ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ধারণা [ Concepts of Bank Management ]

ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ধারণা [ Concepts of Bank Management ] : ব্যাংক ব্যবসায় উদ্বৃত্ত সঞ্চয় আমানত হিসেবে বা শেয়ার হোল্ডারদের পুঁজি হিসাবে সংগ্রহ করে এবং প্রয়োজন বোধে অন্যান্য উৎস থেকে রূপ গ্রহণ করে তহবিল গঠন করা হয়। এরূপ ওছবিল হতে সংগ্রহ করতে ব্যাংককে সংগ্রহ খরচসহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক ব্যয় বহন করতে হয়। সুতরাং ঋণ অথবা অন্যান্য সেবা প্রদান কালে তহবিল খরচ তথা প্রশাসনিক খক বাদ দিয়ে ব্যাংকের লাভ হয় এমনভাবে ব্যাংক তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগ করা দক্ষ ও সফল ব্যাংক ব্যবস্থাপনার পূর্বশর্ত।

এরূপ দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাংককে উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠামো নির্বাচন করে তার কার্যক্রম পরিচালনা করা আবশ্যক। অন্যান্য কারবারী প্রতিষ্ঠানের মত উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠামোর মত স্বীকৃত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া যথাঃ পরিকল্পনা সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ, প্রেষণা প্রদান, তথা সময়ে সময়ে গৃহিত পদক্ষেপ ও প্রক্রিয়াসমূহ মূল্যায়ন করে অধিকতর সমন্বয় ও উন্নয়ন করা যেতে পারে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কৌশল সমূহ মূলতঃ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও সংহত ও কার্যকর করে তোলার উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি হয়েছে। অন্য যেকোন কৌশলের মত ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কৌশলের সাফল্যও এর প্রয়োগকারীর যোগ্যতার উপর নির্ভর করে। কৌশলকে যদি নিছক প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে পরিণত করা হয় তবে সে কৌশলের সৃজনশীলতা ও সাবলীলতা

প্রয়োগ ব্যহত হয়। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে এখানে আলোচনা ও বোঝার সুবিধার জন্য একটি চক্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া যে কোন উপাদান থেকেই সূচিত হতে পারে। আদর্শ ব্যবস্থাপনা সবসময় সব কয়টি উপাদানের সমন্বয়েই সৃষ্টি হয়।

 

ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ধারণা [ Concepts of Bank Management ]

 

ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ধারণা [ Concepts of Bank Management ]:

উল্লেখিত চক্রটি ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় যে ভূমিকা রেখেছে তার স্বল্প বিস্তর পর্যায়ক্রমিক আলোচনা নিয়ে উল্লেখ করা হল:

পরিকল্পনা (Planning):

ব্যাংক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া সাধারণত: পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে সূচিত হয়। ভবিষ্যত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে সংশিষ্ট ব্যক্তি ও উপাদান কি কি হতে পারে সে সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নামই পরিকল্পনা। কোন ব্যাংক বা ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা অথবা নির্দিষ্ট কোন কর্ম বিভাগ সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের সমাধান দেয়াই হচ্ছে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার মুখ্য কাজ। যেমন- কোন ব্যাংক, শাখা বা কর্ম বিভাগ কি ভূমিকা পালন করছে? কোন একটি নির্দিষ্ট কর্ম বিভাগ কিভাবে অন্যান্য কর্ম বিভাগের কর্মকান্ডে অবদান রাখছে? কোন্ ধরণের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাংকটি জড়িত। ব্যাংকটি কি কোন ব্যতিক্রমী ধরণের সেবা প্রদান করছে?

অথবা নির্দিষ্ট শাখাটি কি কোন বিশেষ অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সেবা প্রদান করছে? ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সমস্ত প্রশ্নের সমাধান দেয়া কোন একক ব্যক্তি বা বিভাগের কাজ নয়। বিভিন্ন শাখা ও কর্ম বিভাগের সমন্বিত তথ্যের ভিত্তিতেই শুধুমাত্র সার্বিক প্রেক্ষাপটের আলোকে এই সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব। আর তাই পরিকল্পনা প্রণয়নও একটি দলগত প্রয়াস। কোন বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে একটি ব্যাংকের সমস্ত দিকের প্রতি খেয়াল রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। বরং স্বার্থক পরিকল্পনা প্রনয়ণে অবশ্যই বিভিন্ন শাখা ও কর্ম বিভাগের সমন্বিত প্রয়াসের প্রয়োজন।

পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে রয়েছে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ। এটি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, পৃথক পৃথক দীর্ঘমেয়াদী কিংবা স্বলামেয়াদী পরিকল্পনার কথা এখানে বলা হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য সমন্বয়ে একটি একক পরিকল্পনাই এখানে আলোচ্য। ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ভবিষ্যতে অর্জনযোগ্য কিছু বিষয়কে সার্বিক দৃষ্টিতে চিহ্নিত করে। যেমন ভবিষ্যতে কোন নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংকের কামা কর্মপরিধি ও আকৃতি কতটুকু হবে?

কোন নতুন বাজার সৃষ্টির প্রয়াস নিতে হবে? ভবিষ্যতে ব্যাংকে ঋণ পত্রগুচ্ছে (loan portfolio) কোন কোন ধরণের ঋণের সমাহার থাকবে? ভবিষ্যতে কোন নির্দিষ্ট কর্মবিভাগের আকৃতি কি হবে? উক্ত কর্ম বিভাগের সম্প্রসারিত কার্যক্রমের জন্য কতটুকু বাড়তি স্থানের দরকার হবে? উক্ত বিভাগের জন্য কি ধরনের কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ করা হবে? প্রভৃতি।

পরিকল্পনার স্বল্প মেয়াদী লক্ষ্য সমূহ নিকট ভবিষ্যতে অর্জনযোগ্য বিষয়াদি বিস্তারিত আকারে বর্ণনা করে। পরিকল্পনার এই অংশের সাথে একটি বাজেট পরিকল্পনাও সম্পৃক্ত থাকে। বাজেট পৃথক কোন পরিকল্পনার অংশ নয়। বরং একটি সাধারণ পরিকল্পনার অংশ। পরিকল্পনা কেবলমাত্র ভবিষ্যতের লক্ষ্যমাত্রার সহজ-সরল নির্দেশিকা নয়। বরং পরিকল্পনার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজেটীয় প্রশাসন, উৎপাদনশীলতা ইত্যাদিও ভিত্তি। এই সমস্ত বিষয়ে কোন অসম্পূর্ণতা চিহ্নিতকরণ প্রকারান্তে পরিকল্পনার দূর্বলতাকেই প্রকাশ করে।

বেশ কিছু কৌশল ও হাতিয়ার পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তন্মধ্যে উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা (Management By Objective-MBO) অন্যতম। উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কৌশলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিকল্পনা প্রণয়নে সাহায্য করতে পারে না। তবে দক্ষ ব্যাংক ব্যবস্থাপকের আওতাধীনে এটি একটি শক্তিশালী ও মৌলিক কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে প্রায় সব দক্ষ ব্যাংক ব্যবস্থাপকই উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কৌশল ব্যবহার করেন।

 

 

সংগঠন (Organistion):

সংগঠন পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংক ব্যবস্থাপনার একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। কোন প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও নীতি নির্ধারণের পরে উক্ত নীতিমালার আলোকে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সমূহকে সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত লক্ষ্যের আলোকে কিভাবে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সম্পদ বস্টিত হবে তা নির্ণয়, সম্ভাব্য কার্যাবলীর অগ্রাধিকার নির্ধারণ, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, কলকব্জা ও কাঁচামাল সংগ্রহ প্রভৃতি কাজ সংগঠনের এখতিয়ারভুক্ত।

ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞগণ তাদের জ্ঞান-চক্ষু পর্যালোচনায় সংগঠন সংক্রান্ত যে সমস্ত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তার উল্লেখযোগ্য দুটি উল্লেখ করা হল।

| Louis A Allen এর মতে:

The process of identifying and grouping the work to be performed, defining and delegating responsibility and authority, and establishing relationship for the purpose of enabling people to work most effectively together in accomplishing objectives

Earnest Dale এর মতে:

Organization is the structural process in which individuals interact for achieving the stated objectives.

সাংগঠনিক কার্যক্রমের মুখ্য উদ্দেশ্যই হলো প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। সংগঠনের মাধ্যমে উৎপাদনের অপরাপর উপকরণসমূহকে কার্যকর ও দক্ষতাপূর্ণ উপায়ে একত্রিত করে প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের প্রয়াস নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ব্যক্তি যদি তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সম্পাদন করে, তবে তাদের সম্পাদিত কার্যাবলী সমন্বিতভাবে প্রতিষ্ঠানকে তার লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নেবে। আর

তাই প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব যদি সূচারুরূপে সংজ্ঞায়িত ও নির্ধারিত করে দেয়া না হয়, তবে সাংগঠনিক কার্যক্রমও অনেকাংশে অসাড় হয়ে পড়ে। কেননা কি কাজ করতে হবে তা যদি জানা না থাকে। তবে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতজন ব্যক্তিকে কি উপায়ে সংগঠিত করতে হবে তাও অস্পষ্ট থেকে যায়। মোট কথা, সুনির্ধারিত লক্ষ্য ব্যতিরেকে সংগঠনকার্য সম্ভবপর হয়ে উঠে না। ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাজের ধরণ অনুযায়ী ব্যাংকের কার্যাবলী সংগঠিত করা যেতে পারে। যেমন

বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক ব্যাংকিং, আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, ঋণদান প্রভৃতি, আবার ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী ও ব্যাংকের কার্যক্রম সংগঠিত হতে পারে। ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মচক্র লিখিতভাবে চিহ্নিত করাও সাংগঠনিক কাজের আওতাদ্ভূক্ত। যেমন সংগঠন সারণী। সংগঠন সারণীর মাধ্যমে সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের আন্তঃসম্পর্ক ও অবস্থান সচিত্র উপায়ে ক্রমানুসারে চিহ্নিত করা হয়।

সংগঠন দলগত কার্য সম্পাদনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের দায়িত্ব পুরো একটি দলের, কোন ব্যক্তি বিশেষের নয়। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সমন্বিত উপায়ে সামগ্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এই দলগত দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা সম্ভব। তবে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে এই দলগত প্রয়াসের সাফল্য বা ব্যর্থতার দায় বর্তায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপকের উপর। সাংগঠনিক কার্যক্রমে দায়িত্ব ও জবাবদিহীতার সূত্র সীমারেখা অনুধাবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংক ব্যবস্থাপক সামগ্রিক অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দলগত দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করেন। তবে লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে এই দলগত প্রয়াসের সাফল্য বা ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিতার দায় শুধুমাত্র ব্যবস্থাপকের। এখানে দায়িত্ব পালন ও হুবাবাদিহিতার দায় পৃথক ব্যক্তির উপর বর্তাচ্ছে। অবশ্য সামগ্রিক অংশগ্রহণ প্রক্রিয়ার অর্পিত দায়িত্ব পালনের জবাবদিহীতার দায় অধঃস্তন ব্যক্তির।

কার্যবিবরণ ও কার্য সম্পাদনের মানের মাপকাঠিতে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলীকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। কার্যবিবরণ হচ্ছে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপকের জবাবদিহিতার আওতা সম্পর্কিত একটি বিবৃত্তি। মনে রাখতে হবে, কার্যবিবরণ ব্যবস্থাপকের কার্যাবলী তালিকা নয়। একজন ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্ভাব্য সব দায় দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তিনি শুধু মাত্র তার জবাবদিহিতার আওতাধীন কাজের জন্য জবাবদিহী করবেন।

উদাহরণ স্বরূপ একজন ব্যবস্থাপক কর্তৃক সম্পাদিত কোন কাজ যদি দ্বিতীয় কোন ব্যবস্থাপকের জবাবদিহিতার আওতাধীন হয়, তবে প্রথমোক্ত ব্যবস্থাপকের কাজের জন্য দ্বিতীয় ব্যবস্থাপকটি এককভাবে জবাবদিহী করবেন। এক্ষেত্রে প্রথমোক্ত ব্যবস্থাপকের উপর উক্ত কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব অর্পন ও সম্পাদিত কাজের মান তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দ্বিতীয় ব্যবস্থাপকের। কার্য সম্পাদনের মান সম্পাদিত কাজের ফলাফল মূল্যায়নে সহায়তা করে থাকে। এই লিখিত দলিল ব্যবস্থাপকবৃন্দকে প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নের অপেক্ষায় না থেকে তাদের কাজের তাৎক্ষনিক স্ব-মূল্যায়নের সুযোগ প্রদান করে।

সমস্ত সংগঠন ধারণাটি শ্রম-বিভাজনের নীতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তাই সাংগঠনিক ব্যবস্থাপকগণকে বিভিন্ন অধঃস্তন ব্যক্তির মাঝে দায়িত্ব অর্পণের কৌশল আয়ত্বে রাখতে হয়। কোন ব্যক্তির উপর যখন কোন কার্য সম্পাদনের ভার অর্পিত হয়, সেই সাথে তাকে অবশ্যই তাঁর জবাবদিহিতার আওতাধীনে সম্ভাব্য সকল কাজ করার কর্তৃত্ব প্রদান করতে হবে। কার্য সম্পাদনের কর্তৃত্ব প্রদানের এই প্রক্রিয়াকেই কর্তৃত্ব অর্পন (Delegation of Authority) বলা হয়।

যেহেতু অর্পিত কৰ্তৃত্ব গ্রহীতা আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের দলগত যৌগ দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ, তাই কোন একটি নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জবাবদিহিমূলক দায়িত্ব তার উপর নতুন দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে। প্রকৃত অর্থে, ব্যবস্থাপক কর্তৃত্ব অর্পনের মাধ্যমে যদিও নতুন দায়বদ্ধতার জন্ম দেন, তবু দলগত ভাবে লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে তার পূর্বতন দায়বদ্ধতার কোন হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। অর্থাৎ কর্তৃত্ব অন্যের উপর অর্পিত হতে পারে, তবে দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতার দায় অর্পণ যোগ্য নয়।

উদাহরণ স্বরূপ ঋণ বিভাগের ব্যবস্থাপক একজন ঋণ কর্মকর্তার নিকট কোন কর্তৃত্ব অর্পন করতে পারেন, উক্ত ঋণ কর্মকর্তা তার উপর অর্পিত কাজের জন্য দায়বদ্ধ এবং তিনি ঋণ ব্যবস্থাপকের নিকট জবাবদিহী করবেন। কিন্তু তৎসত্ত্বেও ঋণ বিভাগের ব্যবস্থাপকের দায়বদ্ধতা হ্রাস পায় না। কেননা সামগ্রিকভাবে উক্ত বিভাগের সাফল্য বা ব্যর্থতার জন্য তাকেই জবাবদিহী করতে হবে।

কর্তৃত্ব অর্পণের মাধ্যমে এক ধরণের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সৃষ্টি হয়। এই বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সবচেয়ে বেশী কার্যকর হয় তখনি যখন একজন ব্যবস্থাপক তার অধঃস্তন কর্মকর্তাদের উপর অর্পিত কর্তৃত্ব আইনগতবিধি, নীতিমালা, নৈতিক দায়বদ্ধতা ও বাজেটসীমা দ্বারা সীমিত করে দেন।

সারকথা এই যে, সংগঠন ব্যক্তি মানুষের সাথে সম্পৃক্ত। এটি বিভিন্ন ব্যক্তির সুচারুরূপে সংজ্ঞায়িত আন্তঃসম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এবং কিছু সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের দায়বদ্ধতা দ্বারা ঐক্যবদ্ধ থাকে। ব্যক্তি মানুষের সব বৈশিষ্ট্যই সংগঠনকে প্রভাবিত করে। আর তাই মানব সম্পদ উন্নয়নের যাবতীয় কৌশল ও নীতিমালা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যাপক ভাবে সহায়তা করে।

 

 

সমন্বয় (Coordination) :

ব্যাংক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার সমন্বয় অংশটি দীর্ঘদিন যাবৎ আলোচনার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত থেকেছে। নানাধরণের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিচিত্রধর্মী ব্যক্তিত্ব ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হয়ে ওঠার সাথে সাথে ব্যবস্থাপনার সমন্বয় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

যখন সংগঠনকে বিভিন্ন ব্যবস্থাপকীয় ইউনিটে বিভক্ত করে স্বতন্ত্র কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়, তখন এ সকল ইউনিটের অনেকাংশই স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার ন্যায় কাজ করতে শুরু করে। কার্যকর পরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সাধারণ লক্ষ্যসমূহ একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গ্রুপের কার্যাবলীকে সংগঠিত করতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামো যদি জটিলতর হয়ে উঠে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র সাধারণ লক্ষ্যের আলোকে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গ্রুপকে শক্তিশালী ভাবে সংগঠিত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। আইনগত কারণে কিছু স্বায়ত্বশাসন প্রতিটি বিভাগই ভোগ করে। যেহেতু সকল বিভাগ একই ব্যাংকের অধীন, সুতরাং ব্যাংকের স্বার্থেই বিভিন্ন বিভাগের মাঝে বোঝাপড়া গড়ে তোলা অপরিহার্য।

সব ব্যাংক ব্যবস্থাপকই মূলতঃ এক একজন সমন্বয়কারী। তিনি বিবিধ নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি তার অধীনস্ত দলের সদস্যদের মাঝে বা তার অধীনস্ত দলের সাথে ব্যাংকের কিংবা ব্যাংক বহির্ভূত অন্যান্য দলের সমন্বয় সাধন করেন।

সমন্বয় এর মূলসুর হলো সবাই একসাথে কাজ করা। এক্ষেত্রে কারো ব্যক্তিগত প্রতিভা বা নৈপুণ্যের বিকাশের সুযোগ সীমিত হতে পারে। কেননা দলগত নৈপূণ্যই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিবেচ্য। তবে একথাও মনে রাখতে হবে, কিছু মাত্রায় স্বাধীনতা প্রদান করা না হলে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটতে পারে না। সুতরাং সমন্বয় এর জন্য সবসময় অবস্থার নিরিখে সময়ানুগ সিদ্ধান্ত নেয়া আবশ্যক। সমন্বয় এর স্বার্থেই কাউকে একটু নিয়ন্ত্রণের গন্ডিতে বেঁধে সাথে সাথে অন্য কাউকে স্বাধীনতার সুযোগ দেয়া, কোন পদ শূন্য হলে তা পূরণের ব্যবস্থা করা, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পূণঃ ব্যাখ্যা দেয়া প্রভৃতি কাজ যুগপৎভাবে করার প্রয়োজন হতে পারে।

যখন একজন ব্যাংক ব্যবস্থাপক মধ্যম বা নীচের সারির ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত থাকেন, সে অবস্থায় তার পক্ষে হয়তো একটি অসম্পৃক্ত কাজের সাথে নিজ বিভাগের লক্ষ্যের যোগাযোগ বের করা মুশকিল হতে পারে। কিন্তু ব্যবস্থাপকের উচিত উক্ত কাজের সাথে সমন্বয় সাধনে নিজ বিভাগের কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা। যদি সেবা বিভাগের কাছে বিনিয়োগ বিভাগ কিছু তথ্য চেয়ে থাকে, তবে উক্ত তথ্যের কি প্রয়োজন তা জানা না থাকলেও বিভাগের ব্যবস্থাপকের উচিত হবে উক্ত তথ্য বিনিয়োগ বিভাগকে সরবরাহ করা। অবশ্য উক্ত তথ্য বিনিয়োগ বিভাগের কেন প্রয়োজন তা তিনি জেনে নিতে পারেন।

কখনো কখনো ব্যবস্থাপকগণ এত ব্যস্ত থাকেন যে অন্য বিভাগ থেকে কোন অনুরোধ বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। তবুও অপর বিভাগের সাহায্যের আহবানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া ব্যবস্থাপকদের কর্তব্য। কেননা একজন ব্যবস্থাপক একাধারে একজন সমন্বয়কারীও বটে।

সাধারণ মানুষের পক্ষে ব্যাংকের কার্যক্রম অর্থাৎ এক দলের টাকা দিয়ে অন্যদলকে সাহায্য করার পদ্ধতি বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। জনগণের সাথে এই মানসিক দুরত্ব দূর করার দায়িত্ব ব্যবস্থাপকের উপরই বর্তায়। প্রয়োজনবোধে তাকে ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ কর্মীদের সাথে ব্যাংক বহির্ভূত গ্রুপের সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব ও গ্রহণ করতে হবে।

সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নানাবিধ কৌশল ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ ও নানাবিধ ব্যবস্থাপনা কৌশল নিয়ে কাজ করে। সমন্বয় কৌশলগুলোর মাঝে যোগাযোগ (Communication) অন্যতম। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সততা ও নিষ্ঠা একান্ত প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কর্মীদের কাজের কৌশল শেখানো এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করা সম্ভবপর হয়। ব্যবস্থাপক যদি ব্যক্তিগত চিন্তাধারার আলোকে সততার সাথে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেন এবং আন্তরিকতার সাথে তাদের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করেন, তবেই তথ্যের আদান প্রদান পরিপূর্ণ হবে।

কোন ব্যাংক ব্যবস্থাপক তার নিজের ধারণার চেয়ে পরিষ্কার ভাবে অন্য কোন ধারণা প্রকাশ বা প্রচার করতে পারেন না। কোন কিছু সম্পর্কে শিক্ষা অর্জনের মৌলিক প্রক্রিয়া হচ্ছে অধ্যয়ন, সুবণ, পর্যবেক্ষণ, আলোচনা ও চিন্তা। কোন ধারণা প্রকাশের পূর্বে উপরোক্ত মৌলিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা আত্মস্থ করে নিতে হবে।

সম্মেলন ও সভা হচ্ছে সমন্বয়ের অপর দু’টো কৌশল সম্মেলন পরিচালনার দক্ষতা কোন ব্যবস্থাপকের জন্য এক অনন্য যোগ্যতা। বিভিন্ন কমিটি গঠন, তাদের দায়িত্ব নির্দিষ্টকরণ, অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ এবং মেয়াদপূর্তিতে কমিটি অবলোপন প্রভৃতি কাজের যোগ্যতা এক্ষেত্রে সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একটি দক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট সকলের জন্যই মঙ্গলজনক। কেননা এর মাধ্যমে অন্যেরা কিভাবে চিন্তা ও কাজ করছে, বিভিন্ন কাজের সীমাবদ্ধতা কি কি প্রভৃতি বিষয় সকলের নিকট উন্মুক্ত হয়। উপরোক্ত সমস্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের আওতায় পড়ে।

মানুষের শিক্ষার স্তর উন্নত হওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা অনেক বৃদ্ধি পায়। সমঝোতা সমন্বয়ের একটি হাতিয়ার। মুক্ত মানসিকতা, যৌক্তিক বক্তব্য মেনে নেয়ার সদিচ্ছা, অপরের মতামত শোনা ও তার উপর শ্রদ্ধা রাখা প্রভৃতি সমঝোতার অন্যতম শর্ত। ব্যবস্থাপকগণ সাধারণতঃ যে কোন সমস্যাকে বিভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণের চেষ্টা করেন। পারস্পরিক লেনদেন এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব ব্যবস্থাপকের উপর বর্তায়। আর তাই সমঝোতা সৃষ্টির দক্ষতা ব্যবস্থাপকদের জন্য এক অত্যাবশ্যকীয় গুণ।

কর্মী এবং কর্মসূচীর সমন্বয়ের দক্ষতা ব্যবস্থাপকদের সাফল্যের অন্যতম শর্ত। একজন সফল ব্যবস্থাপককে অবশ্যই কর্মীদের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের মাঝে যথাযথ সামঞ্জস্য সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিত করতে হবে এবং যথাযথ নির্দেশনাও দান করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট পরস্পর বিপরীতমুখী স্বার্থসম্পন্ন বিভিন্ন গ্রুপের মাঝে সময়ানুগ সমঝোতা সৃষ্টি করে তাদেরকে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে নিশ্চিত উদ্দীপ্ত করার নামই হচ্ছে সমস্বয়। সময়ানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং ধৈর্য্যশক্তি হচ্ছে সমন্বয়কারীদের অত্যাবশ্যকীয় গুণ। অধীনস্ত কর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাস অন্তর করে তাদের নির্দেশমতো পরিচালনা করার ক্ষমতা অর্জন করাই সমন্বয়কারীর মূল দায়িত্ব।

 

 

প্রেষণা (Motivation) :

ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার সবচেয়ে আলোচিত উপাদানটি হলো প্রেষণা। কর্মচারীদের কর্মনৈপূণ্যের মূল চাবিকাঠিটি হচ্ছে প্রেষণা। যেহেতু প্রেষণা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম শর্ত, তাই কর্মভৃন্তি ও দলগত কর্মসম্পাদন ইত্যাদি বিষয় প্রেষণার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মূলত: মানুষের প্রেষণার উৎস সে নিজেই। ব্যাংক ব্যবস্থাপক কেবলমাত্র স্ব-প্রেধিত হবার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি করেন। এই উদ্দীপনা অনুকূল কর্ম পরিবেশ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সামান্য উৎসাহ
পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

একজন ব্যবস্থাপককে সর্বদাই মানুষের উচ্চাকাঙ্খা সমন্ধে সচেতন থাকতে হয়। কর্মসন্তুষ্টি বা কর্মতুষ্টি সাফল্যের অন্যতম শর্ত। আবার কাজের সাফল্যও উক্ত কাজে ব্যক্তির কর্মসন্তুষ্টিকে প্রভাবিত করতে পারে। আর তাই সব দক্ষ ব্যবস্থাপকই কাজের সাফলা বা ব্যর্থতার স্ব-মূল্যায়নের জন্য কোন না কোন পদ্ধতি প্রচলন করেন যাতে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা নিজেই নিজের সাফল্যকে মূল্যায়ন করতে পারে।

স্বমূল্যায়নের জন্য নানাবিধ কৌশল রয়েছে; যেমন পর্যালোচনা (Evaluation), মূল্যায়ন (Appraisal), নৈপূণ্য পর্যালোচনা (Performance review) মেধা তালিকা (Merit rating) কৌশল গুলোর নাম ভিন্ন হতে পারে, তবে এদের প্রত্যেকটিরই দুইটি মৌলিক প্রক্রিয়া রয়েছে। এগুলো হলো (ক) মানোন্নয়নের জন্য পর্যালোচনা (খ) দুর্বলতা বা ঘাটতি দুরীকরণার্থে পর্যালোচনা। এ দু’টো প্রক্রিয়া বেশ স্বতন্ত্র, তবে দক্ষ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে উভয় প্রক্রিয়ারই ব্যবহার হয়। সকল প্রতিষ্ঠানেই এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে করে কোন কর্মচারী বা কোন ব্যক্তি যুক্তি-সঙ্গতভাবে তার আত্মমূল্যায়ন করতে পারে।

একজন ব্যবস্থাপককে অবশ্যই কর্মচারীর প্রতিষ্ঠানের কিংবা নির্দিষ্ট কোন কর্মসূচীর সাফল্য পরিমাপের জন্য মূল্যায়ন কৌশলসমূহ সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। মূল্যায়নের জন্য সঠিক পরিমাপক নির্ণয় ছাড়াও ইতিবাচক মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রচলন দক্ষ ব্যাংক ব্যবস্থাপনার অন্যতম শর্ত। মূল্যায়ন পদ্ধতিকে যদি কর্মচারীদের ত্রুটি অনুসন্ধানের পরিবর্তে তাদের দুর্বলতা অতিক্রমের জন্য গঠনমূলকভাবে ব্যবহার করা হয় তাহলে তা অবশ্যই কর্মচারীদের কাজে উদ্দীপ্ত করবে, প্রেষণা যোগাবে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া শু সমঝোতা উন্নত করবে।

পুরস্কার ও সম্মানী ও ভাতা প্রেষণার ক্ষেত্রে তিনটি অন্যতম সাহায্যকারী হাতিয়ার। এগুলো অবশ্য প্রত্যক্ষভাবে প্রেষণামূলক নয়। তবে স্ব-প্লেখিত ব্যবস্থাপকদের দক্ষতার স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকদের উৎসাহ দেয়ার জন্য একটি উন্নত পারিতোষিক ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বেশীরভাগ মানুষই তার পেশাগত জীবনে উন্নতির সুযোগ চায়। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপকগণ তাদের অধঃস্তন কর্মচারীদের উন্নততর পেশাগত অবস্থানে যাবার স্বাধীনতা দেন। কেননা তারা জানেন যে উন্নত কর্মদক্ষতা সম্পন্ন কর্মচারীরা তাদের কর্মদক্ষতার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে পেশাগত উন্নতির জন্য প্রয়োজনে অন্যত্র চাকুরী গ্রহণ করবে। এভাবে পেশাগত ভাবে উন্নততর অবস্থাতে যাবার পথ উন্মুক্ত রেখে ব্যবস্থাপকগণ মূলত: তাদের নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য উদ্দীপ্ত হন।

অসাধারণ কর্ম নৈপুন্যের বিশেষ স্বীকৃতি কিংবা পৃথক অফিস কক্ষ, দরজায় নাম ফলক, উন্নত পদবী প্রভৃতি প্রতীকি অভিজাত্যের প্রতি ব্যবস্থাপকদের সহজাত আগ্রহ থাকে। মনে রাখতে হবে ব্যবস্থাপনা মূলতঃ একটি দলগত প্রয়াস। আর তাই উপরোক্ত স্বীকৃতি বা আভিজাত্যের চেয়ে ব্যবস্থাপনা কর্মীবাহিনীর নিবেদিত প্রাণ সদস্য হওয়াই ব্যবস্থাপকদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত্র। কেননা এতে সাফলা হতাশা উভয়ই অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার অপূর্ব সুযোগ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:

 

“ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ধারণা [ Concepts of Bank Management ]”-এ 3-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন