“রহিম ষ্টিল কেস” [ কেস নং-৪৭ ]

“রহিম ষ্টিল কেস” [ কেস নং-৪৭ ]

“রহিম ষ্টিল কেস” [ কেস নং-৪৭ ]

রহিম ষ্টিল কেস

রহিম সিকদার পুরোনো ঢাকার আশির দশকের একজন কাগজ ব্যবসায়ী। তেমন কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি সরকারী ডিলারশিপ এর সুবাদে অল্প দিনেই বেশ নগদ অর্থের মালিক হন। বাল্যকাল হতেই শিল্প প্রতিষ্ঠার একটি সুপ্ত বাসনা তার মনে ছিল।

তাই তিনি উক্ত অর্থ দিয়ে একটি রোলিং মিল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলেন এবং গাজীপুরে ১০ বিঘা জমি কিনলেন। এই পর্যায়ে তিনি একজন পরিচিত চলচিচত্র তারকাকে (জনাব সোহেলকে) তার ব্যবসায় অংশীদার হিসেবে নেন। চলতি মূলধনের নামে দেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করলেন। কাকের সশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে সশরীরে তার প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং ব্যাংকের সকল নিরাপত্তা সংরক্ষণ করে তাকে ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ হিসেবে মঞ্জুর করেন।

উৎপাদন শুরুর পর তিনি খুব দ্রুত উক্ত পণ্যের বাজার ধরে ফেলেন এবং আরও নগদ অর্থের মালিক হন। কিন্তু ব্যাপক ব্যবসায়ীক জ্ঞান না থাকায় তিনি তার প্রতিষ্ঠানে উন্নত হিসাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন এবং উপার্জিত অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ না করে অপব্যবহার করেন। উপরন্ত্র তার ব্যবসায়ীক অংশীদারও তাকে ব্যবহার করে অর্থের অপব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। এমতবস্থায় ব্যাংক তাকে অর্থের সঠিক ব্যবহারের উপদেশ দেয় এবং কিস্তিতে গৃহীত ঋণের অর্থ পরিশোধের অনুরোধ জানায়। কিন্তু তিনি ব্যাংকের উপদেশ না শুনে বরং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটান।

রহিম ষ্টিল কেস

এদিকে ব্যবসার সুবিধার্থে তিনি ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য বাবদ অগ্রীম অর্থ গ্রহন করেন এবং কাঁচামাল সরবরাহ না পাওয়ায় তিনি ক্রেতাদের পণ্যের যোগান দিতে ব্যর্থ হন এবং ব্যাপক ভাবে অর্থ সংকটে পড়ে ঋণের লক্ষ্যে ব্যাংকের শরনাপন্ন হন, কিন্তু ইতমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাও অন্যত্র বদলী হয়ে যায় এবং ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রতি তার পূর্ব আচরনের জন্য ব্যাংকও তাকে নতুন ঋণ প্রদান এবং পূর্বে গৃহীত ঋণ পরিশোধের সময় বাড়াতেও অসম্মতি জানায়, তখন উক্ত ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে তার প্রায় দেড় কোটি মূল্যমানের প্রকল্প মাত্র ৩০ লক্ষ টাকায় বিক্রী করেন।

একজন ব্যাকিং বিভাগের ছাত্র / ব্যাংকের একজন এক্সিকিউটিভ হিসেবে উপরোক্ত কেসটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন কর এবং উক্তব্যবসায়ীর ভুল পদক্ষেপ গুলো নির্ণয় করে আলোচনা কর।

“টাওয়েল ফ্যাক্টরী কেস” [ কেস নং-৪৮ ]

নিঃ ওয়ালিউল্লাহ একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। সেইসাথে তিনি একজন প্রথমসারির শিল্পোদ্যক্তা। সরকারের এবং ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উপর তার ব্যপক প্রভাব বিদ্যমান। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত সন্ধানী ব্যাংক হতে একটি টাওয়লে ফ্যাক্টরী স্থাপনের লক্ষ্যে ১ কোটি টাকার লোনের আবেদন জানান। প্রকল্পটি স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমিকভাবে Debt e Equity-র অনুপাত ছিল ৭০: ৩০। কিন্তু উল্লেখিত বাকে Dete Equity-র পরিমাণ ৬০ ৪০ করার অনুরোধ জানায়।

রহিম ষ্টিল কেস

 

জনাব তালিউল্লাহ তার রাজনৈতিক প্রভাব ঘাঁটিয়ে ব্যাংককে বাধ্য করেন Debt ত Equity- অনুপাত 1000 রেখেই প্রকল্পটির জন্য ঋণ মঞ্জুর করতে। ইতমধ্যে তিনি সরকারের একজন মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার তার প্রভাব প্রতিপত্তি আরও বেড়ে যায়। ব্যবসায়ের প্রতি তিনি লক্ষ্য আতার মত রাখলেন না এবং ব্যাংকের অনেক অনুরোধে গু তিনি পুনঃ পরিশোধ সারণী তৈরি করেন নি। তিনি তখন প্রথম ব্যাংকের থেকে ঋণ পেতে অপারগ হওয়ায় আরেকটি রাষ্ট্রায়ত ব্যাংকের থেকে ঋণ মঞ্জুর করান।

এমনকি প্রকল্পটির Debe ও Equity-র অনুপাত প্রথমে ৮০ ২০ ও পরে ৯০:১০ এবং সর্বশেষ ৯৫ ৫-এ উপনিত হয়। প্রথমাবস্থার কোম্পানীটি যথেষ্ট লাভজনক হলেও ক্রমান্বয়ে পরিচালনা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে একটি রত্ন শিল্পে রূপান্তরিত হয়। ব্যাংকিং বিভাগের একজন ছাত্র। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনে করে কেসটি বিশ্লেষণ পূর্বক তোমার করনীয় নির্দেশ কর।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন