ব্যাংক কোম্পানী আইন প্রারম্পিক । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানী আইন প্রারম্পিক । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানী আইন প্রারম্পিক । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১

ব্যাংক কোম্পানী আইন প্রারম্পিক । প্রথম খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম। (১) এই আইন ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা ২৪শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৯১ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

২। অন্যান্য আইনের প্রয়োগ। এই আইনের বিধানাবলী, উহাতে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে Companies Act, 1913 (V of 1913) সহ আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অতিরিক্ত এবং উহার হানিকর নয়, বলিয়া গণ্য হইবে।

৩। সমবায় ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনের সীমিত প্রয়োগ। – এই আইনের কোন Co-operative Societies Ordinance, 1985 (I of 1985) অথবা সমবায় ব্যাংক সমম্পর্কিত আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন নিবন্ধীকৃত কোন সমবায় ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না। তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৪৪ এবং ৪৫ এর অধীন ব্যাংক কোমপানী যেভাবে তদন্ত করা হয় উহাকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক একইভাবে যে কোন সমবায় ব্যাংকের তদন্ত করিতে, এবং ঐ সকল ব্যাংককে নির্দেশ দিতে পারিবে।

৪ । আইনের প্রয়োগ স্থগিত করার ক্ষমতা। (১) বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে এতদুদ্দেশ্যে প্রেরিত আবেদন বিবেচনা করিয়া যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, এই আইনের সকল বা কোন নির্দিষ্ট বিধানের প্রয়োগ কোন বিশেষ ব্যাংক-কোমপানীর ক্ষেত্রে স্থগিত রাখা সমীচীন, তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, অনধিক ষাট দিনের জন্য এইরূপ প্রয়োগ স্থাপিত রাখিতে পারে।

(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপধারা (১) এর অধীন স্থগিত মেয়াদ সময় সময় অনধিক ষাট দিন করিয়া

বর্ধিত করিতে পারিবে, তবে কোন অবস্থায় অনুরূপ স্থগিতের মেয়াদ সর্বসাকুল্যে এক বছরের বেশী হইবে না।

(৩) এই ধারার অধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপন নিম্নরূপে জাতীয় সংসদে পেশ করিতে হইবে, যথা :

(ক) উহা অধিবেশনে থাকিলে, প্রজ্ঞাপন জারীর দশ দিনের মধ্যে, বা

(খ) উহা অধিবেশনে না থাকিলে, প্রজ্ঞাপন জারীর পর অধিবেশন শুরু হওয়ার দশ দিনের মধ্যে।

৫। সংজ্ঞা। বিষয় অথবা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে…

(ক) অনুমোদিত সম্পত্তি নিদর্শন -পত্র” অর্থ সেই সব সম্পত্তি নিদর্শন পত্র যাহাতে কোন ট্রাষ্টী Trust Act, 1882 (n of 1882) এর Section 20 এর Clause (a), (b) (bb). (c) অথবা (d) অধীন অর্থ বিনিয়োগ করিতে পারে, এবং ধারা ১৩ (৪) এর ব্যাপারে, সেই সব সম্পত্তি নিদর্শন পত্র ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবে যেসব সম্পত্তি নিদর্শন পত্রকে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত ধারার ব্যাপারে অনুমোদিত সমপত্তি নিদর্শন-পত্র হিসাবে ঘোষনা করে।

ব্যাংক কোম্পানী আইন প্রারম্পিক । প্রথম খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

(খ) “কোমপানী” অর্থ এমন কোন কোমপানী যাহা কোমপানী আইন অনুসারে অবসায়িত হইতে পারে

(গ) “কোমপানী আইন” অর্থ Companies Act, 1913 (VII of 1913 );

(ঘ) চাহিবা মাত্র দায়” অর্থ এমন আর্থিক দায় যাহা চাহিবা মাত্র অবশ্যই পরিশোধ করিতে হইবে,

(ঙ) “জামানতী ঋণ বা অগ্রীম” অর্থ সেই ঋণ বা অগ্রিম যাহা সম্পদের জামানত গ্রহণ করিয়া প্রদান করা হয় এবং যাহ মূল্য উক্ত সম্পদের বাজার মূল্য অপেক্ষা কোন সময়েই কম হয় না এবং “অজামানতী ঋণ বা অগ্রিম” অর্থ সেই ক্ষণ বা অগ্রিম বা উহার কোন অংশ যাহা সম্পদের জামানত গ্রহণ করিয়া প্রদান করা হয়না,

(চ) তফসিলি ব্যাংক” সেই অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে যে অর্থে Bangladesh Bank Order (PO No. 127 of 1972) Article 20) তে Scheduled Bank” কথাটি ব্যবহৃত হইয়াছে,

(ছ) “দেনাদার” অর্থে লাভক্ষতির ভাগাভাগি, ধরিদ বা ইজারার ভিত্তিতে বা অন্য কোন ভাবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহনকারী ব্যক্তি, কোমপানী বা প্রতিষ্ঠানকেও বুঝায়

(জ) “নুতন ব্যাংক” Bangladesh Bank (Nationalisation Order, 1972 (PO.No. 26 of 1972) ঙ সংজ্ঞায়িত কোন New Bank,

(ঝ) “পাওনাদার” অর্থে

(১) লাভক্ষতির ভিত্তিতে অর্থ গচ্ছিত রাখিয়াছেন এমন ব্যক্তি, কোমপানী বা প্রতিষ্ঠান, বা

(২) ক্ষত বা ইজারার ভিত্তিতে বা অন্য কোনভাবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্র কোমপানী বা অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান বুঝাইবে,

(ঞ) প্রাইভেট কোম্পানী সেই অর্থ ব্যবহৃত হইয়াছে যে অর্থে উহা কোমপানী আইনে ব্যবহৃত হইয়াছে

(ট) বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ Bangladesh Bank Onder, 1972 (P. O. No. 127 of 1972) এর অধীন স্থাপিত Bangladesh Bank,

(ঠ) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি;

(ড) “বিশিষ্ট ব্যাংক” অর্থ আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের দ্বারা বা অধীন স্থাপিত বা গঠিত কোন ব্যাংক এবং সরকার এই

আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোন ব্যাংককে বিশিষ্ট ব্যাংক হিসাবে ঘোষণা করিলে সেই

ব্যাংকও এই সংজ্ঞায় অন্তর্ভূক্ত হইবে :

(ঢ) ব্যবস্থাপনা পরিচালত অর্থ

(১) নুতন ব্যাংকের ক্ষেত্রে Bangladesh Bank (Nationalisation) Order, 1972 (P.O.No. 28 of 1972)-8 সংজ্ঞাভুক্ত কোন Managing Director:

(২) বিশিষ্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যাংক যে আইন বা আইনের মর্যাদা বিশিষ্ট দলিলের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বা শীত হইয়াছে উহাতে প্রদত্ত সংজ্ঞাভুক্ত কোন Managing Director

(৩) অন্য কোন ব্যাংক-কোম্পানীর ক্ষেত্রে সেই পরিচালক, যাঁহার উপর, উক্ত ব্যাংক কোমপানীর কোন চুক্তি বা উহার সাধারণ বা পরিচালনা পর্ষদের সভায় গৃহীত প্রস্তাব, বা উহার সংঘ-স্মারকের বিধান অনুসারে, উহার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা হইয়াছে, এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে, উক্ত পদের নাম যাহাই হউক না কেন, অধিষ্ঠিত কোন পরিচালকও এই সংজ্ঞার অন্তর্ভূক্ত হইবেন

ব্যাংক কোম্পানী আইন প্রারম্পিক । প্রথম খন্ড । ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ । পরিশিষ্ট - ৪

(ণ) “ব্যাংক-কোমপানী” অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী পরিচালনাকারী কোন কোমপানী, এবং যে কোন নুতন ব্যাংক ও বিশিষ্ট ব্যাংক ও ব্যাংক কোম্পানীর অন্তর্ভূক্ত হইবে;

ব্যাখ্যা – যে কোম্পানী মূলতঃ পণ্য উৎপাদন বা বাণিজ্য পরিচালনা করে এবং শুধুমাত্র উক্ত উৎপাদন বা বাণিজ্যের অর্থ সংস্থানের জন্য জনগণের নিকট হইতে টাকার আমানত গ্রহণ করে, সেই কোম্পানী এই দফার অধীন ব্যাংক ব্যবসা করিতেছে বলিয়া গণ্য হইবে না।

(ত) ব্যাংক ব্যবসা” অর্থ কর্জ প্রদান বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে জনসাধারণের নিকট হইতে টাকার এইরূপ আমানত গ্রহণ করা, যাহা চাহিবামাত্র বা অন্য কোনভাবে পরিশোষযোগ্য এবং চেক, ড্রাফট, আদেশ বা অন্য কোন পদ্ধতিতে প্রত্যাহারযোগ্য,

(থ) মেয়াদী দায় অর্থ চাহিবামাত্র দায় ব্যতীত অন্যান্য আর্থিক দায় (থথ) মুদারাবা সার্টিফিকেট” অর্থ মুদারাবার ভিত্তিতে প্রদত্ত সার্টিফিকেট,

(থথথ) “মুদারাবা” অর্থ এমন চুক্তি যাহার শর্তানুসার ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক পরিচালিত কোন ব্যাংক কোন কিছুতে মুলধন যোগান দেয় এবং গ্রাহক উহাতে দক্ষতা, প্রচেষ্টা, শ্রম ও প্রজ্ঞা নিয়োজিত করে

(থথথথ) “মুশারিকা সার্টিফিকেট” অর্থ মুশারিকার ভিত্তিতে প্রদত্ত সার্টিফিকেট

(থথথথথ) “মুশারিকা” অর্থ এমন চুক্তি যাহার অধীন কোন কাজে মূলধনের এক অংশ ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক পরিচালিত কোন ব্যাংক এবং অপর অংশ গ্রাহক যোগান দেয় এবং যে কাজের লাভ চুক্তিতে উল্লিখিত অনুপাতে এবং লোকসানত মূলধন অনুপাতে বণ্টিত হয়

(দ) “স্বর্গ” অর্থ মুদ্রার আকারে স্বর্ণ, আইনানুগ টেন্ডার হউক বা না হউক, অথবা বাট বা পিশু আকারে স্বর্ণ, পরিশোধিক হউক বা না হউক;

(ধ) “রেজিষ্টার” সেই অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে যে অর্থে উহা কোমপানী আইনে ব্যবহৃত হইয়াছে;

৬। সংঘ স্মারক ইত্যাদির উপর আইনের প্রাধান্য। এই আইনের ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে,

(ক) নুতন ব্যাংক বা বিশিষ্ট ব্যাংক ব্যতীত, কোন ব্যাংক-কোমপানীর মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস্ উহার সম্পাদিত কোন চুক্তি, বা উহার সাধারণ সভায় বা পরিচালনা পর্ষদের সভায় গৃহীত কোন প্রস্তাবে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এবং উহা
এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে বা পরে, ক্ষেত্রমত, রেজিস্ট্রিকৃত বা সম্পাদিত বা গৃহীত হউক বা হইয়া থাকুক না কেন এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর হইবে, এবং

(খ) উক্ত মেমোরেন্ডাম, আর্টিকেলস, চুক্তি বা প্রস্তাবের কোন বিধানের যতটুকু এই আইনের সহিত অসামঞ্জস্য থাকিবে উত্ত বিধানের ততটুকু অবৈধ হইবে।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন