মাধ্যমিক রিজার্ভ নির্ধারক সমূহ [ Factors Determining Secondary Reserve ]

মাধ্যমিক রিজার্ভ নির্ধারক সমূহ: মাধ্যমিক রিজার্ভ নির্ধারক বিষয় সমূহ মূলত দু’ধরনের হতে পারে। যথা : (ক) আভ্যন্তরীণ নির্ধারক : (খ) বহি: নির্ধারক সমূহ।

মাধ্যমিক রিজার্ভ নির্ধারক সমূহ [ Factors Determining Secondary Reserve ]

মাধ্যমিক রিজার্ভ নির্ধারক সমূহ [ Factors Determining Secondary Reserve ]

 

নিম্নে চিত্রে এরূপ নির্ধারক বিষয় সমূহ দেখা যেতে পারে :

মাধ্যমিক রিজার্ভের নির্ধারক বিষয় সমূহ

ক.আভ্যন্তরীণ নির্ধারক বিষয় সমূহ

১. আমানত কাঠামো
২. আমানত হিসাবের মালিকানা
৩. আমানত হিসাবের আকার
৪. ব্যাংক ঋণের ধরণ
৫. বিনিয়োগের মেয়াদ ও মিশ্রণ
৬. মুদ্রা বাজারের কার্যক্রম

খ.বহিঃনির্ধারক বিষয় সমূহ

  • জাতীয় নির্ধারক বিষয় সমূহ
  • আঞ্চলিক বিষয় সমূহ

জাতীয় নির্ধারক বিষয় সমূহ

১. জাতীয় ব্যবসায় বাণিজ্য
২. রাজনৈতিক অবস্থা
৩. মুদ্রা নীতি
৪. কর নীতি

আঞ্চলিক বিষয় সমূহ

১. স্থানীয় লোকের স্থানান্তর
২. স্থানীয় লোকের বৈশিষ্ট্য
৩. স্থানীয় অর্থনৈতিক অবস্থা

মাধ্যমিক রিজার্ভ নির্ধারক সমূহ [ Factors Determining Secondary Reserve ]

আভ্যন্তরীণ নির্ধারক সমূহ – Internal Factors :

নিম্নে মাধ্যমিক রিজার্ভের পরিমাণ নির্ধারণে অভ্যন্তর আলোচিত ব্যাংক নির্ধারক সমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা গেলঃ

১. আমানতের কাঠামো : Structure of Deposit :

আমানত মেয়াদী, চলতি ও সঞ্চয়ী হয়ে থাকে । Ex আমানতে তথা সঞ্চয়ী আমানতে চলতি আমানতের অংশ যত বেশী হবে মাধ্যমিক রিজার্ভের পরি ততবেশী প্রয়োজন। মেয়াদী আমানতের জন্য সাধারণতঃ মেয়াদপূর্ণ হওয়ার পূর্বে নগদানের চাহিদা কা থাকে তথা মাধ্যমিক রিজার্ভের চাহিদা নেই বললেই চলে। তবুও অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় হয়। উত্তোলনের জন্য ব্যাংককে তৈরী থাকতে হয়। আর সেজন্য ইতপূর্বে এরূপ বড় পরিমাণ উত্তোলনের গতিক, লক্ষ্য করে মাধ্যমিক রিজার্ভ রাখতে হয়।

২. আমানত হিসাবের মালিকানা Ownership of Deposits :

আমানতকারীদের মধ্যে যদি ব্যক্তিগ হিসাবের সংখ্যা বেশী হয় এবং সঞ্চয়ী হিসাব খুলে থাকে তবে মাধ্যমিক রিজার্ভের পরিমাণ কম হলে চলবে। অন্যদিকে আমানতকারীদের হিসাবসমূহ যদি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের তথা সরকারী, বেসরকারী বা ব্যবসায় হয়ে থাকে তবে অধিকতর বড় অংকের অর্থের চাহিদা মিটানোর প্রয়োজন হয়। সে জন্য মাধানির রিজার্ভ সংরক্ষণের প্রয়োজন বেশী হয়।

৩. আমানতী হিসাবের আকার – Size of the Deposit Account :

আমানতকারীর সংখ্যা অধিকা কিন্তু ছোট ছোট আকারের হলেও মাধ্যমিক রিজার্ভের পরিমাণ কম হলেই চলে।

৪. ব্যাংক ঋণের ধরণ – Nature of Bank Loans :

ব্যাংক বরাদ্দকৃত ঋণের কিস্তি প্রদানের জন্য অনেক সময় অর্থের প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা মেটানোর জন্য ব্যাংককে মাধ্যমিক রিজার্ডে টাকা জমা রাখতে হয়। ঋণের পরিমাণ বেশী হলে মাধ্যমিক রিজার্ভের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

৫. বিনিয়োগের মেয়াদ ও মিশ্রণ Maturities and Diversification of investment Portfolios:

ব্যাংক আয় বৃদ্ধি কল্পে দীর্ঘমেয়াদী ঋণপত্র মিশ্রণের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে থাকে। এরূপ বিনিয়োগের মেয়াদ যত দীর্ঘতর হবে এবং বিনিয়োগ মিশ্রণ যত কাংখিত ধরে রাখার মত হবে, তত বেশী পরিমাণের মাধ্যমিক রিজার্ভ প্রয়োজন হবে।

৬. মুদ্রা বাজারে কার্যক্রম Access to Money Market :

যে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ মুদ্রা বাজারে লেনদেন অধিক করে থাকে তাদের অপেক্ষাকৃত বেশী সুনাম লক্ষ্য করা যায়। সে সহজেই মুদ্রা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় টাকা উত্তোলন করতে পারে এতে করে তাদের মাধ্যমিক রিজার্ভের পরিমাণ কম হলেও চলে।

মাধ্যমিক রিজার্ভ নির্ধারক সমূহ [ Factors Determining Secondary Reserve ]

বহিঃ নির্ধারকসমূহ -Externnal Factors :

মাধ্যমিক রিজার্ভের নির্ধারক হিসেবে বহিঃনির্ধারক সমূহ দু’ভাবে হয়ে থাকে। যথা (ক) আঞ্চলিক বিবেচ্য বিষয়সমূহ (খ) জাতীয় বিবেচ্য বিষয়সমূহ। পর্যায়ক্রমে এ দুটি বিষয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা দেখা যেতে পারে।

(ক) আঞ্চলিক নির্ধারণ বিষয় সমূহ : Local Factors

১. স্থানীয় লোকের স্থানান্তর-Movement of the Local Population

ব্যবসায়ীক তথা অন্য কোন কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বড় বড় আমানতকারীগণ স্থানান্তর হতে পারে। যে জায়গা থেকে এই আমানতকারীগণ অর্থ স্থানান্তর করেন সে জায়গায় ব্যাংকের মঞ্চেলের মগদান চাহিদার পরিমাণ কম হয়। এবং এ কারণে মাধ্যমিক রিজার্ভের স্থানান্তর করার পূর্বস্তরের মাধ্যমিক রিজার্ভত কম পরিমাণের হয়। অপর পক্ষে যে এলাকায় এরূপ আমানতকারী স্থানান্তরিত হয় সেখানে আমানত তথা নগদ চাহিদা বাড়ার কারণে মাধ্যমিক রিজার্ভ বেশী হয়।

কোন অঞ্চলে ব্যবসায় বাণিজ্যের অবস্থা মন্দা দেখা দিলে উক্ত স্থানের বড় আমানতকারীগণ যে এলাকার তুলনামূলক ভালো ব্যবসায়িক স্থানে স্থানান্তরিত হতে লক্ষ্য করা যায়। আলোচিত ব্যাংকটি যদি মন্দাবস্থা বিরাজমান এলাকায় অবস্থান করে তবে মাধ্যমিক রিজার্ভ সংরক্ষণের বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে। আবার যে অঞ্চলে ব্যবসায়িক অবস্থা ভালো সেখানে কম মাধ্যমিক রিজার্ভ রাখলেই চলবে কারণ সেখানে স্থানান্তরিত হয়ে আমানতকারীর চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

২ স্থানীয় লোকের বৈশিষ্ট্য: Character of the Local People :

স্থানীয় লোকের মধ্যে যদি ব্যবসায়িক লোক কম থাকে, ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ কম হয় তাহলে মাধ্যমিক রিজার্ভ কম রাখলেও চলবে। অপরপক্ষে যে সমস্ত এলাকার লোকজন অধিকতর ব্যবসায়ীক তথা বেশী বেশী ব্যাংক লেনদেন করে টাকা উত্তোলন করে তাহলে মাধ্যমিক রিজার্ভের পরিমাণ অধিক রাখতে হবে।

৩. স্থানীয় অর্থনৈতিক অবস্থা: Character of the Local Economy :

স্থানীয় ব্যবসায় বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক অবস্থা যদি অধিকতর উন্নত হয় তাহলে উক্ত এলাকায় ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে মাধ্যমিক রিজার্ভেরও প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করা যায়।

(খ) জাতীয় নির্ধারক বিষয় সমূহ: National Factors

নিম্নে আলোচিত বিষয়গুলি থেকে জাতীয়ভাবে মাধ্যমিক রিজার্ভের প্রয়োজনীয়তার লক্ষ্য করা যায়।

মাধ্যমিক রিজার্ভ নির্ধারক সমূহ [ Factors Determining Secondary Reserve ]

১. জাতীয় ব্যবসায় বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক অবস্থা: National Economic Condition

দেশে যখন অর্থনৈতিক অবস্থা তথ্য ব্যবসায় বাণিজ্যের অবস্থা অধিকতর উন্নততর লক্ষ্য করা যায় সে সময় ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণও খুব বেশী পরিমাণে হয়ে থাকে। উক্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভারল মিটানোর জন্য ব্যাংককে অধিকতর পরিমাণে মাধ্যমিক রিজার্ভ সংরক্ষণ করতে হয়।

২. রাজনৈতিক অবস্থা-Political Condition :

যে দেশে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা বিদ্যমান সে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আভ্যন্তরীণ ও বহিঃবাণিজ্যের জন্য প্রভূত সহায়ক হয়ে থাকে। যে দেশে সরকারী ও বিরোধী দল রাজনৈতিক ওয়াদা পূরণে সচেষ্ট সে দেশে লেনদেনের পরিমাণ তথা আর্থিক অবস্থার উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। এমতাবস্থায় দেশে ব্যবসায়-বাণিজ্যে সনই সনই উন্নতি লাভ করে। ব্যাংক আমানতের পরিমাণ ও ঋণ চাহিদা বৃদ্ধি পায়। উক্ত মাধ্যমিক রিজার্ভ যথেষ্ট পরিমাণ না রাখলে ব্যাংক বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে।

৩. মুদ্রানীতি -Monetary Policy :

মুদ্রানীতির মাধ্যমে সরকার যদি মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করে তাহলে অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে তথা আমানত বৃদ্ধি পাবে। মাধ্যমিক রিজার্ভের পরিমাণ কম হলেও চলবে। মুদ্রানীতির সংগে সংশ্লিষ্ট সুদের হার কমালে জনগণ অধিকতর আমানত উত্তোলন করবে ফলে মাধ্যমিক রিজার্ভ অধিক সংরক্ষণ করতে হবে।

৪. কর নীতি-Taxation Policy :

রাজস্ব নীতির মাধ্যমে ব্যবসায় বাণিজ্য উৎসাহিত করার লক্ষ্যে করের হার কমালে আমদানী রপ্তানী বেড়ে যায়। এছাড়াও আভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে নতুন উদ্যোগের গতি লাভ করে এমতাবস্থায় ব্যাংক ঋণের চাহিদা ব্যাপক হলে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বিনিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। এরূপ অবস্থায় মাধ্যমিক রিজার্ভের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত বেশী না হলে ব্যাংককে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। করের ঊর্ধ্বহার বিপরীত অবস্থার অবতারণা করে।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন