ব্যাংকের অনিয়ম, ক্ষতিপুরণ ও অবসায়ন

ব্যাংকের অনিয়ম, ক্ষতিপুরণ ও অবসায়ন

ব্যাংকের অনিয়ম, ক্ষতিপুরণ ও অবসায়ন

ব্যাংকের অনিয়ম, ক্ষতিপুরণ ও অবসায়ন

ব্যাংকের অনিয়ম, ক্ষতিপুরণ ও অবসায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনা

ক) অধি গৃহীত ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারগণকে ক্ষতিপূরণ প্রদান :

নির্ধারিত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে কোন ব্যক্তি অধিগৃহীত ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত থাকলে, উক্ত ব্যক্তিকে এবং অধিগৃহীত ব্যাংক বাহিরে নিবন্ধনকৃত হইলে, অধিগৃহীত ব্যাংককে অধিগৃহীত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের জন্য সরকার ব ক্ষেত্রমতে, হস্তান্তর গৃহীতা ব্যাংক বিবিধ নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী স্থিরীকৃত ক্ষতিপুরন প্রদান করবে। ব্যাংক কোম্পানী আইন। সেকশন-৬০]

(খ) ব্যাংক কোম্পানীর সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ রাখা

সামরিকভাবে দায় পরিশেষে অক্ষম কোন ব্যাংক কোম্পানীর আকোনক্রমে, হাইকোর্ট বিভাগ কোম্পানীর ক্রম গ্রহন চালু রাখা, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তাধীনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে স্থগিত রাখার আদেশ দিতে পারিবে যাহার একটি অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ সময় সময় সময়সীমা বর্ণিত করতে পারবে। কিন্তু এ বর্ধিত সময়ের মেয়াদ সর্বমোট ছয় মাসের অধিক হইবে না।

কবে উল্লেখ্য যে আবেদনকারী ব্যাংক কোম্পানী উহার দেনা পরিশোধ করতে পারবে এই মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত একটি আবেদন পত্রের সাথে সংযোজিত না হলে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হইবে না।

এন্ড শর্ত থাকে যে, আবেদন পত্রের সাথে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট সংযোজিত না থাকলেও হাইকোর্ট বিভাগ, যথাযথ কারণ থাকলে, উক্ত ব্যাংক কোম্পানীকে প্রয়োজনীয় প্রতিকার প্রদান করতে পারবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, হাইকোর্ট আবেদনকারী ব্যাংক একজন বিশেষ কর্মকর্তা ব্যাংকের যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়োগ করতে পারে। সেকশন-৬৪)

ব্যাংকের অনিয়ম, ক্ষতিপুরণ ও অবসায়ন

(গ) অবসানে কার্যক্রম

কোন ব্যাংক কোম্পানীর অবসায়ন আদেশ প্রদত্ত হবার পর হাইকোর্ট বাংলাদেশে অবস্থিত উহার শাখাসমূহ কর্তৃক বা উহাদের বিরদ্ধে থোপিত দাবী বিবেচনা করতে পারে ও উহাদের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারবে। এছাড়া হাইকোর্ট অবসায়নাধীন ব্যাংক কোম্পানী কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে Section 153 এর অধীন দাখিলকৃত কোন আবেদন বা অবসায়নকারী ব্যাংকের কোন অগ্রাধিকার ইসুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ও বিবেচনা করতে পারে।

কোন ব্যাংকের উপর অবসানে আদেশ জারী হলে উক্ত ব্যাংক কোম্পানী অবসানে আদেশ জারী হবার তিন মাসের মধ্যে সরকারী অবসরকের বিবরণ হাইকোর্টে উপস্থাপন করবেন। এমতবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগ অবসায়নাধীন ব্যাংক কোম্পানী দেনাদার গনের তালিকা চূড়ান্ত করবেন এবং দেনাদারগনের টাকা পরিশোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন। প্রয়োজনে হাইকোট উক্ত ব্যাংকে একজন বিশেষ অফিসার ব্যাংকের যাবতীয় হিসাব নিড্রেনের জন্য নিয়োগ করতে পারবেন।

এর মধ্যে হাইকোর্ট ডিক্রী জারি সহ একটি সার্টিফিকেট অবসায়নকারী বাংকের বিরদ্ধে প্রেরণ করবেন। উল্লেখ্য যে, দেনাদারদের

তালিকা চূড়ান্ত করবার সময় বা পূর্বে যে কোন সময় সরকারী অবসায়কের আবেদনক্রমে কোন ব্যাংক কোম্পানীকে জামানত হিসেবে

প্রদত্ত কোন সম্পত্তির উদ্ধার, ব্যবস্থপনা সংরক্ষণ, বিক্রীর জন্য আসেন প্রদানের ক্ষমতা হাইকোর্ট সংরক্ষন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ

ডিক্রী জারীসহ যে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন, উহাতে নিম্নবর্ণিত বিষয়ের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকবে। যথা :

(ক) মঞ্জুরীকৃত প্রতিকার

(খ) যে পক্ষের বিরুদ্ধে উক্ত প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়েছে সে পক্ষের নাম ও অন্যান্য বিবরণ

(গ) মঞ্জুরীকৃত খরচের পরিমান।

(ঘ) কোন তহবিল হতে এবং কাহার দ্বারা ও কি পরিমান উক্ত খরচ প্রদান করা হবে তৎ বিষয়।

Oh! East is East and West is West

And never the twain shall meet।

Till earth and sky meet presently,

At God’s great judgement Seat

                   – Rudiard Kipling.

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, হাইকোর্ট বিভাগ কোন বিভাগ কোন ঋণের ব্যাপারে কোন আপোষ মিমাংসা অনুমোদন করতে এবং কোন ঋণ কিন্তুির পরিশোধের আদেশ দিতে পারে।

ব্যাংকের অনিয়ম, ক্ষতিপুরণ ও অবসায়ন

এখানে উল্লেখ্য যে, যদি কোন দেনাদার অনুপস্থিতিতে তালিকা চূড়ান্তকরণ হলে, উক্ত ব্যক্তি তালিকার চূড়ান্তকরণ আদেশ প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে তালিকার যে অংশের সহিত তিনি সংশ্লিষ্ট সেই অংশ পরিবর্তন করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এই মর্মে হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন ব্যাংক কোম্পানীর দাবীর বিরূদ্ধে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে, তবে হাইকোর্ট উক্ত তালিকা পরিবর্তন করতে পারবেন। ব্যাংক কোম্পানী আইন [সেকশন-৭৮, ৭৯, ৮০, ৮১ ও ৮২

 উপসংহার [ Conclusion ]

পৃথিবীর বহুল নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় হচেছ ব্যাংক ব্যবসা। কারণ এ সব প্রতিষ্ঠানের শতকরা নব্বই ভাগের মত তহবিল আমানতকারীদের থেকে সংগৃহীত। কিন্তু অন্য সকল ব্যবসায়ে মালিকী মূলধন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যাংকের মালিকদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশী হওয়ায় মালিকগণ যে ঝুঁকি পরিগ্রহ করে থাকেন ব্যাংকের মালিকগণ তার চেয়ে অনেক কম ঝুঁকি বহন করে থাকেন। মক্কেল তথা আমানতকারীদের ঝুঁকি বেশী থাকে বলে প্রয়োজন সরকার তথা অন্য কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ। একাধিক কর্তৃপক্ষ এরূপ নিয়ন্ত্রণে বা নীতি নির্ধারণে ব্যাংকসমূহকে প্রভাবিত করে থাকে। এদের হাতিয়ার বা কৌশলসমূহ দেশ ও যুগভেদে ভিন্নতর হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সফল ও ফলপ্রসু নিয়ন্ত্রণ একদিকে ব্যাংকসমূহকে সঠিকভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে অতিরিক্ত ঝুঁকি তথা সমূহ ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতে সাহায্য করে। অপরপক্ষে, কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকের মক্কেলদের তথা দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন