ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

ক. ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (CIB)

ক্রেডিট ইনফরমেশন ঝুরো বাংলাদেশ ব্যাংকে নব প্রতিষ্ঠিত একটি বিভাগ যা ঋণ তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার হিসেবে কাজ করছে। সিআইবি তথ্য ভান্ডার মানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) এর আওতায় ব্যাংক, ব্যাংকে ঋণ এক হ সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহের এক নূতন দ্বার উন্মোচন করেছে।

ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো’র প্রধান কাজ হচেছ বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে বিভিন্ন ধরনের অর্থ। ব্যাংকিং তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করে সেগুলো সংকলন ও শ্রেণীভুক্ত করতঃ যথাযথ প্রক্রিয়াজাত করনের মাধ্যমে কম্পিউটার পদ্ধতি সংরক্ষণ করা এবং সরকার তফশীলি ব্যাংক ও অর্থলগ্নীকারী সংস্থা কর্তৃক ঋণনীতি প্রণয়ন ও পরিচালনায় তাদের অনুরোধ /চাহিদা সরবরাহ করা।

ইতপূর্বে বাংলাদেশের অর্থ বাজারের প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে অর্থ ও ব্যাংকিং তথ্য আদান প্রদান ও সমন্বয়ের কোন সুশৃংখল পদ্ধতি ছিলন বিধায় তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহককে প্রদানের উদ্দেশ্যে ঋণনীতি প্রণয়ন ও কার্যকরী করনে প্রভুত সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে ফলে স্বর্ণনীতি ও কণ বাজারে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজমান ছিল। কিন্তু ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো’র মতো একটি কেন্দ্রীয় তথ্য কারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় উপরোক্ত সমস্যা সমুহের উল্লেখযোগ্য সমাধান হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং সরকার প্রয়োজনী তথ্যাদি এখন কেন্দ্রীয় উৎস তথা সি আই বি হতে সংগ্রহ করতে পেরে নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া দক্ষতার সাথে সম্পাদন করতে পেরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ঝুরো নির্ধারিত ছক বা ফরম এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানস তথ্য বিনিয়োগ কোম্পানী, হাউজিং প্রতিষ্ঠান, নীটিং কোম্পানীসহ এ রূপ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে সি আই বি মাধ্যমে সংগহ করে। অর্থ্যাৎ ঐ প্রতিষ্ঠানসমূহ সি. আই বি ফরম-১ পূরণ পূর্বক তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট দাখিল করে। সিএই ফরম-১ এ ৫টি সেগমেন্ট রয়েছে। এ সেগমেন্ট গুলো যথাযথভাবে পুরনের উপর নির্ভর করে তথ্যের নির্ভূলতা।

সেগমেন্ট-১ ঋণ গ্রহীতার তথ্য (ঋণ গ্রহীতামাত্র)

সোমেন্ট-২ ঋণ গ্রহীতার তথ্য (কেবল মাত্র মালিকদের)

সেগমেন্ট-৩ ঋণ গ্রহীতার তথ্য (ব্যবসাগাষ্ঠী এবং এদের সহযোগী ও সিস্টার বানিজ্য প্রতিষ্ঠানসমূহ)।

সেগমেন্ট-৪ উদ্ঘাটন ম্যাট্রিকস।

সেগমেন্ট-৫ জামিনদারের তথ্যাবলী (তৃতীয় পক্ষের জামিন/সিকিউরিটি মাত্র)।

ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো তে তথ্য সঠিকভাবে সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে সিআইবি ফরম-১ পূরণের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী রয়েছে যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা পুস্তিকা হতে নিচে উদ্ধৃত করা হলো :

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

সাধারণ নির্দেশনা

১) তফসিলী ব্যাংকসমূহ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নিজ নিজ শাখাসমূহ থেকে পুরণকৃত সিআইবি ০১ ফরম সংগ্রহ করে সেগুলো জরুরী ভিত্তিতে পরীক্ষা করার পর কম্পিউটার ডিয়েটের মাধ্যমে (হার্ডকপি সহ) ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তার পরবর্তী মাসের শেষ তারিখের মধ্যে সিআইবি, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকায় অবশ্যই প্রেরণ করবে। ১ কোটি ও তদূর্ধ্ব টাকা বকেয়া স্থিতির ঋণ গ্রহীতার কন তথ্য মাসিক ভিত্তিতে তার পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিআইবিতে প্রেরন করতে হবে। ক্রেডিট ইনফরমেশন ঝুরো কর্তৃক ইস্যুকৃত বিজ্ঞতি মোতাবেক সিআইবি -০১ ফরমে ক্ষন সংক্রান্ত সকল তথ্য রিপোর্ট করতে হবে।

২। প্রতিটি ঋণের পরিমাণ লক্ষ টাকায় পুরণ করে সিআইবি ০১ ফরমে দেখাতে হবে। কোনক্রমেই অংকসমূহ লক্ষ টাকার অন্যথা হতে পারবে না। এ ব্যাপারে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৩) সিআইবি বিবরণীগুলোতে সন্নিবেশিত তথ্যসমূহ টাইপ করে অথবা স্পষ্টভাবে কালিদ্বারা লিখে পাঠাবে। কোন অবস্থাতেই পেন্সিলে লেখা চলব না। সকল তথ্য সিআই-ি০১ ফরমে অবশ্যই ইংরেজী বড় হাতের অক্ষরে (Capital Letter) পূরণ করতে হবে।

৪) সিআইবি ০১ ফরমের সেগমেন্ট ২, ৩, ৪ এবং ৫ পূরণ কালে একটি ফরমে স্থান সংকুলান না হলে বাংক শাখা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত শীট সংযুক্ত করতে হবে। মালিক ও ঋণ গ্রহীতার নাম ও ঠিকানা বানান প্রাথমিক পর্যায়ে যেভাবে পরিবেশন করা হবে পরবর্তী কালেও সেভাবে পরিবেশন করতে হবে।

৫) সিআইবি ০১ ফরম পূরণ করার পূর্বে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখাসমূহের কর্মকর্তাবৃন্দকে অবশ্যই এ অনু-পুস্তিকার সংশ্লিষ্ট সেকশনগুলোতে উপস্থাপন সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা এবং নির্দেশনাবলী মনোযোগ সহকারে পাঠ করতে হবে।

৬) অনু-পুস্তিকাটির শেষাংশে দেয়া পরিশিষ্টে ইসলামী ব্যাংকিং তথা অর্থাৎ ইসলামী ব্যাকিং ঋণ সুবিধা ও জেনারেল ব্যাংকিং সুবিধাসমূহের ইকুয়েশন এবং প্রধান প্রধান অনার্থিক পাবলিক এন্টারপ্রাইজসমূহের অংগ সংস্থার ও বেসরকারী অর্থলগ্নী সংস্থার নামের তালিকা সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

(৭) উপরোক্ত চূড়ান্ত সিআইবি ০১ ফরম পেশ করার সময় ব্যাংকসমূহের প্রধান কার্যালয় ও অর্থলগ্নী সংস্থাসমূহ নিম্নলিখিত বিবরণ সংবলিত একখানা সনদপত্রও সাথে প্রেরণ করবে

(ক) মোট শাখার সংখ্যা

(খ) অদাখিলকৃত শাখার সংখ্যা

(গ) দাখিলকৃত সংখ্যা এবং নামের তালিকা

(ঘ) শাখাসমূহ বাতিলকৃত ঋণ গ্রহীতার ও ছাড়কৃত জামিনদারের নাম ও ঠিকানার একটি তালিকা (ক্ষণ গ্রহীতার কোড নং সহকারে) তাদের প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করবে এবং প্রধান কার্যালয় বাতিলকৃত ঋণ গ্রহীতার ও ছাড়কৃত জামিনদারের নাম ও ঠিকানা সম্বলিত তালিকা (ঋণ গ্রহীতার কোড নং সহাকারে) সিআইবিতে প্রেরণ করবে।

(ঙ) নতুন ঋণ গ্রহীতার ফরম পাঠানোর সময় সিআইবি ফরমের সংশ্লিষ্ট সেগমেন্ট ১.২.৩.৪ ৩৫ তথায় আছে কিনা প্রধান কার্যালয়কে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।

(চ) নুতন ঋন গ্রহীতার ক্ষেত্রে শাখাসমূহ/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সংশ্লিষ্ট ১২.৩.৩৫ সেগমেন্টসমূহ মাধ্যমে সিআইবিতে জমা দিতে হবে।

৮। যে কোন অনুসন্ধানের জন্য ব্যাংক শাখাসমূহ নিজ নিজ প্রধান কার্যালয়ে সিআইবি ০১ ফরমের সাথে ব্যাপকভাবে পরিচিত কি সংগে যোগাযোগ করবে এবং প্রধান কার্যালয় প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট ইনফরমেশন বুরোর সাথে সবার যোগাযোগ করবে।

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

খ. ঋণ শ্রেণী বিন্যাস ও প্রভিশনিং এর নীতিমালা

বাংলাদেশের ব্যাংকিং লিটারেচার এ একটি নুতন বিষয় সংযোজিত হয়েছে। আর সেটা হচ্ছে Loan Default Culture বা সংস্কৃতি। এর দ্বারা এটাই বুঝানো হয় যে, যতো পারো ব্যাংক ঋণ নাও, কিন্তু ফেরত দিওনা”। এ ঋণ খেলাপী সমৃতি বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে এতই মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে যে, খেলাপী ঋণের কারণে অনেকগুলো ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা হ্রাস পেয়েছে এবং মুনাফার হার শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে।

যার ফলে অনেক গুলো ব্যাংকের নীট সম্পদের তুলনায় নী দায়ের পরিমাণ বেশী হওয়ায় ঐ সকল ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। অপরদিকে ব্যাংকগুলো এ সব খেলাপী ঋণের উপর যথারীতি সুদ হিসাবায়নের মাধ্যমে এ সব অর্জিত কিন্তু আনাদায়ী সুন বছর বর আয়ের খাতে প্রদর্শন করে এর উপর বোনাস /ভাতা নিচেছ অথবা দাবী করে আসছে। কিন্তু ব্যাংক গুলোর আর্থিক দেউলিয়াপনার বিষয়টি নিয়ে কেউ উচচবাক্য করে না।

ঋণ গ্রহীতাদেরকে গৃহীত ঋণ পরিশোষের জন্য উদ্বুদ্ধ করণের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকারের রিবেট/ব্রেয়াত বা সুদ মওকুফ সুবিধা সহ নবায়নের সুযোগ প্রদান কর সত্ত্বেও খেলাপী ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি না ঘটায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সর্বপ্রথম ১৯৮৯ ইং সালে বিভিন্ন সার্কুলার নং ৩৪ এর মাধ্যমে খেলাপী ঋণ সমূহ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট (শ্রেণী বিন্যাসিত করার সিদ্ধান নীতিমালা ঘোষনা করা হয় উক্ত সার্কুলার জারীর উদ্দেশ্য ছিল ঋন শ্রেণী বিন্যাসে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে শ্রেণী বিন্যাসিত ঋণ সমূহের জন্য প্রভিশন সংরক্ষণ করতঃ ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার স্থিতিশীলতা আনায়নের প্রচেষ্টা করা। ব্যাংক গুলো কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এ সকল ঋণের শ্রেণী বিন্যাস বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যাচাই (Kerify) করা হয়ে থাকে।

যা হোক, ঋণের শ্রেণী বিন্যাস ও প্রভিলনিং পদ্ধতি আরও সহজীকরন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আনায়নে উদ্দেশ্যে বিসিডি সার্কুলার নং৩৪ ১৯৮৯ এবং ২০ ১৯৯৪ সংশোধন পূর্বক সংশোধিত পদ্ধতি জারী করা হয় বিআরপিডি সার্কুলার নং ১৬/১৯৯৮ ইং এর মাধ্যমে। নিম্নে ঋণ শ্রেণী বিন্যাসের সর্বশেষ সংশোধিত নীতিমালা সপ্তক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো :

শ্রেণী বিন্যাসের উদ্দেশ্যে ব্যাংক প্রদত্ত সকল ঋণকে নিম্নলিখিত ৪ টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:

(ক) চলমান – (Continuous Loans and advances)

চলমান ঋণ বলতে সেই সকল কলকে বুঝায় যে গুলোর একটি সুনির্দিষ্ট অংকের ঋনসীমা থাকে এবং পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ নিলা করা থাকে। কিন্তু পরিশোধের জন্য ঋণ বিতরণ হতে Expiry date-এর মধ্যে কোন নির্ধরিত পরিশোধসূচী (repayment Sckedule) থাকে না। ক্যাশ ক্রেডিট ও ড্রাফট ইত্যাদি চলমান ঋণের আওতাভুক্ত।

খ) তলবী – (Demand loans ) :

তলবী ঋণ একটি নির্দিষ্ট অংকের হয়ে থাকে। ঐ ঋণসীমার অতিরিক্ত ঋণ দেওয়া হয় না। ঋণ দাতা ব্যাংক কর্তৃক চাহিবা মাত্র বা নোটি ইস্যু করা মাত্র এ ঋণ গ্রহীতা কর্তৃক ঋণ পরিশোধ করতে হয়। বিধায় এ জাতীয় ঋণকে তলবী ঋন বলা হয়ে থাকে। ফার্সড লিম, পিএ এফবিপি, আইবিপি ইত্যাদি তলবী ঋণের আওতাভুক্ত।

গ) মেয়াদী ঋণ-(Fixed term loans ) :

মেয়াদী ক্ষণসমূহ নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত পরিশোষ সূচী অনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়। স্বল্প মেয়াদী কৃষি ক্ষপসমূহ এর আততার নয়।

ঘ) স্বল্পমেয়াদী কৃষি – Short term agriculture tarm loam )

স্বল্পমেয়াদী কৃষি বলতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বাতিল বিক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় তালিকাভুক্ত স্বল্পমেয়াদী ঋণ সমূহকে বুঝাবে। কৃষি খাতে প্রদত্ত অনুর্ধ্ব ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য ঋণও ইহার আওতামুক্ত। স্বল্প মেয়াদী ক্ষুদ্র ক্ষণ বলতে অনুর্ধ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং অর্থ ১২ মাসে পরিশোষ যোগ্য মাইক্রো-ক্রেডিটকেও বুঝায়, তা অকৃষি ঋণ, স্বনির্ভর কল, তাঁত ক্ষণ বা ব্যাংকের নিজস্ব  ঋণ প্রকল্প যে নামেই অভিহিত হোক না কেন।

নিম্নমান                                          প্রভিশন ২০%

সন্দেহজনক                                  প্রভিশন ৫০%

মন্দ                                                 প্রভিশন ১০০%

শ্রেণী বিন্যাসের উদ্দেশ্যে স্বপ্ন সমূহকে নিম্নলিখিত ৩টি শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে এবং উহাদের জন্য প্রভিশনেরও বিধান রাখা হয়েছে।ঋণ শ্রেণী বিন্যাসের ভিত্তি এবং শ্রেণী বিন্যাসের সংজ্ঞাটির ব্যাখ্যা

নিম্নবর্ণিত ২টি মাপকাঠির ভিত্তিতে ঋণ সমূহ শ্রেণী বিন্যাসিত করা হয়ে থাকে

১। বস্তুগত মাপকাঠি (Objective Criteria)

২। গুণগত মান (Qualitative Judgement)

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

ক. বস্তুগত মাপকাঠি (Objective Criteria) :

বস্তুগত মাপকাঠি বলতে কোন ঋণ বিতরণের তারিখ, উহা পরিশোধের মেয়াদ (Expiry Date) পরিশোধের সূচী ইত্যাদি বিষয় গুলোকে নির্দেশ করে।

১) কোন চলমান ঋণ উহার পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সময় (Expiry Date) পরিশোধযোগ্য না হলে অথবা নবায়নকৃত না হলে পরিশোধ সময়সীমার (Expiry Date) পরদিন হতে ঐ গ্রুপ অনিয়মিত বলে পরিগণিত হবে। উক্ত ঋণ যদি ৩ মাস বা ততোধিক, কিন্তু মাসের কম সময়ের জন্য উপরোক্ত ব্যাখ্যানুযায়ী অনিয়মিত থাকলে উহা নিম্নমানের (Substandard) ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

ঐ একই ঋণ ৬ মাস বা ততোধিক কিন্তু ১২ মাসের কম সময়ের জন্য অনিয়মিত থাকলে তা সন্দেহজনক” (Doubthful) ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

ঐ ঋণ যদি ১২ মাস বা তদূর্ধ সময়ের জন্য অনিয়মিত অবস্থায় থাকে, তবে তা মন্দ (Bad/Loss) ঋন হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে।

২) কোন তলবী ঋণ ব্যাংক কর্তৃক দাবী করিবার তারিখ অথবা বাধ্যতামূলক ঋন সৃষ্টির তারিখ হতে ৩ মাস বা তদূর্ধ কিন্তু ৬ মাসের কম সময়ের জন্য অপরিশোধিত থাকলে উহা “নিম্নমান” (Substandard) হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে।

৬ মাস বা তদুর্ধ কিন্তু ১২ মাসের কম সময়ের জন্য অপরিশোধিত থাকলে “সন্দেহজনক” (Doubthful) হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং ১মাস বা তদুর্ধ সময়ের জন্য অপরিশোধিত থাকলে মন্দ (Bad/ Loss) ঋণ হিসেবে গণ্য হবে।

৩) কোন মেয়াদী ঋণের কিস্তি কোন নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পরিশোষিত না হলে, অপরিশোধিত কিস্তি বাবদ যে টাকা পাওনা হবে,পাওনা অর্থ “কিন্তুি খেলাপী” হিসেবে অভিহিত হবে।

৩.১) যে সকল মেয়াদীয় ঋণ সর্বোচচ পাঁচ বৎসর সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য। ঐ সকল মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে :

(অ) যদি “কিস্তি খেলাপী পরিমাণ ৬ মাস সময়ের মধ্যে প্রদেয় কিস্তির সমান বা অধিক হয়, তাহলে সম্পূর্ণ টি “নিম (Substandard) ” হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে।

(আ) যদি “কিস্তি খেলাপীর পরিমান ১২ মাস সময়ের মধ্যে প্রদেয় কিস্তির সমান বা অধিক হয় তাহলে সম্পূর্ণ ঋণটি “সন্দেহমূলক (Doubtful)” হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে।

(ই) যদি কিস্তি খেলাপীর পরিমান ১৮ মাস সময়ের মধ্যে প্রদেয় কিস্তির সমান বা অধিক হয়, তাহলে সম্পূর্ন ঋণটি মন্দ ঋন (Bad Loss ) ” হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে।

(৩.২) যে সকল মেয়াদী ক্ষণ ৫০ বৎসরের অধিক সময়ে পরিশোধযোগ্য। ঐ সকল মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রেঃ

(অ) যদি কিস্তি খেলাপী’র পরিমান ১২ মাস সময়ের মধ্যে প্রদেয় কিস্তির সমান বা অধিক হয় তাহলে সম্পূর্ণ ক্ষণটি “নিমন (Substandard) হিসেবে শ্রেনী বিন্যাসিত হবে।

(আ) যদি কিন্তুি খেলাপী’র পরিমান ১৮ মাস সময়ের মধ্যে প্রদেয় কিস্তির সমান বা অধিক হয় তাহলে সম্পূর্ণ স্বপ্নটি “সন্দেহজনক (Doubtful) হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে।

(ই) যদি “কিস্তি খেলাপী’র পরিমান ২৪ মাস সময়ের মধ্যে প্রদেয় কিস্তির সমান বা অধিক হয় তাহলে সম্পূর্ণ ক্ষণটি “মন ক্ষণ” (Bad  Loss) হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে।

(৪) স্বল্প মেয়াদী কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ চুক্তিতে উল্লেখিত নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উক্ত ঋণ পরিশোষিত না হলে উহা অনিয়মিত বলে। অনিয়মিত ঋন হিসেবে ১২ মাস সময় অতিক্রান্ত হলেই উহা “নিম্নমান” (Substandard) হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে। ৩৬ মাস অতিক্রান্ত হলে “সন্দেহজনক” (Doubtful) শ্রেণী বিনাসিক হবে এবং ৬০ মাস অতিক্রান্ত হলে (Bad Love হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত হবে।

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

(খ) গুনগতমান (Qualitative Judgement)

কোন চলমান ঋণ, বা তলবী ক্ষন, বা মেয়াদী ঋণ বস্তুগত মাপকাঠির ভিত্তিতে শ্রেণীবিন্যাসযোগ্য হউক বা না হউক। যদি ঐসকল আদায়ের ক্ষেত্রে কোনরূপ অনিশ্চয়তা বা সন্দেহ দেখা দিলে গুনগতমানের ভিত্তিতে উহা শ্রেণীবিন্যাস করিতে হইবে। যে সকল বিবেচনার ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করা হইয়াছে উক্ত অবস্থার পরিবর্তন ঘটিলে, বা প্রতিকূল অবস্থার কারণে ঋণ গ্রহীতার মূলমন ক্ষতিগ্রস্ত হইলে, বা জামানতের মূল্য হ্রাস পাইলে, বা অন্য যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতির ফলে ঋণ আদায় অনিশ্চিত হ গুনগতমানের ভিত্তিতে ঋণ শ্রেণীবিন্যাসিত হইবে।

ইহা ছাড়াও অযৌক্তিভাবে অথবা বারংবার কোন ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করা হইতে বা পুনঃতফসিলীকরনের বিধিমালা ভগ করা হইলে, বা ঋণের সীমা প্রায়শঃই অতিক্রমের প্রবণতা পরিলক্ষিত হইলে, বা কোন ন আদায়ের জন্য মামলা দায়ের করা হইলে, বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন ঋণ প্রদান করা হইলে গুণগতমানের ভিত্তিতে উহা শ্রেণীবিনাস করিতে হইবে।

উপরে বর্ণিত যে কোন কারণ অথবা অন্য কোন কারণে কোন ঋণ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যদি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে, তবে গুণগতমানের ভিত্তিতে উহা “নিম্নমান” হিসাবে শ্রেণীবিন্যাসিত হইবে।

তবে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেও ঋণের মূল্য সম্পূর্ণরূপে পরিশোধের সম্ভাবনা না থাকিলে উহা “সন্দেহজনক” এবং সর্বাত্মক প্রতী মাধ্যমেও ঋণ আদায়ের কোন সম্ভাবনা না থাকিলে গুনগতমানের ভিত্তিতে উক্ত ঋন “মদক্ষণ” হিসাবে গণ্য হইবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গুণগতমানের ভিত্তিতে শ্রেণীবিন্যাসিত করিবেন এবং গুণগতমানের উন্নয়ন ঘটলে ঐ সব ঋণ পুনরায় বিভো (Declassify) করিতে পরিবেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এর পরিদর্শকদল কর্তৃক কোন ঋণ শ্রেণীবিন্যাসিত হইলে উহা চূড়ান্ত বলিয় গণ্য হইবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরবর্তী পরিদর্শনের পূর্বে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক এর পূর্বানুমতি ব্যতিত উক্ত ঋণ বিশ্রেণীবিন্যাসিত বা (Declassify)করা যাইবে না।

৩. শ্রেণীবিন্যাসিত ঋণের সুদ হিসাবায়ন :

(ক) কোন ক্ষণ বা অগ্রীম নিম্নমান এবং সন্দেহজনক হিসাবে শ্রেণীবিন্যাসিত হইলে, উক্ত ঋণ হিসাবে সুদ আরোপ করা যাইবে, নি আরোপিত সুদ আয় হিসাবে স্থানান্তর করা যাইবে না। নিম্নমান এবং সন্দেহজনক হিসাবে আরোপিত সমূদয় সুদ “খিত সুৰ” ( Suspense) হিসাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(খ) কোন ঋণ বা অগ্রীম মন্দঋণ হিসাবে শ্রেণীবিন্যাসিত হওয়া মাত্রই ঋণহিসাবে সুদ আরোপ করা স্থগিত থাকিবে। এইরূপ কেন লক্ষ্যে মামলা দায়ের করিতে হইলে, মামলাপূর্ব সময় পর্যন্ত সুদ আরোপ করিয়া সুদাসলের উপর মামলা দায়ের করা যাইতে

তবে উত্তমরূপে আরোপিত সুদ ‘স্থগিত সু’ হিসাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে। অন্য কোন বিশেষ কারণে “মন্দ ঋণ” হিসাবে সুৰ অ করা হইলে, আরোপিত সুদ “স্থগিত সুদ” (interest suspense) হিসাবে সংরক্ষিত হইবে। (গ) শ্রেণীবিন্যাসিত ক্ষণ বা ক্ষণের অংশে আদায় হইলে অর্থাৎ ঋণ হিসাবে প্রকৃত জনা সংগঠিত হইলে, ভক্ত জমা হইতে অনারোপিত এবং আরোপিত সুদ আদায় করা হইবে, অতঃপর আসল জন সমন্বিত হইবে।

৪। প্রভিশন সংরক্ষণঃ

(ক) চলমান, তলবী এবং মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে শ্রেণীবিন্যাসিত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকসমূহ নিম্নরূপ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করিবে

(অ) নিম্নমান                              ২০%

(আ) সন্দেহজনক                    ৫০%

(ই) মন্দ                                      ১০০%

(খ) শ্রেণীবিন্যাসিত ঋণ এর বকেয়া স্থিতি হইতে স্থগিত সুদ ও উপযুক্ত জামানত এর মূল্য বিয়োজনপূর্বক নিরূপিত স্থিতির উপর উপরোক হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করিতে হইবে। অশ্রেণীবিন্যাসিত ঋণের বিপরীতেও ১% হারে সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(গ) উপরোক্ত অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ‘উপযুক্ত জামানত’ এর সংজ্ঞায় নিম্নবর্ণিত জামানতসমূহ অন্তর্ভুক্ত হইবে

– ঋণের বিপরীতে লিয়েনকৃত আমানতের ১০০%

– ব্যাংকে গচ্ছিত স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজার মূল্যের ১০০%

– লিয়েনকৃত সরকারী বন্ড/সকাপত্র মূল্যের ১০০%

– সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত গ্যারান্টির ১০০%

– ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীনে রক্ষিত সহজে বিপণনযোগ্য পণ্যের বাজার মূল্যের ৫০% জামানতকৃত জমি ও ইমারত এর বাজারমূল্যের সর্বোচচ ৫০%

(খ) স্বল্পমেয়াদী কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করিতে হইবে :

(অ) মন্দ ক্ষণ কৃতিত অন্য সকল ঋণের উপর (অর্থাৎ সন্দেহজনক, নিম্নমান অনিয়মিত এবং নিয়মিত করে উপর) ৫%

(আ) মন্দ ঋণের উপর ১০০%

৫। উপরোক্ত নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যাংকসমূহ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঋণ শ্রেণীবিন্যাস কার্যক্রম পরিচালনা করিবে। সূত্র তারিখের ৩০ দিনের মধ্যে শ্রেণীবিন্যাস, প্রভিশন ও স্থগিত সুদ হিসাব সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করতে হইবে। ১৯৯১ ইং সনের ১লা জানুয়ারী হতে কার্যকর উপরোক্ত শ্রেণীবিন্যাসের নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার বিধান করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক “অন সাইট ও অফ সাইট” সুপারভিশন এর মাধ্যমে ঋণ শ্রেণীবিন্যাস নীতিমালার পরিচালন মনিটর করছে।

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

গ. ঋণ ও অগ্রিম সংক্রান্ত নীতিমালা :

ক. ঋণ ও অগ্রিম প্রদানের উপর বাধা নিষেধ :

ব্যাংক-কোম্পানীকে ঋণ ও অগ্রিম প্রদানের উপর বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ব্যাংক-কোম্পানী নিজস্ব শেয়ারকে জামানত হিসেবে রেখে কোন ঋণ দিতে পারবে না।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানী এর কোন পরিচালক এর পরিচালকে কোন সদস্য, কোন কোম্পানী যার মালিক পরিচালকের আত্মীয়, বা কোন লিমিটেড কোম্পানী যার কোন পরিচালক উক্ত ব্যাংকে পরিচালকের আত্মীয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গকে ঋন বা অগ্রিম মঞ্জুর করবে না। উল্লেখ্য যে, এমন কোন কি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালকের অনুমোদন নেয়া যেতে পারে। ব্যাংক কোম্পানী আইন। সেকশন ২৭)

খ. তহবিল ঘাটতির উপর দণ্ড সুদ

কোন নির্দিষ্ট নিবসে প্রয়োজনের কম তহবিল রেখেছে, তবে ঐ সময়ে প্রচলিত ব্যাংক রেটের ৩% উপরে, ঘাটতি তহবিলের উপর বন্ড আদায় করবে। এবং যদি ঐ ঘাটতি দিবসের পরবর্তী কোন দিবসেও ওহিবলে ঘাটতি দেখা যায়, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক প্লেটের ৫% হারে দণ্ড সুদ আদায় করতে হবে।

গ. ঋণ মওকুফের উপর বাধা নিষেধ

আইনানুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতীরেকে বাংক কোম্পানী ইহার কোন পরিচালক বা তার পরিবারের সদসর্গ, কেন কোম্পানীর পরিচালক, অংশীদর যা মানেজিং এজেন্ট যার সহিদ বাকের কোন স্বার্থ রয়েছে এরূপ কোন ঋক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গৃহীত জন মাকুক করতে পারে না। ব্যাংক কোম্পানী আইন। সেকশন ২৮০ )

ঘ.  বৃহদাংক ঋণের অনুমোদন

কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক উহার কোন গ্রাহকের অনুকূলে বৃহ্যাংক ঋণ বিতরণ করতে হলে তার জন্য ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ ২৭(৩) ধারানুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহন করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক পরিচালনা ও উন্নয়ন বিভাগ বৃহাদাতে কা বিতরণের জন্য আইনের উপরের যাত্রার আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অনাপত্তি পত্র ইস করা বা না করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

ব্যাংক কোম্পানী আইনের ২৭(৩) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক উহার কোন গ্রাহকের অনুকূলে মঞ্জুরীকৃত চ যদি ব্যাংকটির মোট মূলধনের ১৫% শতাংশের বেশী হয় তাহলে ঐ ঋণ বৃহৰাকে ক্ষণ বলে গণ্য হবে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাে উল্লেখ্য যে, কোন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক উহার মোট মূলধনের ১০০% এর অধিক কোন একক গ্রাহককে ঋণ নিতে পারে না।

বৃহদাংক ঋণ অনুমোদনের পদ্ধতি :

বৃহদাংক ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে ২টি পর্যায় রয়েছে। প্রথম পর্যায় কোন গ্রাহক কোন নির্দিষ্ট অংকের ঋণ মঞ্জুর করার জন্য কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিকট আবেদন করে। গ্রাহককে যত (ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান) আবেদনের প্রয়োজনীয়তা, উদ্দেশ্য ইত্যাদির ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়। গ্রাহকের নিকট হতে ঋণ আবেদন পত্র পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রুপের অংকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয় গ্রাহকের আর্থিক অবস্থা, পরিশোষের সামর্থ জামানত ইত্যাদি বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে।

আবেদনকারী বাংকের পুরনো গ্রাহক হয়। থাকলে তার সাথে ঝাংকের দেনা পাওনার অবস্থা ও ঋণ পরিশোধের অভ্যাস ইত্তাদিও পর্যালোচনা করে। প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ব্যবসায়ের অবস্থা, লাভ-ক্ষতি ও ব্যালেন্সশীট বিশ্লেষন পূর্বক ব্যাংক সন্তুষ্ট হলে আইনানুগ কাগজ পত্রাদি দাখিল করার জন্য আবেদনকারী গ্রহীতা কর্তৃক ঋণ আবেদনের বিপরীতে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হলে গ্রাহকের অনুকূলে বাংকটি একটি বা প্রস্তাব তৈরি করতঃ তা অনুমোদনের জন্য ব্যাংকের বৃহদাংক ঋণ অনুমোদন কর্তৃপক্ষ তথা বোর্ড বা প্রধান নির্বাহীর নিকট পেশ করে।

বোর্ড বা প্রধান নির্বাহী প্রয়োজনীয় বিচার বিশ্লেষনের পর ঋণটি প্রস্তাবানুযায়ী অথবা সংশোধিত আকারে অনুমোদন করতে পারে। অমর পুনঃপেশ করার নির্দেশ দিতে পারে। বোর্ড বা প্রধান নির্বাহী ক্ষণ প্রস্তাবটি নাকচও করতে পারে। মোট কথা, ঋণটি বোর্ড বা প্রধান নির্বাহী কর্তৃক অনুমোদন বা মঞ্জুরী প্রাপ্ত হলেই ক্ষণের অংক ছাড় বা বিতরণের অনুমোদন পাওয়ার জন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট পেশ করার প্রক্রিয়া শুর হয় এবং এ পর্যায়কে বৃহদাংক ঋণ প্রদানের দ্বিতীয় পর্যায় বলে অভিহিত করা যায়।

ঋণ অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি / অনুমোদ প্রাপ্তি :

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ২৭ (৩) ধারানুযায়ী কোন ঋণ বৃহদংক ঋণ হলেই উহা ছাড় করনে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি অত্যাবশ্যক।

সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক বোর্ড বা নির্বাহী কর্তৃক বৃহদাংকে ঋন প্রস্তাবটি অনুমোদন হওয়ার পর ব্যাংকটি ঐ ঋণ গ্রাহকের অনুষ্ঠা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করে। ব্যাংকটি ঋণের অংক, গ্রাহকের ঋণের প্রয়োজনীয়তা, গ্রাহকের আর্থিক অবস্থা ইত্যাদির বিবরণসহ নিজস্ব “লেটার হেড লেড” এ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট অনাপত্তির জন্য আবেদন করে।

আবেদন পরের সাথে ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর ২৭(৩) ধারার বিধানানুযায়ী ২টি বিশেষায়িত ফরমে তথা ফরম-কও ফরম-খ তে ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে উহার চাহিদা মাফিক বেশ কিছু কিছু গুরত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে থাকে। ফরম-ক ও ফরম-খ যথাযথভাবে পূরণ পূর্বক দাখিল না করলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ আবেদন বিবেচনা করে না। উল্লেখ্য প্রানে চক বাকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট অনাপত্তির জন্য আবেদন করে। ফরম-ক ও ফরম-খ – তে গ্রাহক সম্পকে সর্বত্রই বাণিজ্যিক ব্যাংক যে সকল তথ্য সরবরাহ করে অথবা বাংলাদেশ বাংক যে সকল উপাত্ত চায় সে গুলো নিম্ন সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো :

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

ফরম-ক

১। ব্যাংকের নাম ঃ ক্ষপ প্রদানে ইচছুক তথা আবেদনকারী ব্যাংকের নাম, পূর্ণভাবে লিখতে হবে।

২। পত্র/সূত্র নং ৩ তারিখ ঃ বৃহদাংক ঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রত্যেক বাণিজ্যিক ব্যাংকের নামে একটি ফাইল ও সূত্র নং বরাদ্দ করে দিয়েছে। উক্ত স্থানে যে আবেদন পত্রটি পেশ করা হয়েছে উহার নং ও তারিখ উল্লেখ করতে হয়।

৩। ঋণ আবেদনকারী /গ্রাহকের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হয়।

৪। ঋণের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান/গ্রাহকের প্রকৃতি তথা উহা ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশীদারী কিংবা প্রাইভেট বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী কিনা তা উল্লেখ করতে হয়।

৫। প্রস্তাবিত স্বপ্ন/ক্ষণসুবিধা এক বা গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য কিনা তা স্পষ্ট ভাবে লিখতে হবে।

৬। ঋণ আবেদনকারীর/গ্রাহকের ব্যবসায়ের নীট সঙ্গতি মূলধন ইত্যাদির অবস্থা ও প্রকৃতি ও অংক উল্লেখ করতে হয়।

৭। আবেদনকৃত ঋণ/কল সুবিধার প্রকৃতি তথা ঋণটির মুখ্য বা গৌণ উদ্দেশ্য কি উহা নুতন কিংবা পুরাতন ঋণের নবায়নের বা বর্ধিত করনের আবেদন কিনা, ঋণটি কোন কান্টনমেন্ট দায় নির্বাহ করার জন্য কিনা এবং উহার মেয়াদ সুনির্দিষ্টভাবে বিবৃত করতে হয়।

৮। ক্ষণটির জামানতের প্রকৃতি, বিবরণ ও মূল্য সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হয় এবং ক্ষপটি পর্যাপ্ত জামানত দ্বারা আচ্ছাদিত কিনা তা উল্লেখ করতে হয়।

৯। আবেদনকারী ব্যাংকের সাথে ঋনের জন্য আবেদনকারী গ্রাহকের বিদ্যমান দায় কত এবং নুতন সহ সংযোজিত হলে মোট দার কত হতে এবং তা ব্যাংকের মোট মূলধনের শতকরা কতভাগ হবে এর ক্যালকুলেশন দেখাতে হয়।

১০। আবেদনকারী ব্যাংকের সাথে গ্রাহকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কোন দায় আছে কিনা, থাকলে উহার পরিমান ও প্রভা বর্ণনা করতে হয়।

১১। গ্রাহকের বর্তমান আবেদনকৃত ঋণ এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পূর্বেকার ঋন সমেত মোট কল আবেদনকারী ব্যাংকের মোট মূলধনের শতকরা কতভাগ তা উল্লেখ করতে হয়।

১২। আবেদনকারী গ্রাহকের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে কিনা এবং হলে ঐ ফল ঝুঁকি উক্ত ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে কিনা তা উল্লেখ করতে হয়।

১৩। আবেদনকারী ব্যাংক কর্তৃক এ যাবত সর্বমোট কতটাকা বৃহদাংক ঋণ অনুমোদন ও ছাড় করা হয়েছে, উহাও স্পষ্ট ভাবে বলতে হয়

১৪। গ্রাহকের ঋণ আবেদনটি ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের বোর্ড বা প্রধান নির্বাহী কর্তৃক অনুমোদন করা হয়েছে কিনা তা অনুমোদনের কপি সংযোজন সহ উল্লেখ করতে হয়।

১৫। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো হতে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে উহ্য সংযোজন পূর্বক দেখাতে হয় আবেদনকারী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে কোন শ্রেণী বিন্যাসিত ঋণ আছে কিনা।

উপরোক্ত তথ্যসমূহ সমৃদ্ধ যথাযথ ভাবে পূরণকৃত ফরম-ক আবেদনকারী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষর করতঃ আবেদন পত্রে সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করা হয়।

ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম

“বৃহদাংক ঋণ ফরম- খ “

ঝাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর ২৭(৩) ধারানুযায়ী আবেদনকারী ব্যাংককে আবেদনকারী গ্রাহকের ব্যবসায় গত ও ব্যক্তিগত সম্বলিত ফরম -শ ও পূরণ এবং স্বাক্ষর পূর্বক মূল আবেদন পত্রের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হয়। ফরম- ‘খ’তে যে সব নি সন্নিবেশিত হয় সেগুলো পরবর্তী পৃষ্ঠায় আলোচনা করা হল ঃ

ক. ঋণ আবেদকারীর বিবরণ :

১. প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা :

২. গ্রুপের নাম(প্রযোজ্য হলে)

৩. প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি (ব্যক্তি মালিকানাধীন / অংশীদারী / প্রাইভেট /পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী

৪. ক. ব্যবসায়ের প্রকৃতি

খ. প্রস্তাবিত ঋণের উদ্দেশ্য

৫. মালিক / অংশীদর / পরিচালকদের নাম ও আবাসিক ঠিকানা

৬. ক. মালিক /অংশীদার / পরিচালকদের মধ্যে কেউ কোন ব্যাংকিং কোম্পানী / ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানীর পরিচালক হলে তার নাম।

খ. আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান ব্যাংক দায় সম্পর্কিত বিবরণী (আবেদনের তারিখ ভিত্তিক) যেন, শাখাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নাম, মঞ্জুরীকৃত ঋন সীমা ও তারিখ বিদ্যামন দায় দেনার পরিমান ঋণের প্রকৃতি, ঋণের উদ্দেশ্য, মেয়াদ পূর্তির তারিখ, জামানতের প্রকৃতি ও মূল্য ইত্যাদি তথ্যাদি উল্লেখ করতে হয়।

গ. ঋণ আবেদনকারী অন্যান্য অংগ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান ব্যাংক দায় সম্পর্কিত হাল নাগাদ বিবরণী যদি থাকে উল্লেখ করতে হবে।

ঘ. ঋণ আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান/অংগপ্রতিষ্ঠান (খেলাপী) ঋণ সম্পর্কিত হাল নাগাদ বিবরণীতে ও উল্লেখ করতে হবে।

ঙ. প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পূর্বে গৃহীত ঋণ সুবিধায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন আছে কিনা এবং থাকলে উহার সূত্র ও তারিখ উল্লেখ করতে হয়।

আবেদনকারী ব্যাংক মূল আবেদন পত্র এর তাদের পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ফরম-ক ও ফরম-খ পরীক্ষা, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নপূর্বক প্রাপ্ত ফলাফলে বাংলাদেশ ব্যাংক দৃষ্ট হলে আবেদনকৃত বৃহদাংক ঋণের অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়ে থাকে। অন্যথায় আবেদন নাকচ করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন