“হালদার রহিম টেক্সটাইল কেস” [ কেস নম্বর -১৯ ]

“হালদার রহিম টেক্সটাইল কেস” [ কেস নম্বর -১৯ ]

“হালদার রহিম টেক্সটাইল কেস” [ কেস নম্বর -১৯ ]

“হালদার রহিম টেক্সটাইল কেস

 

জনাব হালদার রহিম ছিলেন মিউনিসিপাল করপোরেশনের সামান্য একজন কোরানী। কর্মরত থাকা অবস্থায় তার সাথে অনেক নামকর কনট্রাক্টর ও ব্যবসায়ীর পরিচয় ঘটে। রহিম সাহেব সময়ে সময়ে অনেক ব্যবসায়ীকে অনেক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেন। যেমন কারো work order, কারো Inspection certificate আবার কারো বিল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা ইত্যাদি ফলশ্রুতিতে ঐ সকল ব্যবসায়ীরাও তাকে বেশ মোটা অংকের বিনিয়োগজনিত তহবিল গঠনে বেশ সহায়তা করে।

এরপর তিনি সেই অর্থ ও সুসম্পর্কে করে একজন কন্ট্রাকটরের ব্যবসায়ীক অংশীদার হন এবং দুই বছর তার সাথে ব্যবসা করেন। এরই মধ্যে প্রাইভেট বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা তাকে ব্যাংকের আংশিক ঋণ সুবিধা গ্রহন করে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ফ্যাক্টরী স্থাপনের পরামর্শ দেন।

এছাড়াও ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে বেশ কিছু বড় পাইকারী ক্রেতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। রহিম সাহেব তার পূর্বের কট্রোকশন ব্যবসা পরিহার করেন এবং নতুন নিয়োজিত ব্যবসায় বেশ সাফল্য অর্জন করেন। ইতোমধ্যে বাসের সহযাত্রী হিসেবে শিল্প ব্যাংকের কর্মকর্তা জনাব শিশুরসাথে রহিম সাহেবের পরিচয় ঘটে। শিশু সাহেব তাকে দেশের উঠতি টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস সারাবিশ্ব সম্পর্কে অবহিত করেন।

“হালদার রহিম টেক্সটাইল কেস

তিনি একই সাথে রহিম সাহেবকে শিল্প ব্যাংকের উনার বৈদেশিক ঋণ সুবিধা সম্পর্কে জানান। চাকরী ছাড়িবার প্রায় ১২ বছর পর আশির দশকের মাঝামাঝি রহিম সাহেব একটি টেক্সটাইল প্রকল্প হাতে নেন এবং শিল্প ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন জানান। তিনি প্রকল্পটিতে অর্থ যোগানোর লক্ষ্যে নিজের ব্যবসার পুরোটিই বিক্রী করে দেন। যা আর্থিক মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা।

তিনি তার ফ্যাক্টরী স্থাপনের জন্য জায়গা খুঁজছিলেন এবং এর প্রেক্ষিতে তিনি তিনটি প্রস্তাব পান যার একটি ছিল চরীতে ২০ লক্ষ টাকা একটি জয়দেবপুরে ১৫ লক্ষ টাকার এবং অন্যটি রাণীহাটে তুলনামূলক ভাবে সম্ভা। কিন্তু ঢাকা থেকে কিছুটা পুরে প্রায় চল্লিশ মাইল। তিনি সাে সাত লক্ষ টাকায় জমিটি কিনলেন এবং পূর্বের এই বিষয়ে কোন প্রকার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি তার প্রকল্প পুনর্গঠন করে যার মূল্যমান দাঁড়ায় পূর্বের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং আবেদনকৃত ঋণের পরিমাণ পাড়ায় আড়াই কোটি টাকায়।

ছয় মাস পর যখন প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় তখন এক ব্যক্তি হালদার রহিম সাহেবের কাছে আসেন এবং নিজেকে উষ্ণ একজন ব্যাংকের উচচপদস্থ কর্মকর্তার ভাই বি পরিচয় দেন। তিনি রহিম সাহেবকে প্রস্তাব দেন যে যদি তিনি তাকে কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদান করেন তাহলে তিনি তাকে খুবই দ্রুত পা পেতে সহায়তা করবেন। প্রথমে রহিম সাহেব উক্ত প্রস্তাবে রাজী না হলেও উরু বকি পরবর্তীতে তাকে দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থাৎ প্রায় চার কোটি টাকা উক্ত প্রকল্পের জন্য ঋণ পেতে সহায়তা করবেন, এই প্রস্তাবে রহিম সাহেব রাজী হলেন। যদিও এর ফলে তার গুণের সুদের হার পূর্বের চেয়ে বেশী হবে।

“হালদার রহিম টেক্সটাইল কেস

যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হলো এবং প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম শুরু করল। কিন্তু ক্ষণের বিপরীতে উচচ হারে সুদ প্রধান তার নীট মুনাফা করবার সুযোগ হ্রাস করে দেয় এবং এই ধারা ক্রমান্বয়ে কয়েক বছর চলতে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি একটি অলাভজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি ক্ষণখেলাপী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

যদিও হালদার রহিম সাহেব তার রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রভাব খাটিয়ে কর্তৃপক্ষের গৃহীত আইনানুগ ব্যবস্থার হাত হতে নিষ্কৃতি পান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি একটি রত্ন শিল্প হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ঋণের দায়ে দায়বদ্ধ থেকে যায়। একজন ব্যবসায় উদ্যোগের ছাত্র হিসেবে উপরে উল্লেখিত কেসটি বিশ্লেষণ করুন এবং রহিম সাহেবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের উপদেশ দিন।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন