No. 127 of 1972) এর Article 36 (5) (b)- এর অধীনে প্রদত্ত আদেশ দ্বারা নুতনভাবে আমানত গ্রহণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা পাইয়া থাকে; বা

(ঈ) ধারা ১৩তে বিধৃত পুরণীয় শর্ত বাতিরেকে এই অধ্যাদেশের অধীন প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত পুরণ করিতে ব্যর্থ হইয়া থাকে এবং লিখিত নোটিশের মাধ্যমে উক্ত ব্যর্থতার কথা উহাকে অবহিত করার পর তাহা অব্যাহত রাখে

(এ) এই অধ্যাদেশের কোন বিধান লঙ্ঘন করিয়া থাকে এবং উহাকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে উক্ত লঙ্ঘন সম্পর্কে অবহিত করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় এতদুদ্দেশ্যে যে মেয়াদ নির্ধারণ করে তাহা অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও উক্ত লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে অথবা

(খ) যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে.-

(অ) উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী সম্পর্কে আদালত অনুমোদিত কোন আপোষ-মীমাংসা বা ব্যবস্থা, উহার সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে, সন্তোষজনকভাবে কার্যকর করা সম্ভব নহে বা

(আ) এই অধ্যাদেশের বিধানাবলীর অধীন বা মোতাবেক উহার নিকট প্রেরিত রিটার্ন, প্রতিবেদন বা তথ্য হইতে উ ব্যাংক-কোম্পানীর দেনা পরিশোধে উহার অক্ষমতা প্রকাশ পাইয়াছে বা

(ই) উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর অস্থিত্ব অব্যাহত রাখা উহার আমানতকারীদের মার্থের পরিপন্থী।

(৪) কোম্পানী আইনের Section 163-এর বিধান ক্ষুণ্ণ না করিয়া, কোন ব্যাংক-কোম্পানী উহার দেনা পরিশোধে অক্ষম বলিয়া গণ্য হইবে যদি-

(ক) উক্ত কোম্পানীর অফিস বা শাখা আছে এমন স্থানে উহার কোন দেনা পরিশোধের জন্য কোন আইনানুগ দাবী পেশ করা হয়, কিন্তু দুই কার্য দিবসের মধ্যে উক্ত দেনা পরিশোধে উহা অধীকৃতি জ্ঞাপন করিয়া থাকে বা

(খ) অন্য কোথাও উক্ত দাবী পেশ করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এই মর্মে প্রত্যয়ন করে যে, উক্ত ব্যাংক-কোম্পানী উহার দেনা পরিশোধে অক্ষম বা

(গ) বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিতভাবে এই মর্মে প্রত্যয়ন করে যে ব্যাংক-কোম্পানীটি উহার দেনা পরিশোধ করিতে

(৫) বাংলাদেশ ব্যাংক উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন দরখাস্ত সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করবে।

৬৬। আদালত-অবসায়ক। (১) ব্যাংক-কোম্পানীর অবসানে মামলার সংখ্যা ও তৎসংশ্লিষ্ট কাজের পরিমাণ বিবেচনা করিয়া সরকার যদি অভিমত পোষণ করে যে, উর অবসায়নের কার্যধারা পরিচালনা এবং তৎসংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্ট বিভা কর্তৃক আরোপিত অন্যান্য দায়িত্ব সম্পাদন করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের সহিত একজন আদালত অবসাকে সংযুক্ত করা প্রয়োজ • সমীচীন, তাহা হইলে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত পরামর্শক্রমে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মেয়ানে একজন আদালত- অবসারক নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন আদালত অবসায়ক নিযুক্ত হইলে এবং হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যাংক-কোম্পানী অবসায়নের জন্য আদর্শ প্রদান করিলে, কোম্পানী আইনের Section 171 অথবা এ 175 যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আনাল অবসায়ক উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর সরকারী অবসায়ক হইবে।

(৩) যদি কোন আদালত অবসায়ক হাইকোর্ট বিভাগের সহিত সংযুক্ত থাকেন এবং এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বা উষ্ণ রূপ সংযুক্তি তারিখের পূর্বে, উহাদের মধ্যে, যাহা পরবর্তী কোন ব্যাংক-কোম্পানীর অবস্থায়নের জন্য কোন কার্যধারা চ থাকে, যাহাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা আদালত অবসায়ক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি সরকারী অবসায়ক হিসাবে নিযুক্ত আছেন তাহা হইলে কোম্পানী আইনের Section 176 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে ব্যক্তি সরকারী অবসায়ক নিযুক্ত হইয়াছেন তিনি উন্ন প্রবর্তন, বা ক্ষেত্রমত, সংযুক্তির তারিখে তাহার পদত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্ত শূন্য পদে আদালত সা সরকারী অবসায়ক হিসাবে নিযুক্ত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত অবসায়ককে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে এতদূসমপর্কে শুনানীর সুযোগ দেওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগ যদি এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, উক্ত আদালত অবসায়কের নিযুক্তি উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর আমানতকারীগণের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হইতে পারে, তাহা হইলে হাইকোর্ট বিভাগ পূর্বের সরকারী অবসায়ককে তাঁহার কার্য চালাইয়া যাইবার জন্য নির্দেশ নিতে পারিবে ।

৬৭। বাংলাদেশ ব্যাংক ইত্যাদির অবসায়ক হিসাবে নিয়োগ। কোম্পানী আইনের Section 50 অথবা Section 175 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক কোন ব্যাংক কোম্পানীর অবসায়ন কার্য ধারায় হাইকোর্ট বিভাগের নিকট বাংলাদেশ ব্যাংকে বা কোন ব্যক্তি বিশেষকে সরকারী অবসায়ক হিসাবে নিযুক্ত করিবার আবেদন করে, তাহা হইলে সাধারনতঃ উক্ত আবেদন মঞ্জুর করা হইবে, এবং উক্ত কার্যধারায় কোন অবসায়ক পূর্ব হইতে কার্যরত থাকিলে, তাঁহার পন উক্ত সরকারী অবসায়ক নিযুক্তির তারিখ হইতে শূন্য হইবে।

৬৮। অবসায়কের উপর কোম্পানী আইন প্রয়োগ। (১) কোম্পানী আইনের অবসায়ক সম্পর্কিত বিধানাবলী, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলীর সহিত সামজস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, ধারা ৬৭ বা ৬৮ এর অধীন নিযুক্ত অবসায়কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে। (২) এই খন্ডে এবং সপ্তম খন্ডে সরকারী অবসায়কা এর উল্লেখ থাকিলে, উহাতে কোন ব্যাংক-কোম্পানীর অবসায়ক অন্তর্ভূক্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

৬৯। কার্যধারা স্থগিত করা সম্পর্কে বাধা-নিষেধ। কোম্পানী আইনের Section 173 কে ভিন্নরূপ কোন বিধান থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যাংক-কোম্পানীর অবসায়ন কার্যধারা উক্ত কোম্পানীর আমানতকারীদের দাবী সম্পূর্ণ পরিশোধ করার জন্য গৃহীত ব্যবস্থ সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দান করিবে না।

ব্যাংক-কোম্পানী ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও অবসায়ন । ষষ্ঠ খন্ড। ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

৭০। সরকারী অবসায়ক কর্তৃক প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল। কোম্পানী আইনের 177 B তে ভিন্নতর কোন বিধান থাকা সত্ত্বেও, যে ক্ষেত্রে এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে বা পরে কোন ব্যাংক-কোম্পানী অবসায়নের জন্য আদেশ দেওয়া হইয়াছে, সেক্ষেত্রে সরকারী অবসায়ক উক্ত আদেশ প্রদানের দুই মাসের মধ্যে বা আদেশটি উত্তরূপ প্রবর্তনের পূর্বে প্রদান করা হইয়া থাকিলে উ প্রবর্তনের দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের নিকট একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট প্রদান করিবে, যাহাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভূক্ত থাকিবে, যথা :-

(ক) কোম্পানী আইনের প্রয়োজন মোতাবেক তাহার জামানত তথ্য।

(খ) রিপোর্ট প্রদানের তারিখে তাহার হেফাজত বা নিয়ন্ত্রণে রক্ষিত উক্ত কোম্পানীর নগদ সম্পদের পরিমা (গ) দুই মাস অতিক্রান্ত হইবার পূর্বে সম্ভাব্য নগন সম্পদ সংগ্রহের পরিমান

তবে শর্ত থাকে যে, হাইকোর্ট বিভাগ, প্রয়োজনবোধে, কোন বিশেষ ক্ষেত্রে উক্ত দুই মাস সময়সীমা আরও এক মাস বৃদ্ধি করিতে পারিবে ।

৭১। অগ্রাধিকারসম্পন্ন দাবীদার ইত্যাদির প্রতি নোটিশ। (১) কোন ব্যাংক-কোম্পানীর অবসায়নের আদেশ প্রদানের ১৫ দিনের মধ্যে বা উক্ত আদেশ, এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে প্রদত্ত হইয়া থাকিলে উক্ত প্রবর্তনের তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে সরকারী অবসায়ক আমানতকারীর প্রতি দায়-দায়ীত্ব ব্যতীত, উক্ত কোম্পানীর কর্ম ও অন্যান্য সায়ের একটি হিসাব প্রস্তুতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি নোটিশ জারী করিয়া কোম্পানী আইনের Section 230 এর অধীন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওনার দাবীদারদের এবং কোম্পানীর নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত বা নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত নয়, এমন পাওনাদারদিগকে, নোটিশ প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে তাহাদের দাবীর পরিমানের একটি হিসাব তাঁহার নিকট প্রেরণের জন্য আহবান করবেন

(২) কোম্পানী আইনের Section 230 এর অধীন প্রাপ্যের কোন দাবীদারের নিকট উপ-ধারা (১) মোতাবেক প্রেরিত নোটিশে এই মর্মে উল্লেখ করিতে হইবে যে, যদি উহা জারীর এক মাস অতিবাহিত হইবার পূর্বে সরকারী অবসায়কের নিকট দাবীর বিবরণ প্রেরণ করা না হয়, তাহা হইলে উক্ত নারী অন্যান্য ঋণের দানীর তুলনায় অগ্রাধিকারের আওতায় পরিশোধযোগ্য দাবী বলিয়া গণ্য হইবে না, এবং উহা ব্যাংক-কোম্পানীর সাধারণ ঋণ হিসাবে গণ্য হইবে।

(৩) নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত পাওনাদারদের নিকট উপ-ধারা (১) মোতাবেক প্রেরিত নোটিশে, উহা জারীর তারিখ হইতে এক মাস অতিবাহিত হইবার পূর্বে, তাহাকে তাহার জামানতের মূল্যায়ন করার জন্য বলা হইবে এবং উহাতে এই মর্মেও উল্লেখ করা হইবে যে, উক্ত সময়সীমা অতিবাহিত হইবার পূর্বে জামানতের মূল্যায়নসহ তাঁহার দাবীর একটি বিবরণ প্রেরণ করা না হইলে সরকারী অবসায়ক নিজেই উক্ত জামানতের মূল্যায়ন করিবেন এবং উত্তরূপ মূল্যায়ন পাওনাদার মানিতে বাধ্য থাকিবেন।

(৪) যদি কোন দাবীদার বা পাওনাদার উপ-ধারা (১) মোতাবেক প্রেরিত নোটিশে প্রদত্ত নির্দেশ পালন করিতে ব্যর্থ হন তাহা হইলে,-

(ক) দাবীদারের ক্ষেত্রে, তাঁহার দাবী অন্যান্য দাবীর তুলনায় অগ্রাধিকারসম্পন্ন নারী হিসাবে পরিশোধযোগ্য হইবে না, বরং ব্যাংক-কোম্পনীর সাধারণ ক্ষণ হিসাবে গণ্য হইবে

(খ) পাওনাদারের ক্ষেত্রে, তাঁহার জামানতের মূল্যায়ন সরকারী অবসায়ক নিজেই করিবেন এবং অনুরূপ মূল্যায়ন পাওনাদার মানিতে বাধ্য থাকিবেন।

৭২। পাওনাদারদের সভা আহ্বান ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা রহিত করার ক্ষমতা। কোম্পানী আইনের Section 178A এবং 183 তে বিভিন্নরূপ কোন বিধান থাকা সত্ত্বেও, যদি হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যাংক-কোম্পানীর অবাসয়ন কার্যধারা নিম্পন্নাধীন থাকাকালে, অযথা বিলম্ব ও খরচ পরিহার করার প্রয়োজনে যথাযথ বিবেচনা করিলে, উক্ত কোম্পানীর দাবীদার বা অন্যান্য পাওনাদারদের সভা আহ্বান বা কমিটি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা রহিত করিতে পারিবে।

৭৩। হিসাবের খাতদৃষ্টে আমানতকারীদের জমা প্রমাণিত গণ্য। ব্যাংক-কোম্পানীর হিসাবের খাতায় কোন আমনাতকারীর নামে যে টাকা জমাকৃত রহিয়াছে বলিয়া উল্লেখ থাকে, সেই টাকার জন্য আমানতকারী তাঁহার দাবী উক্ত কোমপানীর অবসায়ন কার্যধারায় উত্থাপন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য করা হইবে এবং কোম্পানী আইনের Section 191 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি সরকারী অবাসয়ক উত্তরূপ জমার সঠিকতা সম্পর্কে সন্দেহ করিবার কারণ আছে ইহা না দেখান, তাহা হইলে হাইকোর্ট বিভাগ উক্তরূপ দাবী প্রমাণিত হইয়াছে বলিয়া ধরিয়া লইবেন।

৭৪। আমানতকারীগণের অগ্রাধিকারভিত্তিক পাওনা প্রদান। (১) কোন ব্যাংক-কোম্পানীর অবসায়নের কার্যধারায় অবাসয়নের আদেশ এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পূর্বে প্রদত্ত থাকিলে, অনুরূপ প্রবর্তনের তিন মাসের মধ্যে বা, উক্ত আদেশ অনরূপ প্রবর্তনের পর প্রদত্ত হইলে আদেশ প্রদানের তিন মাসের মধ্যে সরকারী অবাসয়ক কোম্পানীর আইনের Section 230 তে উল্লেখিত সেই সকল অগ্রাধিকার ভিত্তিক পাওনা প্রদান করিবেন বা প্রদানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন যে সকল পাওনা সম্পর্কে, ধারা ৭১ এর অধীন প্রদত্ত নোটিশের প্রেক্ষিতে, উহা জারীর তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে, দাবী উত্থাপন করা হইয়াছে।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিক পাওনা পরিশোধ করার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত রূপে টাকা পরিশোধ করা হইবে, যথা :-

(ক) প্রথম দফায়, কোন ব্যাংক-কোম্পানীর সম্বয়ী হিসাবে আমানতকারীদের প্রত্যেককে দুই হাজার পাঁচশত টাকা অথবা উক্ত হিসাবে তাহার জমা টাকা যে পরিমাণটি কম

(খ) দ্বিতীয় দফায়, কোন ব্যাংক-কোম্পানীর পাওনাদারগণের প্রাপ্য প্রদানের জন্য কোমপানীর অন্যান্য আমানতকারী- গণের প্রত্যেককে, তাহার হিসাবে জমা থাকা টাকার শতকরা পঞ্চাশ ভাগ বা দুই হাজার পাঁচশত টাকা, এই নুয়ের মধ্যে যে পরিমাণটি কম : তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যাংক-কোম্পানীতে যদি কোন একক ব্যক্তির সয়ী হিসাব এবং অন্য কোন প্রকার হিসাব থাকে, তাহা হইলে তাঁহাকে দফা (ক) ও (খ) অনুযায়ী প্রদেয় মোট টাকার পরিমাণ দুই হাজার পাঁচশত টাকার উর্ধ্বে হইবে না, তবে কোন ব্যক্তির অন্য কোন ব্যক্তির সহিত যৌথ হিসাবের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(৩) যদি উপ-ধারা (১) এ উল্লেখিত তিন মাস সময়ের মধ্যে উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) বা (গ) এর অধীন সেনা সম্পূর্ণ নগদ টাকায় প্রদান করা না যায় তাহা হইলে, সরকারী অবসায়ক সেই সময়ের মধ্যে দফা (ক), বা ক্ষেত্রমত, দফা (খ), এ অধীন প্রত্যেক আমানতকারীর পাওনা টাকা প্রাপ্ত সম্পদের সহিত অনুপাত বজায় রাখিয়া যতদূর সম্ভব প্রদান করিবেন, এবং সরকারী অবসায়ক নগদ টাকার আকারে যখন কোম্পানীর সম্পদ সংগ্রহ করিতে পারিবেন তখনই প্রত্যেক আমনাতকারীকে তাহার পাওনার বাকী টাকা প্রদান করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) অনুসারে আমানতকারীগণের পাওনা পরিশেষ করার পর, সরকারী অবসায়ক সাধারণ পাওনাদারদের পাওনা কোন ব্যাংক-কোম্পানীর সম্পদের সহিত অনুপাত বজায় রাখিয়া পরিশোধ করিবেন, এবং অতঃপর সরকারী অবসায়ক যখনই নগদ টাকার আকারে ব্যাংক-কোম্পানীর সম্পদ সংগ্রহ করিতে পারিবেন তখনই উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) ৩ (গ) তে উল্লিখিত পাওনাদারগণের বাকী পাওনা সংগৃহীত সম্পদের সহিত অনুপাত বজায় রাখিয়া প্ৰদান করিবেন।

(৫) সরকারী অবসায়ক যাহাতে কোম্পানীর সর্বাধিক সম্পন্ন নগদ টাকার আকারে নিজের রক্ষণাবেক্ষণে আনিতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে তিনি নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত পাওনাদারদিগকে প্রদত্ত অনুমোদিত সম্পত্তি-নিদর্শনপত্র নিম্নলিখিতভাবে যুক্ত করিতে পরিবেন,

(ক) উক্ত পাওনাদারের পাওনার পরিমাণ সম্পর্কে পাওনাদারের নিজের মূল্যায়ন, বা ক্ষেত্রমত, সরকারী অবসায়কের মূল্যায়ন, উক্ত নিদর্শন-পত্রের মূল্য অপেক্ষা বেশী হইলে, সেই মূল্য পরিশোধ করিয়া; এবং

(খ) অনুরূপ মূল্যায়নে পাওনাদারের পাওনা উক্ত নিদর্শন-পত্রের মূল্যের সমান বা কম হইলে, পাওনা টাকা পরিশোধ করিয়া

তবে শর্ত থাকে যে, সরকারী অবসায়ক যদি পাওনাদার কর্তৃক মূল্যায়নে সন্তুষ্ট না হন, তাহা হইলে তিনি মূল্যায়ণ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।

(৬) উপ-ধারা (১), (২), (৩), (৪) ও (৫) এর বিধান মোতাবেক পাওনা পরিশোধের জন্য কোন দাবীদার, পাওনাদার বা আমানতকারীকে যদি পাওয়া না যায় বা তাহাকে যদি তৎক্ষণাৎ খুঁজিয়া পাওয়া না যায়, তাহা হইলে সরকারী অবসায়ক, উক্ত পাওনা পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করিবেন।

(৭) এই ধারার উদ্দেশ্য পুরণকালে, নিম্নবর্ণিত পাওনাসমূহকে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর পাওনা হিসাবে গণ্য করা হইবে, যথা :-

(ক) কোম্পানী আইনের Section 230 এর অধীন অগ্রাধিকার ভিত্তিক দাবীদারদের পাওনা

(খ) উপ-ধারা (২) (ক) এর অধীন আমানতকারীগণের সম্বয়ী হিসাবে পাওনা

(গ) উপ-ধারা (২) (খ) এর অধীন অন্যান্য আমানতকারীগণের পাওনা

(ঘ) সাধারণ পাওনাদারদের পাওনা .

(৩) উপ-ধারা (২) (ক) ও (খ) তে উল্লিখিত আমানতকারীগণের পাওনা পরিশোধের পর তাঁহাদিগকে প্রদেয় অতিরিক্ত পাওনা

(৮) উপ-ধারা (৭) এর উল্লিখিত প্রত্যেক শ্রেণীর পাওনাদারগণকে তাঁহাদের নিজেদের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হইবে এবং যদি পাওনা পরিশোধের জন্য প্রাপ্ত সম্পদ পর্যাপ্ত হয়, তাহা হইলে তাঁহাদের পূর্ণ পাওনা প্রদান করা হইবে, এবং উক্ত সম্পদ অপর্যাপ্ত হইলে সমান অনুপাতে তাঁহাদের পাওনা হ্রাস করা হইবে।

ব্যাংক-কোম্পানী ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও অবসায়ন । ষষ্ঠ খন্ড। ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

৭৫। বেচছায় অবসারণে বাধা-নিষেধ। কোম্পানী আইনের Section 203 তে ভিন্নতর কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও, কোন ব্যাংক-কোম্পানী উহার পাওনাদারদের ঋণ সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করিতে সমর্থ, এই মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিতভাবে প্রতারন না করিলে ধারা ৩১ এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোন ব্যাংক-কোম্পানীর যেচছা অবসায়ন করা যাইবে না; এবং মোছা অবসায়নের কার্যধারার কোন কোন পর্যায়ে যদি কোন ব্যাংক-কোম্পানী উহার কোন দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে হাইকোর্ট বিভাগ কোমপানী আইনের Section 218 এবং 220 এর বিধান ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে উক্ত কোমপানীর অবসায়নের জন্য আদেশ দিবে।

৭৬। কোন ব্যাংক-কোম্পানী এবং পাওনদারদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা বা বিশেষ ব্যবস্থার উপর বাধা-বিষেধ।– (১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যাংক-কোম্পানী এবং উহার পাওনাদার বা তাহাদের কোন শ্রেণীর মধ্যে, বা উক্ত কোম্পানী এবং উহার সদস্য বা সদস্য-শ্রেণীর মধ্যে, কোন আপোষ-মীমাংসা বা বিশেষ ব্যবস্থা অনুমোদন করিবে না, বা অনুরূপ কোন মীমাংসা বা বিশেষ ব্যবস্থায় কোন সংশোধন অনুমোদন করিবে না, যদি না বাংলাদেশ ব্যাংক এই মর্মে প্রত্যায়ন করে যে, উক্ত মীমাংসা, বিশেষ ব্যবস্থা বা উহাদের সংশোধন কার্যকর করার অযোগ্য নহে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কোম্পানীর পাওনাদারদের স্বার্থের পরিপন্থী নহে।

(২) কোন ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যাপারে বা উহার কোন পরিচালকের আচরণ সমপর্কে কোমপানী আর Section 230-4 অধীন কোন আবেদন দাখিল করা হইলে, হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে উক্ত ব্যাংকের অ এবং পরিচালকদের সম্পর্কে তদন্ত করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে, এবং যদি অনুকূপ নির্দেশ দেওয়া হইয়া থাকে, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাং অনুরূপ তদন্ত করিয়া হাইকোর্ট বিভাগে একটি প্রতিবেদন দাখিল করিবে।

৭৭। ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যবসা সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ এবং ব্যাংক-কোম্পানীর পুনর্গঠন বা একত্রীকরণ। (১) এই খণ্ডের পূর্ববর্তী বিধান অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা কোন চুক্তি বা অন্য কোন দলিলে যাহাই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট যদি ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যবসা সামগ্রিকভাবে স্থগিত রাখার (moratorium) আদেশ প্রদান করার কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে সেইরূপ আদেশ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদন বিবেচনা করিয়া উহা মঞ্জুর করিলে সরকার আদেশ দ্বারা, কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এবং শর্তাধীনে, উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যবসা স্থগিতকরণসহ উহার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ বা আইনগত কার্যধারার প্রবর্তন নিষিদ্ধ করিতে বা এইরূপ পদক্ষেপ বা কার্যধারা স্থগিত করিতে পরিবে। তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত সময় অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ বিধান অনুযায়ী ব্যতীত বা পরবর্তীতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ ব্যতীত, উক্ত আদেশ বলবৎ থাকার কারণে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর কোন আমানতকারীর পাওনা পরিশোধ করিবে না বা কোন পাওনাদারদের প্রতি উহার কোন দায় পরিশোধ বা দায়িত্ব পালন করিবে না।

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ বলবৎ থাকাকালে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, জনষার্থে বা আমানতকারীগণের স্বার্থে বা উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার স্বার্থে বা দেশের সামগ্রিক ব্যাংক-ব্যবস্থার মার্থে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর পূর্নগঠনের বা অন্য কোন ব্যাংক প্রতিষ্ঠান, অতঃপর এই ধারার হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংক বলিয়া উল্লেখিত এর সহিত উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর একত্রীকরণের জন্য স্কীম প্রণয়ন করা প্রয়োজন, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুরূপ স্কীম প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(৫) উপরোল্লিখিত স্কীমে নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয় থাকিতে পারে, যথা :-

(ক) পুনর্গঠিত, ব্যাংক-কোম্পানী বা, ক্ষেত্রমত, হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংকের গঠন, নাম, নিবন্ধনকরণ, মূলধন, সম্পদ, ক্ষমতা, অধিকার, স্বার্থ, কর্তৃত্ব, দায়, কর্তব্য এবং দায়িত্ব কার্যধারা;

(খ) ব্যাংক-কোম্পানীর একত্রীকরণের ক্ষেত্রে, স্কীমে নির্ধারিত শর্ত মোতাবেক হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংকের নিকট উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যবসা, সম্পত্তি, সম্পদ এবং দায় এর হস্তান্তর;

(গ) পুনর্গঠিত ব্যাংক-কোম্পানীর বা, ক্ষেত্রমত, হস্তাস্তরগ্রহীতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিবর্তন বা নুতন পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ, এবং কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কিভাবে এবং কি শর্তে উক্ত পরিবর্তন করা হইবে সেই বিষয়, এবং নুতন পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগের ক্ষেত্রে, কোন মেয়াদের জন্য নিয়োগ করা হইবে সেই বিষয়;

(ঘ) মূলধন পরিবর্তনের জন্য এবং পুনর্গঠন বা একত্রীকরণ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে পুনর্গঠিত ব্যাংক-কোম্পানী বা ক্ষেত্রমত, হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের সংঘ-স্মারক সংশোধন;

(ঙ) ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত আদেশের অব্যবহিত পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কোম্পানীর কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে গৃহীত যে সকল পদক্ষেপ বা কার্যধারা অনিষ্পত্তিকৃত ছিল তাহা পূর্ণগঠিত, ব্যাংক-কোম্পানীর বা, ক্ষেত্রমত, হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংক কর্তৃক অব্যাহত থাকার বিষয়

(চ) জনসার্থে, অথবা ব্যাংক-কোম্পানীর সদস্য, আমানতকারী বা অন্যান্য পাওনাদারগণের স্বার্থে, অথবা, ব্যাংক- কোম্পানীর ব্যবসা চালু রাখার স্বার্থে, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে প্রয়োজন মনে করে সেইভাবে উক্ত সদস্য, আমনাতকারী বা পওনাদারগণের প্রাক-পুনর্গঠন বা প্রাক-একত্রীকরণ স্বার্থ বা দাবী হ্রাসকরণ..

(ছ) আমানতকারী এবং অন্যান্য পাওনাদারগণের দাবী পুরণকল্পে,

(১) ব্যাংক-কোম্পানী পুনর্গঠিত করা বা একত্রীকরণের পূর্বে উহাতে বা উহার বিরুদ্ধে তাঁহাদের স্বার্থ বা অধিকার এর ভিত্তিতে উহা নগদ পরিশোধ ৰা

(২) ব্যাংক-কোম্পানীতে বা উহার বিরুদ্ধে তাহাদের স্বার্থ বা দাবী দফা (চ) অনুযায়ী হ্রাস করা হইয়া থাকিলে, হ্রাসকৃত স্বার্থ বা দাবীর ভিত্তিতে উহা নগদ পরিশোধ;

(জ) পুনা বা একত্রীকরণের পূর্বে ব্যাংক-কোম্পানীতে সদস্যদের যে পরিমাণ শেয়ার ছিল সেই পরিমাণ শেয়ার বা (চ) অনুযায়ী হ্রাস করা হইয়া থাকিলে হ্রাসকৃত শেয়ারের ভিত্তিতে প্রদেয় শেয়ার পুনগরিক। কোম্পানীতে বা, ক্ষেত্রমত, গ্রহীতা ব্যাংকে উক্ত সদস্যগণকে বরাদ্দকরণ এবং কোন সদস্যকে শেয়ার বরাদ্দ করা সফর না হওয়ার ক্ষেত্রে, তাঁহাদের পূর্ণ দাবী পূরণকল্পে

(১) পুনারিন বা একত্রীকরনের পূর্বে ব্যাংক-কোম্পানীর শেয়ারে তাহাদের বিদ্যমান যার্থের ভিত্তিতে উহা নগ পরিশেষে, বা

(২) উক্ত স্বার্থ দা- “চ) অনুযায়ী-হ্রাস করা হইয়া থাকিলে হ্রাসকৃত মার্থের ভিত্তিতে উহা নগদ পরিশোধ;

(ঝ) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত অদেশের অব্যবহিত পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কোম্পানীর সকল কর্ম বেতনে ও শর্তাধীনে কর্মরত ছিলেন’ সেই একই বেতনে ও শর্তাধীনে পুনর্গঠন ব্যাংক-কোম্পানীতে বা ক্ষেত্রমতজ হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংকে কর্মরত থাকার বিষয়ঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক এই ধারার অধীন স্কীম অনুমোদনের তিন বৎসর অতিক্রান্ত হইবার পূর্বে

(অ) পুনর্গঠিত ব্যাংক-কোম্পানী উহার কর্মচারীগণের জন্য এইরূপ বেতন ও সুবিধাদি নির্ধারণ করিবে যাহা এইরূপ নির্ধারণের সময় উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর সমতুল্য ব্যাংক-কোম্পানীতে কর্মরত সমমর্যাদাসম্পন্ন কর্মচারীগণ ভোগ করেন, এবং এইরূপ ব্যাংক-কোম্পানীর সমতুল্যতা ও কর্মচারীগণের পারস্পরিক সমমর্থ্যাদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে,

(আ) হস্তান্তর-গ্রহীতা ব্যাংক উহার নিজস্ব কর্মচারীগণের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সহিত তীর হইলে পূর্বতন ব্যাংক-কোম্পানীর কর্মচারীগণের জন্য উহার নিজস্ব সমমর্যাদাসম্পন্ন কর্মচারীদের সমান বেতন ও সুবিধাদি নির্ধারণ করিবে এবং যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সমমর্যাদা সম্পর্কে কোন সন্দেহ বা দ্বিমত দেখা দিলে বিষয়টি, বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি নির্ধারণের তারিখ হইতে তিন মাস সময় অতিক্রান্ত হইবার পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট পাঠাইতে হইবে এবং এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে

(ঞ) দফা (জ) তে যাহাই থাকুক না কেন, স্টীমে যে সকল কর্মচারীর ব্যাপারে বিশেষভাবে উল্লেখ থাকিবে, বা যে সকল কর্মচারী, সরকার কর্তৃক স্কীম মঞ্জুর হওয়ার এক মাস সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে যে কোন সময়ে পুনর্গঠিত ব্যাংক-কোম্পানী বা হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংকের কর্মচারী হিসাবে বহাল না হওয়ার ইচছা ব্যক্ত করিয়া নোটিশ প্রদান করিবে, সেই সকল কর্মচারীকে উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত আদেশের অব্যবহিত পূর্বে।

বিদ্যমান এতদসংক্রান্ত বিধি বা ব্যাংক-কোম্পানীর সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রদেয় কোন ক্ষতিপূরণ, পেনশন, গ্রাচুইটি, ভবিষ্য তহবিল এবং অন্যান্য অবসরজনিত সুবিধা প্রদানের বিষয়

(ট) ব্যাংক-কোম্পানীর পুনর্গঠনের বা একত্রীকরণের ব্যাপারে অন্য কোন শর্ত

(ঠ) পুনর্গঠন বা একত্রীকরণ কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাসংগিক, আনুষংগিক বা পরিপূরক অন্য কোন বিষয়।

ব্যাংক-কোম্পানী ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও অবসায়ন । ষষ্ঠ খন্ড। ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

(৬) বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধারার অধীন প্রস্তাবিত একত্রীকরণের ব্যাপারে, তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, আপত্তি বা পরামর্শ প্রদানের আহবান জানাইয়া, খসড়া স্কীমের একটি অনুলিপি ব্যাংক-কোম্পানী, হস্তান্তর-গ্রহীতা ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাংক-কোম্পানীর নিকট প্রেরণ করিবে।

(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন আহবানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্ত পরামর্শ ও আপত্তি বিবেচনা করিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক খসড়া। কীমে প্রয়োজনীয় সংশোধন করিতে পারিবে।

(৮) উপ-ধারা (৬) ও (৭) মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংক স্কীমটি অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে, এবং সরকার তৎকর্তৃক প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকেই, উক্ত স্কীম অনুমোদন করিবে । এবং অনুরূপভাবে অনুমোদিত স্টীমটি, সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত তারিখ হইতে কার্যকর হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, স্কীমের বিভিন্ন বিধানের প্রবর্তনের জন্য বিভিন্ন তারিখ নির্ধারিত হইতে হইবে

(৯) স্কীম বা উহার কোন বিধান কার্যকর হওয়ার তারিখ হইতে নিম্নবর্ণিত সকলেই উহা মানিতে বাধ্য থাকিবে, যথা :-

(ক) ব্যাংক-কোম্পানী, হস্তান্তর-গ্রহীতা ব্যাংক এবং একত্রীকরণের সম্পর্কিত অন্যান্য ব্যাংক-কোম্পানী।

(খ) কোম্পানী বা ব্যাংকের সদস্য, আমানতকারী এবং অন্যান্য পাওনাদার

(গ) উত্ত কোম্পানী ও ব্যাংকের কর্মচারী

(ঘ) উক্ত কোম্পানী বা ব্যাংক কর্তৃক রক্ষিত কোন ভবিষ্য তহবিল বা অন্য কোন তহবিলের ব্যবস্থাপনার সহিত জড়িত কোন ট্রাষ্টি বা উক্ত কোমপানী বা ব্যাংকে অধিকার বা দায় রহিয়াছে এমন সকল ব্যক্তি

(১০) সীম কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ব্যাংক-কোম্পানীর সকল সম্পত্তি, সমপদ ও দায় স্কীম বিস্তৃত পরিমাণ হস্তান্তর -গ্রহীতা-ব্যাকে হস্তান্তরিত ও প্রাপ্ত হইবে এবং উক্ত সকল সম্পত্তি সমপন ও নায় হস্তাক্ষর গ্রহীতা ব্যাংকের সমপত্তি সম্পদ ও দায় হইবে।

(১১) স্টীদের বিধান কার্যকর করিতে কোন অসুবিধা দেখা দিলে উত্ত অসুবিধা দুরীকরণের জন্য সরকার, আদেশ, হার নিকট প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত, কিন্তু উক্ত বিধানের সাথে অসামান্য নহে এমন সব কিছু করিতে পারিবে।

(১২) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন স্টীম বা উপ-ধারা (১১) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশের অনুলিপি, অনুমোদিত বা প্রদত্ত হইবার পর, সম্ভাব্য সমতম সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন করা হইবে।

(১৩) এই ধারার অধীন কোন ব্যাংক-কোম্পানীর একত্রীকরণ ক্রীম অনুমোদিত হইলে, উন্নতীম বা উহার কোন বিধানের অধীনে হস্তান্তর গ্রহীতা-ব্যাংক যে ব্যবসা অর্জন করে উহা ক্রীমটি বা উহার বিধান কার্যকর হইবার তারিখ হইতে হার গ্রহীতা ব্যাংকের কার্যকলাপ যে আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় সেই আইন দ্বারা পরিচালিত হইবে

তবে শর্ত থাকে যে, উঃ স্কীমকে পূর্ণরূপে কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশক্রমে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, অনধিক সাত বৎসরের জন্য উক্ত আইনের কোন বিধানের প্রয়োগ হইতে উত্ত ব্যবসাকে অব্যাহতি নিতে পারিবে।

(১৪) ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক-কোম্পানীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসা করণ (moratorium) আদেশ থাকা সত্ত্বেও, একটি মাত্র ক্রীমের দ্বারা উক্ত সকল ব্যাংক-কোম্পানীর একত্রীকরণের ক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই বাধা হইবে না।

(১৫) এই আইনের অন্য কোন বিধানে বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে বা কোন চুক্তিতে বা অন্য কোন প্রকার দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার বিধান এবং উহার প্রস্তুতকৃত যে কোন স্কীম কার্যকর হইবে।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন