“শফিউল্লাহ কেস” [ কেস নং-৪৯ ]

“শফিউল্লাহ কেস” [ কেস নং-৪৯ ]

“শফিউল্লাহ কেস” [ কেস নং-৪৯ ]

শফিউল্লাহ কেস

জনাব শফিউল্লাহ একজন ব্যবসায়ী তার প্রধান ব্যবসা ছিল চালের। উক্ত ব্যবসায় তিনি প্রচুর নগদ অর্থ উপার্জন করেন এবং ব্যবসায় সম্প্রসারন ঘটানোর উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে দুধ আমদানীর সিদ্ধান্ত নেন উদ্দেশ্যে তিনি দেশের একটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য আবেদন জানান।

উক্ত ব্যাংক Murabaha Post Import (MPI) এর আওতায় শরীয়া আইন অনুসারে এক বছরে জন্য বিনিয়োগ করতে সম্মতি প্রকাশ করে। এর পরিবর্তে জনাব শফিউল্লাহ মাত্র ১৭ লাখ টাকা মূল্যমানের বাড়ী সহ একটি জি ব্যাংকের কাছে আমানত হিসেবে রাখে। যথা সময়ের পন্য আমদানী হওয়ার পর দেখা যায় যে আমদানীকৃত দুধ স্বাস্থ্যসম্মত নয় কারন তা মেয়াদ উত্তীর্ন ছিল। তাই পুলিশ সেই পন্য সাঁজ করে নেয়।

যার ফলে আমদানীকারক যথাসময়ে পন্য বাজারজাত করতে ব্যর্থ হয় এবং বিনিয়োগকৃত অর্থ আটকা পড়ে যায়। যদিও আমদানীকৃত পণ্যের বিপরীতে তিনি কিছু পরিমান টাকা জমা রেখেছিলেন যা ছিল খুবই সামান্য। আর তাই বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরৎ পাবার আশায় ব্যাংক আদালতের শরনাপন্ন হয়। এবং আদালতের রায় ব্যাংকের পক্ষে যাবার সম্ভাবনাই বেশী দেখা যায়।

কিন্তু ইতমধ্যে আমদানীকারক ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং আদালতের বাইরে বিষয়টি মিমাংস করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় ব্যাংকের কি করনীয় ব্যাংকিং বিষয়ের ছাত্র/ব্যাংকের একজন নবীন এক্সিকিউটিভ হিসেবে তোমার মতামত দাও এবং প্রদর্শিত মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও।

“মেসার্স সুফিয়া জাহান ট্রেডার্স কেস” [ কেস নং-৫০ ]

শফিউল্লাহ কেস

চট্টগ্রামের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী জনাব জিয়াউদ্দিন জিয়া মেসার্স সুফিয়া জাহান ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী। সে বিদেশ থেকে লবন, সার, চাল পিগ আয়রন, দুধ, পাউডার, কৃষি সরঞ্জামাদী আমদানী করে দেশে তা বিক্রি করত। বাজারে তার দ্রব্যের চাহিদা ছিল অসামান্য এবং তার সাথে ব্যাংকের লেনদেন সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত ভাল। সে বিদেশ থেকে টি.এস.পি ও ডি. এম. পি সার আমদানী করার জন্য চট্টগ্রামের আলমদীনা ইসলামী ব্যাংকে ২২-০৫-৯৪ তারিখে ঋণের জন্য আবেদন করে।

ব্যাংক মিঃ জিয়ার আর্থিক সাফল ৩ জামানতের ব্যাপারে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তদারকি করে এবং ২৮-০৯-৯৪ তারিখে বিদেশ থেকে টি.এস.পি.ও.ডি. এম. পি. সার আমান করার জন্য ১০ কোটি টাকা ও ৫.০৮ কোটি টাকা ঋণ ).. আই এর আওতায় মঞ্জুর করে। কিন্তু এদিকে দেশীয় উৎপাদিত সারের উপর থেকে শুদ্ধ জীয়ে নেওয়ায়, বিদেশ থেকে আমদানীকৃত অপেক্ষাকৃত বেশী মূলের সার বিক্রি করতে জিয়ার বেগ পেতে হয় তখন জিয়া এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকের নিকট ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করে।

ব্যাংক তখন জিয়ার ঋণ লেনসেনের অতীত গতি ধারা, ব্যবসায়িক সাফল্য ও জামানতের উপর ভিত্তি করে ২২-০৯-৯৮ তারিখে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঋণকে বর্ণিত করে ০১-০৯-২০০১ তারিখ নির্ধারন করে। মি: জিয়া তখন আস্তে আস্তে তার ক্ষণ ব্যাংকের সাথে সমন্বয় করতে থাকে। এদিকে মি: জিয়ার আরেকটি অংগ প্রতিষ্ঠান “মেসার্স রাইসা ব্রাদার্স বিদেশ থেকে খুচরা যন্ত্রপাতি ও ভোজ্য তেল আমদানী করার জন্য ব্যাংকের নিকট ২১-০৩-৯৯ তারিখে আবেদন করে।

শফিউল্লাহ কেস

ব্যাংক তখন ২২-০৪-১৯ তারিখে ১.৫ কোটি টাকার জামানতের বিপরীতে মনি কোম্পানীকে এম.পি. আই (মুরাবাহা পোস্টইমপোর্ট) এর আওতায় ৭০ লক্ষ টাকা গ্রুপ দেয় (Loan to Value Ratio মাত্র ৪৮%)। যার মেয়াদ পূর্তির তারিখ হলো ১৩-০২-২০০৭। এমতাবস্থায় মেসার্স রাইসা ব্রাদার্স বিদেশ থেকে কমমূল্যে ভোজ্য তেল আমদানী করে এদেশে প্রচুর মুনাফা করে। এবং সময়মত ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হয়।

এভাবে মেসার্স সুফিয়া জাহান ট্রেডার্স সহ জিয়ার অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমূহ ব্যাংকের একটি ভাল মঞ্চেলে পরিগনিত হয়। ব্যাংকিং বিষয়ের একজন ছাত্র /ব্যাংকের প্রশিক্ষনাধীন একজন নবীন এক্সিকিউটিভ হিসেবে জনাব জিয়াউদ্দিন জিয়া ও তার প্রতিষ্ঠা সমূহকে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলো কেন সন্মানীত ঋণ গ্রহীতার (Prime Customer] মর্যাদা দিয়ে থাকে তা বিশ্লেষন কর।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন