ব্যাংক কর্মকান্ডের সাফল্য মূল্যায়ন: অন্য যে কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মত ব্যাংকও লাভ লোকসানের ভিত্তিতেই মূল্যায়িত হয়ে থাকে। অর্থা যে ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারগণ যতবেশী লভ্যাংশ লাভ করে সে বাংক তত বেশী সফল বলে পরিগণিত হয়। ব্যাংক ব্যবসায় কয়েক ধরণের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে থাকে। যে ব্যাংক এরূপ ঝুঁকি গুলো যত বেশী নিয়ন্ত্রন করতে পারে সে ব্যাংকের বর্তমান মুনাফা অর্জন তত বেশী হওয়া সম্ভব। অপরপক্ষে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রনের দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাবে ব্যাংকের ভবিষ্যত লাভজনকতা (Profitability) বৃদ্ধি পেতে পারে।
ব্যাংক কর্মকান্ডের সাফল্য মূল্যায়ন [ Perfomance Evaluation of Bank ]
যে ঝুঁকি সমূহ নিয়ন্ত্রন করে এরূপ সাফল্য অর্জন সম্ভব তা হলোঃ
১। ঋণ ঝুঁকি
২। তারল্য ঝুঁকি
৩। সুদের হার ঝুঁকি
৪। পুঁজি ঝুঁকি
৫। কার্যকরী ঝুঁকি
নিম্নে উপরোল্লেখিত ঝুঁকি পরিমাপক সূত্র দেয়া হল যাতে ব্যাংকের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ ঝুঁকির অবস্থ জেনে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের জন্য কখন কিয়াপ পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ তা নিরাপন করতে পারেন।
১। ঋণ ঝুঁকি [ Credit Risk ]
নীট ক্ষণ ক্ষতি মোট ঋণের অনুপাত, ঋণ ক্ষতি রিজার্ভ ও মোট ক্ষতির অনুপাত মোট ঋণ ক্ষতির প্রভিশন ও মোট ঋণের অনুপাত, খেলাপী ঋণ ও মোট ঋণের অনুপাত ও বার্ষিক ঋণ বৃদ্ধির হার।
২। তারল্য ঝুঁকি [ Liquidity Risk ]
(ক) মোট পেয়ার হোল্ডারদের পুঁজিও মোট সম্পত্তির অনুপাত।
(খ) মূল আমানত (Core Deposit) ও মোট সম্পত্তির অনুপাত
(গ) ক্রয় করা যায় সমূহ ও মোট সম্পত্তির অনুপাত।
(ঘ) এক বছরের কম বা বেশী মেয়াদের ঋণপত্র ও মোট সম্পত্তির অনুপাত।
(ঙ) ঋণ পত্রের বাজার মূল্য ও লিখিত মূল্যের অনুপাত।
৩। সুদের হার ঝুঁকি [ Interest Rate Risk ]
(ক) দায় বাবদ সম্পত্তি ও উপার্জনক্ষম সম্পত্তির অনুপাত।
(খ) তিন মাসের পূর্ণ মূল্যায়িত ও এক বছরের মধ্যে পূর্ণমূল্যায়িত।
৪। পুঁজি ঝুঁকি [ Capital Risk ]
(ক) মোট শেয়ার হোল্ডারদের ঝুঁকি ও মোট সম্পত্তির অনুপাত।
(খ) প্রাথমিক পুঁজি মোট সম্পত্তির অনুপাত।
(গ) নগদ লভ্যাংশ ও মোট আয়ের অনুপাত।
৫। কার্যকরী ঝুঁকি [ Operating Risk ]
(ক) কর্মচারী প্রতি মোট সম্পত্তি।
(খ) কর্মচারী প্রতি বেতন ও ভাতা।
(গ) বাড়ীভাড়া ও আসবাবপত্রে সুদ বহির্ভুত খরচের অংশের পরিমাণ।
একটি সফল ব্যাংকের নির্দেশক [ Indicators of a Successful Bank ]
সাধারণতঃ মকেল তথা দেশের স্বার্থে নির্ভরযোগ্য সফল ব্যাংক চিহ্নিত করা আবশ্যক। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ও ঋণ ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম এবং লাভের অবস্থা অপেক্ষাকৃত বেশি সে ব্যাংকগুলোকে সকল ব্যাংক বলে চিহ্নিত করা যায়। পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে অনুপাত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এরূপ একটি অনুশীলন করা হয়ে থাকে। এ ধরণের অনুশীলন সমান্তরাল অথবা উলম্ব হতে পারে।
অর্থাৎ একটি ব্যাংকের পূর্ববর্তী বছর সমূহের সংগে বর্তমান বছরের পরিমাণ তথ্যভিত্তিক পরিমাপ অথবা কয়েকটি ব্যাংকের বর্তমান বছরের পরিমান তথ্যভিত্তিক পরিমাপক ব্যবহার করা যেতে পারে। আর্থিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে এরূপ মূল্যায়ন সীমাবদ্ধতামুক্ত নহে, কারণ অনেক আবশ্যকীয় গুণগত পর্যালোচনা এতে স্থান পায় না।
অতএব, নির্ভরযোগ্য অনুশীলন করতে হলে আর্থিক তথ্য ভিত্তিক অনুশীলনে অবশ্যই ব্যবস্থাপনা, দেশের বা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও আরো অনেক গুণগত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। যাহোক আর্থিক পরিমানগত তথ্যের বিশ্লেষনের ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত সফল ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংক চিহ্নিত করার পরিমাপক নিম্নে দেয়া হলো :
| সকল ব্যাংক নির্দেশক উচ্চতর অনুপাত Higher ratios indicating Successful Bank | সফল ব্যাংক নির্দেশক নিম্নতর অনুপাত Lower Ratios indicatingSuccessful Bank |
| ক) সুদলব্ধ আয় ও মোট সম্পত্তি অনুপাত । | ক) ঋণ ও মোট সম্পত্তির অনুপাত। |
| খ) ঋণপত্রে ব্যবহৃত তহবিল ও মোট সম্পত্তির অনুপাত। | খ) সুদ খরচ ও মোট সম্পত্তির অনুপাত। |
| গ) মুনাফা অর্জনকারী সম্পদ ও মোট সম্পত্তির অনুপাত। | (গ) সুদ ব্যয় ও সুদধারী দায়। |
| ঘ) চলতি আমানত ও মোট দায়ের অনুপাত। | ঘ) সুদ বহির্ভূত খরচ ও মোট সম্পত্তির অনুপাত। |
| ঙ) ব্যাংকের পুঁজি ও মোট সম্পত্তির অনুপাত। | ঙ) ঋণ ক্ষতি প্রভিশন ও মোট সম্পত্তির অনুপাত। |
| চ) কর্মচারী কর্মকর্তা প্রতি সম্পত্তি। | চ) ঋণ ক্ষতি ও মোট ঋণ অনুপাত। |
| ছ) কর্মকর্তা কর্মচারী প্রতি গড় বেতনভাতা। | ছ) স্থবির ঋণ ও মোট ঋণের অনুপাত। |
আরও পড়ুনঃ